ওয়াইফাই রাউটারের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করার সবচেয়ে সহজ নিয়ম
ওয়াইফাই রাউটারের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করার নিয়ম
ওয়াইফাই রাউটারের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করার সবচেয়ে সহজ নিয়ম সম্পর্কে জানতে
চান তাহলে সঠিক জায়গাই এসেছেন। এখানে আমি আপনাদেরকে এমন কিছু টিপস সম্পর্কে
জানাবো যার মাধ্যমে সহজে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করতে পারবেন।
এছাড়া এখানে আরও জানতে পারবেন, আধুনিক রাউটারগুলোর আইপি অ্যাড্রেস এবং সেটআপ
গেটওয়ে ব্যবহার করে কীভাবে খুব সহজে এবং নিরাপদে পাসওয়ার্ড বদলে নেওয়া যায়, তার
একটি সহজ নির্দেশিকা এখানে আলোচনা করবো।
পেজ সূচিপত্রঃ ওয়াইফাই রাউটারের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করার সবচেয়ে সহজ নিয়ম
- ওয়াইফাই রাউটারের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করার সবচেয়ে সহজ নিয়ম
- রাউটার পাসওয়ার্ডের প্রয়োজনীয়তা
- ভালো মানের রাউটার চেনার উপায়
- শক্তিশালী পাসওয়ার্ড দেওয়ার সুবিধা
- রাউটারের অ্যানটিনার প্রকারভেদ
- বর্তমানে কোন রাউটার উন্নতমানের
- ওয়াইফাই রাউটার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাবধানতা
- ২ অ্যানটিনা ও ৪ অ্যানটিনার পার্থক্য
- নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের গুরুত্ব
- শেষ মন্তব্য
ওয়াইফাই রাউটারের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করার সবচেয়ে সহজ নিয়ম
ওয়াইফাই রাউটারের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করার সবচেয়ে সহজ নিয়ম হলো প্রথমে আপনার
মোবাইল বা কম্পিউটারটি রাউটারের ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করে নেওয়া।
আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলবো রাউটার যেকোনো একটি ইন্টারনেট ব্রাউজার যেমন গুগল
ক্রোম বা মজিলা ফায়ারফক্স ওপেন করে অ্যাড্রেস বারে রাউটারের ডিফল্ট গেটওয়ে
আইপি অ্যাড্রেসটি টাইপ করতে হবে। যা অনেকটা 192.168.0.1 বা 192.168.1.1 হয়ে
থাকে। নিচে আমরা এ সকল পদ্ধতি সম্পর্কে জানব।
শুরুতে আমাদেরকে মোবাইল ডিভাইস এর ক্রোম ব্রাউজারে প্রবেশ করতে হবে। তারপর সেখানে সার্চ বারে যেয়ে ছবিতে মার্ক করা কোডটি টাইপ করতে হবে। টাইপ করলে সরাসরি তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মধ্যে ঢুকে যাবে।
তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট হলো Tenda। এখানে প্রবেশ করার পরে আপনি দেখতে পারবেন নিচে লগইন পাসওয়ার্ড নামে একটা ফাঁকা ঘর থাকবে যেখানে আপনাকে আপনার ওয়াইফাই এর পাসওয়ার্ডটা দিতে হবে। পাসওয়ার্ড দেওয়ার পরে নিচে login বাটনে ক্লিক করে প্রবেশ করতে হবে।
আপনি যখন পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করবেন তখন আপনার ওয়াইফাই এক্সেস এ সরাসরি প্রবেশ হয়ে যাবে। তারপর যে ইন্টারফেস দেখতে পারবেন সেটার ডান দিকে উপরে ৩ লাইন দিয়ে একটা অপশন দেখতে পারবেন। সেখানে আপনাকে ক্লিক করতে হবে।
ক্লিক করার পরপরই কয়েকটি অপশন সামনে চলে আসবে। যার প্রথমে লিখা থাকবে internet settings, wireless settings, bandwidth control ও আরো অপশন থাকবে। যেগুলোর মধ্যে থেকে আপনাকে ওয়ারলেস সেটিংসে প্রবেশ করতে হবে।
ওয়ারলেস সেটিংস এ প্রবেশ করার পরে আপনি আপনার ওয়াইফাই এর এডমিন এক্সেস অর্থাৎ ওয়াইফাই নেম এবং পাসওয়ার্ড এর ঘর দেখতে পারবেন। যেখানে আপনি চাইলে আপনার ওয়াইফাই নেম পরিবর্তন করতে পারবেন আবার চাইলে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করতে পারবেন। তবে আমি বলব পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা সব থেকে শ্রেয়। পাসওয়ার্ডের ঘরে যেয়ে নতুন পাসওয়ার্ড টাইপ করবেন।
নতুন পাসওয়ার্ড টাইপ করার পরে নিচে সাবমিট নামে একটা বাটন থাকবে। সে বাটনে ক্লিক করলে আপনার পাসওয়ার্ড সরাসরি পরিবর্তন হয়ে যাবে। উপরে একটি নোটিফিকেশন দেখতে পারছেন যেখানে লিখা আছে saved successfully। এটি সাধারণত পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করলে এরকম pop-up দেখায়।
ওয়াইফাই রাউটারের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার
জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আমি মনে করি দীর্ঘদিন একেই পাসওয়ার্ড ব্যবহার
করলে তা যে কেউ বা কোন অপরাধীর কাছে ফাঁস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও
কেউ অনুমতি ছাড়া আপনার ওয়াইফাই ব্যবহার করলে ইন্টারনেটের গতি কমে যেতে পারে এবং
অতিরিক্ত ডাটা খরচ হতে পারে। সেজন্য আমাদেরকে ওয়াইফাই রাউটারের পাসওয়ার্ড
প্রতিনিয়ত পরিবর্তন করার অভ্যাস নিজেদের মধ্যে তৈরি করতে হবে।
রাউটার পাসওয়ার্ডের প্রয়োজনীয়তা
বর্তমান রাউটারের প্রয়োজনীয়তা আমাদের জীবনে অনেক বেশি প্রভাব ফেলে। আপনার ঘরের
বা অফিসের ইন্টারনেটের নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য রাউটারের একটি সুনির্দিষ্ট
পাসওয়ার্ড থাকা খুবিই জরুরি একটি বিষয়। একটি ওয়াইফাই
নেটওয়ার্ক যদি পাসওয়ার্ড ছাড়া ওপেন থাকে তবে আশেপাশের যেকোনো ব্যক্তি খুব
সহজেই তা ব্যবহার করতে পারে। এর ফলে আপনার ইন্টারনেটের ব্যান্ডউইথ অপচয় হয় এবং
আপনি ধীরগতির ইন্টারনেট পেয়ে থাকেন। তাই আমি মনে করি রাউটারের পাসওয়ার্ড দেওয়া থাকলে
ইন্টারনেটের উপর নিজের সকল নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে।
তাছাড়া আমি প্রায় খেয়াল করেছি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলে সেটা যে কেউ
ইউজ করতে পারে না। আপনি যদি আপনার ওয়াইফাই সংযোগের সর্বোচ্চ স্পিড বা গতি উপভোগ
করতে চান তবে একটি ভালো পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা খুব জরুরি । তাই ইন্টারনেটের গতি ঠিক
রাখতে এবং নিজের ডাটা বাঁচাতে রাউটার পাসওয়ার্ডের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
তাছাড়া সাইবার নিরাপত্তার দিক থেকে বিচার করলে ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক সুরক্ষিত
রাখা বর্তমান যুগে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। সেজন্য আমি বলব নেটওয়ার্ক সুরক্ষা
করতে হলে অবশ্যই শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে।
আপনার ওয়াইফাই ব্যবহার করে অন্য কেউ যদি কোনো অবৈধ বা অপরাধমূলক কাজ করে তবে
আইনগতভাবে তার দায়ভার সংযোগের মালিক হিসেবে আপনার ওপর আসতে পারে। আমি নিজে
কয়েকটা জায়গায় এরকম সমস্যার প্রমাণ পেয়েছি। হ্যাকাররা অনেক সময় অরক্ষিত
ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ডিভাইসে প্রবেশ করে গোপন তথ্য বা
ব্যাংকের পাসওয়ার্ড চুরি করতে পারে। এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা ও সাইবার
আক্রমণ থেকে নিজের পরিবারকে ডিজিটাল দুনিয়ায় নিরাপদ রাখতে ওয়াইফাই রাউটারের
পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করার সবচেয়ে সহজ নিয়ম জানা এবং তা প্রয়োগ করা দরকার।
ভালো মানের রাউটার চেনার উপায়
আমি মনে করি ইন্টারনেট জগতে আপনাকে রাউটার ভালোভাবে ব্যবহার করতে হলে ভালো মানের রাউটার চেনার
অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বাজারে বর্তমানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এবং নানা রকমের রাউটার
পাওয়া যায়। যার মধ্যে থেকে একটি ভালো মানের রাউটার চেনার কিছু নির্দিষ্ট উপায়
রয়েছে। আকমার জানা মতে একটি ভালো রাউটারের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তার প্রসেসর এবং র্যামের
ক্ষমতা। যা রাউটারটি একসাথে কতগুলো ডিভাইস সামলাতে পারবে তা নির্ধারণ করে। ভালো
মানের রাউটারে সাধারণত ডুয়াল ব্যান্ড বা ট্রাই ব্যান্ড ফ্রিকোয়েন্সি থাকে। যা
২.৪ গিগাহার্জ এবং ৫ গিগাহার্জ উভয় ব্যান্ডেই সমানভাবে কাজ করতে পারে।
রাউটার কেনার সময় তার কাভারেজ এরিয়া বা সেটি কতদূর পর্যন্ত সিগন্যাল পাঠাতে
পারে তা যাচাই করে নেওয়া উচিত। কারণ ঘর বা অফিসের জন্য একটি সঠিক ওয়াইফাই
রাউটার বেছে নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি। এছাড়াও ভালো মানের
রাউটারে উন্নত সিকিউরিটি প্রোটোকল যেমন WPA2 বা WPA3 সাপোর্ট থাকে। এটি নেটওয়ার্ক
হ্যাকিং প্রতিরোধী করে তোলে। রাউটারের পেছনের পোর্টে গিগাবিট ল্যান সাপোর্ট আছে
কি না তা দেখে নেওয়া ভালো। কারণ এটি ক্যাবলের মাধ্যমে সর্বোচ্চ গতির ইন্টারনেট
সরবরাহ করে থাকে যা অতান্ত কার্যকর ভুমিকা পালন করে।
ভালো ব্র্যান্ডের রাউটারগুলোর নিজস্ব মোবাইল অ্যাপ থাকে। যার মাধ্যমে কম্পিউটার
ছাড়াই কেবল স্মার্টফোন দিয়ে রাউটারের সমস্ত কিছু নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আপনি
যদি একটি উন্নত রাউটার বাসায় সেট করেন তবে ওয়াইফাই রাউটারের পাসওয়ার্ড
পরিবর্তন করার সবচেয়ে সহজ নিয়ম ব্যবহার করে খুব সহজেই সেটির নিরাপত্তা
নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। সেজন্য আমি পরামর্শ করবো খুব ভালো ইন্টারনেট স্পিড
পেতে হলে সব সময় একটু ভালো ব্র্যান্ডের রাউটার কেনার জন্য। কেননা রাউটার এর ব্র্যান্ড যত ভালো হবে কাজের মান ততো ভালো হবে।
শক্তিশালী পাসওয়ার্ড দেওয়ার সুবিধা
শক্তিশালী পাসওয়ার্ড দেওয়া থাকলে আমি মনে করি যে কেউ আপনার নেটওয়ার্ক হ্যাক
করতে পারবে না। আপনার ওয়াইফাই রাউটারে একটি শক্তিশালী এবং জটিল পাসওয়ার্ড
ব্যবহার করার অনেকগুলো চমৎকার সুবিধা রয়েছে। যা আপনার ব্রাউজিং অভিজ্ঞতাকে নিরাপদ
করে। শক্তিশালী পাসওয়ার্ডের প্রধান সুবিধা হলো এটি যেকোনো সাধারণ হ্যাকিং
সফটওয়্যার বা প্রতিবেশীদের অনুমান ভিত্তিক পাসওয়ার্ড ক্র্যাক করার চেষ্টা
সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ করে দেয়। অনেকেই পাসওয়ার্ড হিসেবে নিজের নাম, মোবাইল নম্বর
বা ১ থেকে ৮ পর্যন্ত সহজ সংখ্যা ব্যবহার করেন যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ বলে আমি পরামর্শ দিব।
আমার মনে হয় ডাটা লিমিট বা মাসিক ইন্টারনেট বিলও এতে নিয়ন্ত্রণে থাকবে কারণ
কোনো থার্ড পার্টি আপনার ব্যান্ডউইথ চুরি করতে পারছে না। শক্তিশালী পাসওয়ার্ড আপনার বাসায় থাকা স্মার্ট টিভি, ল্যাপটপ এবং মোবাইল
ফোনগুলোকে লোকাল নেটওয়ার্ক হ্যাকিংয়ের হাত থেকে রক্ষা করে। নিজের ওয়াইফাই
জোনকে একটি শক্তিশালি ওয়াইফাই জনে পরিণত করতে এবং সম্পূর্ণ মানসিক শান্তিতে ইন্টারনেট
ব্রাউজ করতে একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা সবচেয়ে কার্যকর উপায়। আপনার
নিজের গোপনীয়তা ও সম্মান বজায় রাখতে আপনার কোন পাসওয়ার্ড কখনো বন্ধুর সাথেও
শেয়ার না করা ভালো বলে আমি মনে করি।
রাউটারের অ্যানটিনার প্রকারভেদ
ওয়াইফাই রাউটারের অ্যানটিনা হলো এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ যা বাতাস বা দেয়াল
ভেদ করে আমাদের ডিভাইসগুলোতে ওয়াইফাই সিগন্যাল পৌঁছে দেয়। রাউটারের অ্যানটিনা
প্রধানত দুই প্রকারের হয়ে থাকে। যার একটি হলো ইন্টারনাল বা অভ্যন্তরীণ অ্যানটিনা
এবং অন্যটি এক্সটারনাল বা বাহ্যিক অ্যানটিনা। আমি অনেকবার দেখেছি ইন্টারনাল অ্যানটিনাগুলো রাউটারের
বডির ভেতরে লুকানো থাকে। যার ফলে আপনার রাউটার দেখতে বেশ সুন্দর ও আকর্ষণীয় লাগে। অন্যদিকে এক্সটারনাল অ্যানটিনাগুলো রাউটারের বডির বাইরে দেখা যায়। যেগুলোকে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন দিকে ঘোরানো বা পজিশন ঠিক করা যায়।
এছাড়াও
সিগন্যাল ছড়ানোর দিক থেকে অ্যানটিনাকে ওমনি ডাইরেকশনাল এবং ডাইরেকশনাল এই দুই
ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। ডাইরেকশনাল অ্যানটিনা রাউটারের চারদিকে সমানভাবে
৩৬০ ডিগ্রি কোণে সিগন্যাল ছড়িয়ে দেয়। যা সাধারণত বাসা বাড়িতে ব্যবহারের জন্য
সবচেয়ে উপযোগী। অন্যদিকে আমি বলবো ডাইরেকশনাল অ্যানটিনা একটি নির্দিষ্ট দিকে অনেক দূর পর্যন্ত সিগন্যাল
পাঠাতে পারে। যা বড় অফিস বা আউটডোর নেটওয়ার্কিংয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়। রাউটারের
অ্যানটিনা ও ইন্টারনেটের কাভারেজ ঠিক রাখার পাশাপাশি নেটওয়ার্ক সুরক্ষিত রাখতে
ওয়াইফাই রাউটারের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করার সবচেয়ে সহজ নিয়ম জানা প্রতিটি
ব্যবহারকারীর জন্য অত্যন্ত উপকারী।
বর্তমানে কোন রাউটার উন্নতমানের
বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির বাজারে ওয়াইফাই ৬ এবং ওয়াইফাই
৭ স্ট্যান্ডার্ডের রাউটারগুলোকে সবচেয়ে উন্নতমানের ও শক্তিশালী রাউটারগুলোর মধ্যে সেরা। এই উন্নত রাউটারগুলো একসাথে অনেকগুলো ডিভাইসে কোনো রকম ল্যাগ বা গতি না
কমিয়েই অত্তান্ত ভাল গতির ইন্টারনেট সরবরাহ করতে সক্ষম। আমি মনে করি রাউটারের
এন্টেনার প্রকারভেদ এর উপর ওয়াইফাই এর কাভারেজ নির্ভর করে। ব্র্যান্ডের দিক থেকে বিচার করলে টিপি লিংক, আসুস , নেটগিয়ার এবং শাওমি এর আধুনিক মডেলগুলো বর্তমানে
পারফরম্যান্সের দিক থেকে সবার অপরে রয়েছে।
এই রাউটারগুলোতে শক্তিশালী কোয়াড কোর
প্রসেসর এবং হাই গেইন অ্যানটিনা ব্যবহার করা হয়। উন্নতমানের রাউটারগুলোতে বিমফর্মিং প্রযুক্তি থাকে যা সিগন্যাল চারদিকে অপচয় না করে সরাসরি কানেক্টেড
ডিভাইসের দিকে ফোকাস করে পাঠায়। আমি পরামর্শ দিবো আপনার ঘরের সাইজ অনুযায়ী সঠিক
এন্টেনা ওয়ালা রাউটার কেনার জন্য। এর ফলে ঘরের কোণে বা দেয়ালের আড়ালে থাকলেও ইন্টারনেটের স্পিড কমে না এবং গেমিং
বা ফোর কে ভিডিও স্ট্রিমিং খুব ভাল ভাবে করা যায় বলে আমি মনে করি।
এই রাউটারগুলোতে বিল্ট ইন
প্যারেন্টাল কন্ট্রোল এবং অ্যান্টিভাইরাস প্রটেকশন থাকে। যা ক্ষতিকারক ওয়েবসাইট
থেকে আপনার ডিভাইসগুলোকে রক্ষা করে। এই ধরণের রাউটারগুলো পরিচালনা করা অত্যন্ত সহজ। এগুলোর সিকিউরিটি সেটিংস উন্নত হওয়ায় ব্যবহারকারীরা খুব সহজেই তাদের
হোম নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা বজায় রাখতে পারেন। সিগন্যাল সঠিক রাখতে রাউটারটি
ঘরের মাঝখানে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখাটা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ বলে আমি
ধারণা করি। কেননা এর মাধমে কাজ করা খুব ভালো হয়।
ওয়াইফাই রাউটার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাবধানতা
আমার কাছে মনে হয় এই রাউটার থেকে ভালো সুবিধা পেতে কিছু বিষয়ে সাবধানতা
অবলম্বন করা দরকার। একটি ওয়াইফাই রাউটার দীর্ঘদিন ভালো রাখতে এবং এর থেকে সেরা সুবিধা পেতে হলে কিছু জরুরি সাবধানতা প্রয়োজন। প্রথমত রাউটারটি কখনো ঘরের
কোণে, মেঝের কাছাকাছি বা কোনো বদ্ধ আলমারির ভেতরে রাখা উচিত নয়। এটি সবসময় ঘরের
মাঝখানে একটু উঁচুতে রাখা উচিত। এতে করে কাজ করার ক্ষেত্রে সব থেকে ভালো ইন্টারনেট এর সংযোগ পাওয়া যায়। যা কাজের গতিকে বহুগুণ বারিয়ে দেয়।
আমি পরামর্শ দিব রাউটারকে কখনো ওভেন, কর্ডলেস ফোন বা ব্লুটুথ ডিভাইসের খুব কাছে রাখা যাবে না। কারণ এগুলোর ফ্রিকোয়েন্সি ওয়াইফাই সিগন্যালে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি করে। রাউটার
যেন অতিরিক্ত গরম না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত বজ্রপাতের সময়
রাউটারের পাওয়ার অ্যাডাপ্টার এবং ল্যান ক্যাবল বা ব্রডব্যান্ড লাইনের তারটি
রাউটার থেকে খুলে রাখা উচিত নয়তো ভোল্টেজ ওঠানামায় রাউটারটি পুড়ে যেতে
পারে। সেজন্য আমি বলব ঘরের বাইরে যাওয়ার সময় রাউটারের পাওয়ার সুইচ বন্ধ করে
দেওয়া খুব ভালো একটা অভ্যাস।
রাউটারের ফার্মওয়্যার বা সিস্টেম সফটওয়্যার সবসময় আপডেট রাখা উচিত আমি মনে করি। কারণে এটি নতুন সিকিউরিটি প্যাচ যুক্ত করে রাউটারকে হ্যাকিং মুক্ত রাখে। সবচেয়ে বড়
সাবধানতা হলো রাউটারের ডিফল্ট অ্যাডমিন পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে রাখা যেন কেউ
আপনার সেটিংসে ঢুকতে না পারে। এই সমস্ত যান্ত্রিক সাবধানতার পাশাপাশি
নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত রাউটার সেটিংস চেক করা উচিত। আমার
কাছে মনে হয়েছে ভোল্টেজ ক্ষতি থেকে রাউটার বাঁচাতে একটি ভালো মানের মাল্টিপ্লাগ
ব্যবহার করা সব থেকে বুদ্ধিমানের কাজ ।
২ অ্যানটিনা ও ৪ অ্যানটিনার পার্থক্য
সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি বহুল প্রচলিত ধারণা হলো রাউটারের অ্যানটিনা বেশি হলেই
ইন্টারনেটের স্পিড বা গতি অনেক বেশি পাওয়া যায় যা সম্পূর্ণ সঠিক নয়। আমার
অভিজ্ঞতা বলে এন্টেনার সংখ্যার উপর ওয়াইফাই এর কাভারেজ এবং স্পিড অনেকটাই নির্ভর
করে। মূলত ২ অ্যানটিনা এবং ৪ অ্যানটিনা রাউটারের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো
সিগন্যাল কাভারেজ এরিয়া এবং একসাথে একাধিক ডিভাইস সামলানোর ক্ষমতা বা ডাটা
স্ট্রীম।২ অ্যানটিনা বিশিষ্ট রাউটারগুলো সাধারণত ছোট ফ্ল্যাট বা একক রুমের জন্য উপযুক্ত।
যেখানে দেয়ালের বাধা কম থাকে এবং ব্যবহারকারীর সংখ্যা সীমিত থাকে। এগুলো দামে
বেশ সাশ্রয়ী এবং সাধারণ ব্রাউজিংয়ের জন্য ভালো। অন্যদিকে ৪ অ্যানটিনা বিশিষ্ট
রাউটারগুলোতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার
করা হয় যা একসাথে অনেকগুলো ডিভাইসে সমান গতিতে ডাটা পাঠাতে পারে। তাই আমি মনে
করি ঘরের সব কোনাই শক্তিশালী নেটওয়ার্ক পেতে ৪ আন্টিনার রাউটার ব্যবহার করা
উচিত। ৪ অ্যানটিনার রাউটারগুলো দেয়াল বা যেকোনো বাধা ভেদ করে অনেক দূর পর্যন্ত
শক্তিশালী সিগন্যাল ধরে রাখতে সক্ষম।
আর এটি বড় বাসা বা বহুতল ভবনের জন্য অত্যন্ত
উপযোগী। ৪ অ্যানটিনার রাউটারে সাধারণত ডুয়াল ব্যান্ড ফ্রিকোয়েন্সি থাকে যা ২
অ্যানটিনার চেয়ে বেশি স্থিতিশীল ইন্টারনেট প্রদান করে। আপনার রাউটারে যতটি
অ্যানটিনাই থাকুক না কেনো তার সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সেটিংসের সঠিক
ব্যবহার জানা জরুরি। আমি পরামর্শ দেব নিজের প্রয়োজন বুঝে সঠিক এন্টেনার রাউটার
কিনলে ইন্টারনেটের সেরা অভিজ্ঞতা পাওয়া সম্ভব বলে আমি মনে করি। সুতরাং সঠিক রাউটার কিনা প্রত্যেক বাবহারকারির জন্য জরুরি।
নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের গুরুত্ব
ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক নিরাপদ রাখার জন্য নিয়মিত বিরতিতে রাউটারের পাসওয়ার্ড
পরিবর্তন করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। আমার অভিজ্ঞতা
বলে দীর্ঘদিন একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলে নিরাপত্তার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
আমরা অনেক সময় বাসায় আসা অতিথি, আত্মীয় স্বজন বা প্রতিবেশীদের আমাদের
ওয়াইফাইয়ের পাসওয়ার্ড দিয়ে থাকি যা পরবর্তীতে তাদের ডিভাইসে সেভ থেকে যায়। এজন্য আমাদের সকলের কাজ করার ক্ষেত্রে সবথেকে বেশি সাবধান থাকতে হবে বলে আমি মনে করি।
এর ফলে আপনার অজান্তেই ব্যাকগ্রাউন্ডে আপনার ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হতে
থাকে এবং ইন্টারনেটের গতি কমে যায়।য়ামার মতে প্রতি তিন বা চার মাস পর পর পাসওয়ার্ড
পরিবর্তন করলে সেই সমস্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ডিভাইসগুলো আপনার নেটওয়ার্ক থেকে
স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এছাড়াও বর্তমান ডিজিটাল দুনিয়ায়
হ্যাকিংয়ের নিত্যনতুন প্রযুক্তি তৈরি হচ্ছে তাই দীর্ঘ সময় একই পাসওয়ার্ড
ব্যবহার করা আপনার ব্যক্তিগত তথ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ডিজিটাল একাউন্ট
এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতি তিন মাস পর পর পাসওয়ার্ড বদলানোর জন্য আমি পরামর্শ দিবো।
আমার মতে নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন আর হ্যাকারদের পক্ষে আপনার ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের
সিকিউরিটি চুরি করা বা ক্র্যাক করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এটি আপনার বাড়ির নেটওয়ার্কের ডাটার গোপনীয়তা বজায় রাখে এবং ইন্টারনেটের স্পিড সবসময় সর্বোচ্চ
রাখতে সাহায্য করে বলে আমি মনে করি। নিজের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সাইবার হাইজিন বজায় রাখার জন্য এই
ছোট অভ্যাসটি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। তাই আমি মনে করি নিজের তথ্য সেভ
রাখতে পাসওয়ার্ড আপডেট রাখার অভ্যাস করা উচিত বলে আমি মনে করি ।
শেষ মন্তব্য
ওয়াইফাই রাউটারের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করার সবচেয়ে সহজ নিয়ম জানা এবং তা সঠিক
উপায়ে বাস্তবায়ন করা প্রতিটি সচেতন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর একটি অন্যতম প্রধান
দায়িত্ব। আজকের এই প্রযুক্তিনির্ভর যুগে তথ্য সুরক্ষাই হলো সবচেয়ে বড়
চ্যালেঞ্জ। আর তার প্রথম ধাপ শুরু হয় আপনার ঘরের ওয়াইফাই নেটওয়ার্কটি সম্পূর্ণ
নিরাপদ রাখার মাধ্যমে। প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে সাইবার অপরাধের ধরণও তত
পাল্টাচ্ছে, তাই আমাদের নিজেদেরও ডিজিটাল সুরক্ষার ব্যাপারে অনেক বেশি সতর্ক হতে হবে। 260435










অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url