OrdinaryITPostAd

রেমিটেন্স ডলার এক্সচেঞ্জ রেট ক্যালকুলেট করার সহজ উপায়

রেমিটেন্স ডলার এক্সচেঞ্জ রেট ক্যালকুলেট করার উপায় জানা থাকলেই আপনি এই প্রশ্নের সঠিক ও লাভজনক উত্তর পাবেন না। রেমিটেন্স বাংলাদেশের অর্থনীতির রীতিমতো জীবন রেখা এবং প্রতিবছর কোটি কোটি ডলার দেশে প্রবেশ করে।

রেমিটেন্স-ডলার-এক্সচেঞ্জ-রেট-ক্যালকুলেট-করার-উপায়

রেমিটেন্স ডলার এক্সচেঞ্জ রেট ক্যালকুলেট করা নিয়ে চিন্তিত হবেন না। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা রেমিটেন্স ডলার এক্সচেঞ্জ রেট ক্যালকুলেট করার প্রত্যেকটি ধাপ নিয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব। যাতে আপনি কখনোই বিভ্রান্ত না হন।

পেজ সূচিপত্রঃ রেমিটেন্স ডলার এক্সচেঞ্জ রেট ক্যালকুলেট করার উপায়

রেমিটেন্স ডলার এক্সচেঞ্জ রেট ক্যালকুলেট করার উপায়

রেমিটেন্স ডলার এক্সচেঞ্জ রেট ক্যালকুলেট করার উপায় জানা থাকলে আপনি সহজেই এই হিসাব করতে পারবেন এবং সর্বোচ্চ টাকা পাওয়ার নিশ্চয়তা পাবেন। আপনি কি প্রবাসে থাকেন এবং বাংলাদেশে টাকা পাঠাতে চান, নাকি দেশে থাকেন এবং প্রবাসী আত্মীয়র পাঠানোর ডলার গ্রহণ করবেন। উভয় ক্ষেত্রেই আপনার মাথায় প্রশ্ন আসে এই ডলার গুলোর বিনিময়ে আপনি ঠিক কত টাকা পাবেন। বাংলাদেশের প্রতিবছর প্রায় ২০০০ কোটি ডলার রেমিটেন্স আসে এবং এই বিপুল অর্থের বিনিময় হার বুঝতে পারাটা প্রতিটি প্রেরক ও প্রাপকের জন্য অপরিহার্য। 

আরো পড়ুনঃ ক্যানভা প্রো ফ্রিতে এক্টিভ করার সহজ উপায়

রেমিটেস্ট ডলার এক্সচেঞ্জ রেট জানার আগে বোঝা দরকার। রেটটা আসে কোথায় থেকে। মূলত দুই ধরনের রেট আপনি দেখতে পাবেন ব্যাংক রেট এবং মানি এক্সচেঞ্জ কোম্পানির রেট। ব্যাংক গুলো সাধারণত বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত রেফারেন্স এর উপর ভিত্তি করে তাদের রেট ঠিক করে। যেখানে মানি এক্সচেঞ্জ কোম্পানি গুলো প্রতিযোগিতা মূলক রেট অফার করে। এই রেট গুলো প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের চাহিদা যোগান বাংলাদেশের রিজার্ভ এবং অর্থনৈতিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে। 

রেমিট্যান্স ডলার এক্সচেঞ্জ রেট ক্যালকুলেট করার জন্য একটি সহজ গাণিতিক সূত্র রয়েছে। মূলসূত্রটি হলো পাঠানো টাকা গুণ বিনিময় হার সমান প্রাপ্ত টাকা। কিন্তু এই ডলার ক্যালকুলেট করার হিসাবটা এখানেই শেষ না। কারণ এর সঙ্গে যুক্ত হয় ট্রান্সফার ফি। ধরা যাক আপনি ১০০ মার্কিন ডলার পাঠাচ্ছেন এবং বর্তমান বাজার মূল্য অনুযায়ী ১ ডলার সমান ১০৭ টাকা। তাহলে আপনার হিসাব হবে ১০০ ডলার গুণন ১০৭ টাকা সমান ১০৭০০ টাকা। এবার যে ব্যাংক বা মাধ্যম কে ব্যবহার করেছেন তারা যদি পাঁচ ডলার ফি নেয়, তাহলে ফি বাবত কাটা যাবে ৫ ডলার গুণন ১০৭ টাকা সমান ৫৩৫ টাকা। 

তাহলে আপনার প্রাপকের হিসাব পাবে ১০৭০০ টাকা বিয়োগ ৫৩৫ টাকা সমান ১০১৬৫ টাকা। এই পুরো প্রক্রিয়াটি আপনাকে প্রকৃত প্রাপ্য টাকা বুঝতে সাহায্য করবে। এছাড়াও এক ডলার এক্সচেঞ্জ রেট ক্যালকুলেট করার উপায় জানার সবচেয়ে বাস্তব সম্মত উপায় হলো অনলাইনে পাওয়া বিভিন্ন মুদ্রা পরিবর্তনশীল ওয়েবসাইট বা ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা। শুধু গুগলে সার্চ দিলেই অনেক ক্যালকুলেটর পেয়ে যাবেন। তবে মনে রাখবেন এই ক্যালকুলেটর গুলো সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজারের গড়হার দেখায়। 

যা আপনার ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপের দেওয়া হারের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। কারণ ব্যাংক ও এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো নিজেদের লাভের জন্য এই হাড়ের সাথে কিছুটা মার্জিন যোগ করে। সবশেষে টাকা পাঠানোর আগে আপনার ব্যাংক যা রেমিটেন্স হাউসের অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখে নিন। তারা কত টাকা প্রতি ডলারের দিচ্ছে এবং ঠিক কত লাগছে। তাহলে আপনার জন্য এই পুরো প্রক্রিয়াটি স্পষ্ট হয়ে যাবে এবং আপনি নিশ্চিন্তে লেনদেন করতে পারবেন।

রেমিটেন্স কি এবং এর এক্সচেঞ্জ রেট কেন গুরুত্বপূর্ণ

রেমিট্যান্স ডলার এক্সচেঞ্জ রেট ক্যাল্কুলেট করার কৌশল জানার আগে প্রথমেই বুঝতে হবে রেমিটেন্স আসলে কি। রেমিট্যান্স হল বিদেশে অবস্থানরত কোন ব্যক্তি তার উপস্থিত বৈদেশিক মুদ্রা নিজের দেশে তার পরিবার বা আত্মীয় স্বজনের কাছে প্রেরণ করা। বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ প্রবাসী শ্রমিক মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকা ও অন্যান্য দেশ থেকে তাদের রক্ত ঘামের উপার্জন দেশে পাঠান। যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ায়। দারিদ্র রস করে এবং অর্থনীতিকে সচল রাখে। এই প্রেরিত অর্থ যখন বাংলাদেশে টাকায় রূপান্তরিত হয়। 

তখন যে হার অনুযায়ী রূপান্তর হয়, সেটি হল রেমিটেন্স এক্সচেঞ্জ রেট রেমিটেন্স ডলার এক্সচেঞ্জ রেট ক্যাল্কুলেট করার জন্য সরাসরি আপনার প্রাপ্য অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে। এই এক্সচেঞ্জ রেট কেন এত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ লেটার সামান্য তারতম বিপুল পরিমাণ টাকার পার্থক্য তৈরি করতে পারে। ধরুন আপনি এক হাজার মার্কিন ডলার পাঠালেন, যদি রেমিটেন্স রেড হয় এক ডলার ইকুয়াল ১১৭ টাকা। তাহলে প্রাপক পাবেন এক লাখ সতের হাজার টাকা। যার রেট হয় ডলারে ১১৫ টাকা।

রেমিটেন্স রেট নির্ধারণে কোন কোন ফ্যাক্টর কাজ করে

রেমিট্যান্স ডলার এক্সচেঞ্জ রেট ক্যাল্কুলেট করার আগে জানতে হবে এই রেট আসলে কিভাবে নির্ধারিত হয়। রেমিট্যান্স রেট একটি স্থির সংখ্যা নয়। এটি বিভিন্ন আর্থিক ও বাজার ভিত্তিক ফ্যাক্টরির উপর ভাসমান। প্রথম এবং প্রধান ফ্যাক্টরটি হল আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য। এটি সাধারণত ইন্টার ব্যাংক ফর এক্স মার্কেটে নির্ধারিত হয়। যেখানে ব্যাংক গুলো একে অপরের সাথে মুদ্রা লেনদেন করে। এই মূল্যটি ভিত্তির রেট হিসেবে কাজ করে। 

তারপর রেমিটেন্স সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গুলো তাদের অপারেটিং খরচ মুনাফা এবং বাজার প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে এই ভিত্তি রেট এর ওপর একটি মার্কআপ বা মার্ক ডাউন যোগ বা বিয়োগ করে। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হল বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি ও নির্দেশনা কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈধ চ্যানেলে রেমিটেন্স প্রবাহ উৎসাহিত করতে প্রণোদনা মুহূর্ত ঘোষণা করতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ তার ব্যাংক গুলোকে নির্দেশ দিতে পারে। যে তারা যেন রেমিটেন্সের জন্য সাধারণ বাজার রেট এর চেয়ে এক বা দুই টাকা বেশি দেয়।

ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিটেন্স রেট ও হিসাব পদ্ধতি

রেমিটেন্স ডলার এক্সচেঞ্জ রেট কালার সবচেয়ে সাধারণ এবং নিরাপদ পদ্ধতি হলো ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করা। যখন আপনি বিদেশ থেকে সরাসরি বাংলাদেশের কোন ব্যাংকের একাউন্টে সিফট বা অন্য কোন আন্তর্জাতিক ট্রান্সফার সার্ভিস এর মাধ্যমে টাকা পাঠান। তখন সেই টাকা বাংলাদেশী টাকায় রূপান্তরিত হয়। এটি নির্দিষ্ট রেটে এই রেটটি সাধারণত দুই ভাবে নির্ধারিত হতে পারে। নির্ধারিত রেট প্রেরক ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত রেট অথবা প্রাপক ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত রেট যদি কনভারসন করে।

রেমিটেন্স-ডলার-এক্সচেঞ্জ-রেট-ক্যালকুলেট-করার-উপায়

তবে তারা তাদের নিজস্ব রেট প্রয়োগ করবে। ডলার হিসেবেই টাকা পাঠানো হয়। তবে প্রাপক ব্যাংক বাংলাদেশে তার টাকায় রূপান্তর করবে। তাদের রেটে বাংলাদেশ ব্যাংক এগুলা তাদের রেমিটেন্স রেট সাধারণত দুই ভিত্তিতে প্রকাশ করে। টিটি ক্লিন রেট এবং রেমিটেন্স রেড হল ব্যাংক গুলো নিজেদের মধ্যে লেনদেনের রেট। যা সাধারণত বিনিময় বাজারের কাছাকাছি থাকে। অন্যদিকে রেমিটেন্স ক্রয় রেট হলো সেই রেট। যার ভিত্তিতে ব্যাংক আপনার প্রবাসী আত্মীয়র পাঠানোর ডলার কিনে নেবে এবং প্রাপককে টাকা দেবে।

মানি এক্সচেঞ্জ রেমিটেন্স কোম্পানি এর রেট ও হিসাব

রেমিটেন্স ডলার এক্সচেঞ্জ রেট ক্যাল্কুলেট করার আরেকটি জনপ্রিয় মাধ্যম হল মানি ট্রান্সফার অপারেটর। যেমন ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন মানিগ্রাম রিয়া এক্সপ্রেস মানি ইত্যাদি মাধ্যমে টাকা পাঠানো। এই কোম্পানি গুলোর বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্ক রয়েছে এবং তারা প্রায়ই দ্রুত টাকা পাঠানোর সুবিধা দেয়। এই চ্যানেলের রেট নির্ধারিত পদ্ধতি ও ব্যাংকের মতোই। কিন্তু অনেক সময় এগুলো ব্যাংক রেট এর চেয়ে বেশি বা কম হতে পারে। কারণ তারা নিজস্ব রেট করে এবং প্রতিযোগিতা মূলক রাখার চেষ্টা করে। 

এই কোম্পানি গুলোর মাধ্যমে টাকা পাঠালে প্রেরক বিদেশে যে শাখা বা এজেন্টের মাধ্যমে টাকা জমা দেন, তিনি সরাসরি জানতে পারবেন আজকের রেটে কত বাংলাদেশী টাকা প্রাপক পাবে। উদাহরণ স্বরূপ ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের এজেন্ট প্রেরককে বলবে আজ ১০০ ডলার পাঠালে বাংলাদেশে প্রাপক পাবেন ১১৭০০ টাকা। এখানে রেটটি দাঁড়ালো এক ডলার সমান ১১৭ টাকা। এই রেটটি আগে থেকে এই কোম্পানি ঠিক করে রেখেছে এবং এটি সারা দিনের জন্য স্থির থাকতে পারে বা বাজারের অবস্থা অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।

বাংলাদেশ ফিনান্সিয়াল টেলিকম নেটওয়ার্ক রেট কি

রেমিটেন্স ডলার এক্সচেঞ্জ রেট ক্যাল্কুলেট করা নিয়ে গবেষণা করলে আপনি একটি নাম প্রায়ই শুনে থাকবেন। সেটি হলো বাংলাদেশ ফাইনান্সিয়াল টেলিকম নেটওয়ার্ক। এটি আসলে কি এটি হলো বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত একটি জাতীয় সুইচিং নেটওয়ার্ক। যা দেশের সকল ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইলেকট্রনিক লেনদেন সুগম করে। এটি মূলত একটি টেকনিক্যাল প্ল্যাটফর্ম।

আরো পড়ুনঃ উইন্ডোজ ১১ এর নতুন ৮টি ফিচার সম্পর্কে জানুন

কিন্তু রেমিটেন্স প্রসঙ্গে এই রেট বলতে সাধারণত সেই রেটটিকে বোঝয় যা বাংলাদেশ ফাইনান্স টেলিকম নেটওয়ার্ক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে। বাংলা ব্যাংক গুলো তাদের মধ্যে রেমিটেন্স লেনদেনের সময় প্রয়োগ করে। মানে কি ধরুন একজন প্রবাসী তার বিদেশি ব্যাংক থেকে টাকা পাঠালেন বাংলাদেশের ব্যাংকে। কিন্তু প্রাপকের একাউন্ট বি ব্যাংকের তখন এ ব্যাংক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বি ব্যাংকের কাছে সেই টাকা পাঠাবে।

বিজিএমইএ রেট কি এবং কাদের জন্য প্রযোজ্য

রেমিটেন্স ডলার এক্সচেঞ্জ রেট ক্যালকুলেট করার উপায় নিয়ে আলোচনায় আরেকটি বহুল আলোচিত শব্দ হলো বিজিএমই এ রেট হল বাংলাদেশ গার্মেন্টস মেনুফ্যাকচারাস এন্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন। যা দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের শীর্ষ সংগঠন। তারা তাদের সদস্য কারখানা গুলোর জন্য বিদেশ থেকে প্রাপ্ত রপ্তানি আয়ের ডলার রূপান্তরের জন্য একটি আলাদা রেট প্রকাশ করে থাকে। এই রেটটি সাধারণত ইন্টার ব্যাংক ফর এক্সেলেট এর সাথে সংযুক্ত। কিন্তু আলাদা প্রশ্ন হল এই রেট কি স্বাধীনতার রেমিটেন্স প্রেরক বা প্রাপকের জন্য প্রযোজ্য।

রেমিটেন্স-ডলার-এক্সচেঞ্জ-রেট-ক্যালকুলেট-করার-উপায়

সরল উত্তর না সাধারণত প্রযোজ্য নয় বিজিএমই এর রেট মূলত তৈরি পোশাক শিল্পের রপ্তানি আয়ের ডলার রূপান্তরের জন্য প্রযোজ্য। যখন একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি বিদেশ থেকে তার পোশাক রপ্তানির মূল্য পায়। তখন তারা সেই ডলার বাংলাদেশের টাকায় রূপান্তর করে। এই বিজিএমইএর রেট ব্যবহার করতে পারে। যা কিছু ক্ষেত্রে ব্যাংকের সাধারণ রেট এর চেয়ে সামান্য বেশি হতে পারে। এটি একটি শিল্প নির্দিষ্ট প্রণোদনা।

অনলাইন রেড ক্যালকুলেটর টুলসের ব্যবহার

রেমিটেন্স ডলার এক্সচেঞ্জ রেট ক্যাল্কুলেট করার আগের চেয়ে এখন অনেক সহজ হয়েছে। ইন্টারনেট এবং স্মার্টফোনের যুগে বিভিন্ন ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপের রেমিটেন্স রেট ক্যালকুলেটর টুলস ব্যবহার করে এই রুলস গুলো ব্যবহার করে। আপনি খুব সহজেই জানতে পারবেন যে নির্দিষ্ট পরিমাণ ডলার পাঠালে বাংলাদেশে কত টাকা পৌঁছাবে। উদাহরণ স্বরূপ আপনি যদি বাংলাদেশের যেকোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকের ওয়েবসাইটে যান এবং রেমিটেন্স বা প্রবাসে আই সেকশন খুঁজে পান। 

সেখানে প্রায়ই একটি ক্যালকুলেটর পাবেন। এই ক্যালকুলেটর ব্যবহারের পদ্ধতি খুবই সহজ। প্রথমে আপনি সাধারণত প্রেরনের দেশ নির্বাচন করুন। তারপর প্রাপকের দেশ হিসেবে বাংলাদেশ নির্বাচিত থাকবে। এরপর আপনি যে পরিমাণ ডলার পাঠাতে চান, তা ইনপুট বক্সে লিখুন। ক্যালকুলেটর সয়ংক্রিয় ভাবে বর্তমান রেমিটেন্স প্রাইজ রেট ব্যবহার করে আপনাকে বলে দেবে প্রাপক কত বাংলাদেশী টাকা পাবেন।

রেমিটেন্স রেড ক্যালকুলেশনের গাণিতিক সূত্র ও উদাহরণ

রেমিট্যান্স ডলার এক্সচেঞ্জ রেট ক্যাল্কুলেট করার হৃদয় হলো একটি সহজ গাণিতিক সূত্র। আসুন আমরা এই সূত্রটি এবং কিছু বাস্তব উদাহরণ দেখি। যাতে আপনি নিজেই যে কোন সময়ে হিসাব করতে পারেন। মূল সূত্রটি হল প্রাপক প্রাপ্ত টাকা সমান প্রেরিত বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ ইনটু রেমিটেন্স ক্রয় রেট। ধরুন আপনার ভাই সৌদি আরব থেকে ১৫০০ মার্কিন ডলার পাঠালেন। আপনার বাংলাদেশ ব্যাংক একাউন্টে আজকের তারিখ সেই ব্যাংকের লিমিটেন্স রেট এক দলের সমান ১২৮ টাকা। তাহলে আপনি পাবেন ১৫০০ ডলার সমান এক লাখ ৭৮ হাজার ১২৫ টাকা। 

আরো পড়ুনঃ ইউটিউব শর্টস থেকে ইনকাম না আসার ১০ টা আসল কারণ

এই হিসাটি সরল যদি না ব্যাংক কোন অতিরিক্ত চার্জ কাটে। ধরুন আপনার বাবা আমেরিকা থাকে। ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের মাধ্যমে ২০০০ ডলার পাঠালেন ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের এজেন্ট তাকে বলল এই টাকার জন্য বাংলাদেশের প্রাপক পাবেন ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। তাহলে রেটটি দাঁড়ালো ২৫ হাজার ভাগ দুই হাজার সমান ১১৭ টাকা। এখানে প্রেরক কে হয়তো আলাদা সার্ভিস ফি দিতে হয়েছে। রেমিটেন্স ডলার এক্সচেঞ্জ রেট করার জন্য এই উদাহরণ থেকে বোঝা যায় আপনি মোট প্রাপ্ত টাকা থেকে উল্টো ভাবে রেট বের করতে পারেন।

শেষ কথাঃ রেমিটেন্স ডলার এক্সচেঞ্জ রেট ক্যালকুলেট করার উপায়

রেমিটেন্স ডলার এক্সচেঞ্জ রেট ক্যালকুলেট করার উপায় নিয়ে এই বিস্তারিত আর্টিকেলে আমরা দেখলাম যে এটি একটি জটিল বিষয় নয়। বরং কিছু মৌলিক জ্ঞান এবং সচেতনতার বিষয় আমরা আলোচনা করলাম রেট কিভাবে নির্ধারিত হয়। ব্যাংক ও এমটিওর রেট এর পার্থক্য অনলাইন ক্যালকুলেটর ব্যবহার সর্বোচ্চ রেট পাওয়ার কৌশল এবং সতর্কতা। আশা করি এখন আপনি নিজেই যে কোন রেমিটেন্স লেনদেনের আগে রেট তুলনা করতে এবং সঠিক হিসাব করতে সক্ষম হবেন। মনে রাখবেন রেমিটেন্স ডলার এক্সচেঞ্জ রেট ক্যালকুলেট সম্পর্কে জানা প্রয়োজন।

তাই আজ থেকেই এই জ্ঞান কাজে লাগান। টাকা পাঠানোর আগে দুই মিনিট সময় নিয়ে রেট চেক করুন। তুলনা করুন এবং সবচেয়ে ভালো অপারেটিভ গ্রহণ করুন। আপনার এই ছোট্ট প্রচেষ্টা আপনার কষ্ট অর্জিত অর্থকে আরো মূল্যবান করে তুলতে সাহায্য করবে। প্রবাসে আপনার পরিশ্রম আর দেশে আপনার পরিবারের সুখ সমৃদ্ধি এই দুইয়ের মাঝে সেতু বন্ধন হলো রেমিটেন্স। আর সেই শত্রুকে আরো মজবুত ও লাভজনক করতে রেমিটেন্স ডলার রেট সম্পর্কে জানা। আপনার হাতিয়ার নিয়মিত রেট মনিটর করুন। তুলনা করুন এবং সর্বোচ্চ সুবিধা গ্রহণ করুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url