অর্ডিনারি আইটি https://www.ordinaryit.com/2022/04/kobita.html

রবীন্দ্রনাথের নতুন বছরের কবিতা - নজরুলের নববর্ষের কবিতা

আমাদের দেশের অনেক নামকরা বিখ্যাত কবিরা বৈশাখ নিয়ে লিখেছেন অনেক কবিতা। রবীন্দ্রনাথের নতুন বছরের কবিতা, নজরুলের নববর্ষের কবিতা সহ আরও অনেক কবির কবিতায় আজ উল্লেখ করব আমাদের এই নিবন্ধটিতে।
চলুন আর দেরি না করে রবীন্দ্রনাথের নতুন বছরের কবিতা, নজরুলের নববর্ষের কবিতা, শুভ নববর্ষ কবিতা, জীবনানন্দ দাশের নববর্ষের কবিতা ও সুকুমার রায়ের নববর্ষের কবিতা গুলো জেনে নেই।

পেজ সূচিপত্রঃ রবীন্দ্রনাথের নতুন বছরের কবিতা - নজরুলের নববর্ষের কবিতা

রবীন্দ্রনাথের নতুন বছরের কবিতা

এসো হে বৈশাখ
_রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

এসো, এসো, এসো হে বৈশাখ।
তাপসনিশ্বাসবায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে,
বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক॥
যাক পুরাতন স্মৃতি, যাক ভুলে-যাওয়া গীতি,
অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক॥
মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা,
অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।
রসের আবেশরাশি শুষ্ক করি দাও আসি,
আনো আনো আনো তব প্রলয়ের শাঁখ।
মায়ার কুজ্ঝটিজাল যাক দূরে যাক॥
                                       - প্রকৃতি পর্যায় রবীন্দ্র সঙ্গীত
***
নববর্ষ এল আজি
_রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

নববর্ষ এল আজি
দুর্যোগের ঘন অন্ধকারে;
আনে নি আশার বাণী,
দেবে না সে করুণ প্রশ্রয়।
প্রতিকূল ভাগ্য আসে
হিংস্র বিভীষিকার আকারে;
তখনি সে অকল্যাণ
যখনি তাহারে করি ভয়।
যে জীবন বহিয়াছি
পূর্ণ মূল্যে আজ হোক কেনা;
দুর্দিনে নির্ভীক বীর্যে
শোধ করি তার শেষ দেনা।
                                                           -কড়ি ও কোমল কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া
***
নববর্ষে
_রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

নিশি অবসানপ্রায়, ওই পুরাতন
বর্ষ হয় গত!
আমি আজি ধূলিতলে এ জীর্ণ জীবন
করিলাম নত।
বন্ধু হও, শত্রু হও, যেখানে যে কেহ রও,
ক্ষমা করো আজিকার মতো
পুরাতন বরষের সাথে
পুরাতন অপরাধ যত।

আজি বাঁধিতেছি বসি সংকল্প নূতন
অন্তরে আমার,
সংসারে ফিরিয়া গিয়া হয়তো কখন
ভুলিব আবার।
তখন কঠিন ঘাতে এনো অশ্রু আঁখিপাতে
অধমের করিয়ো বিচার।
আজি নব-বরষ-প্রভাতে
ভিক্ষা চাহি মার্জনা সবার।

আজ চলে গেলে কাল কী হবে না-হবে
নাহি জানে কেহ,
আজিকার প্রীতিসুখ রবে কি না-রবে
আজিকার স্নেহ।
যতটুকু আলো আছে কাল নিবে যায় পাছে,
অন্ধকারে ঢেকে যায় গেহ–
আজ এসো নববর্ষদিনে
যতটুকু আছে তাই দেহ।

বিস্তীর্ণ এ বিশ্বভূমি সীমা তার নাই,
কত দেশ আছে!
কোথা হতে কয় জনা হেথা এক ঠাঁই
কেন মিলিয়াছে?
করো সুখী, থাকো সুখে প্রীতিভরে হাসিমুখে
পুষ্পগুচ্ছ যেন এক গাছে–
তা যদি না পার চিরদিন,
একদিন এসো তবু কাছে।

সময় ফুরায়ে গেলে কখন আবার
কে যাবে কোথায়,
অনন্তের মাঝখানে পরস্পরে আর
দেখা নাহি যায়।
বড়ো সুখ বড়ো ব্যথা চিহ্ন না রাখিবে কোথা,
মিলাইবে জলবিম্ব প্রায়–
একদিন প্রিয়মুখ যত
ভালো করে দেখে লই আয়!

আপন সুখের লাগি সংসারের মাঝে
তুলি হাহাকার!
আত্ম-অভিমানে অন্ধ জীবনের কাজে
আনি অবিচার!
আজি করি প্রাণপণ করিলাম সমর্পণ
এ জীবনে যা আছে আমার।
তোমরা যা দিবে তাই লব,
তার বেশি চাহিব না আর।

লইব আপন করি নিত্যধৈর্যতরে
দুঃখভার যত,
চলিব কঠিন পথে অটল অন্তরে
সাধি মহাব্রত।
যদি ভেঙে যায় পণ, দুর্বল এ শ্রান্ত মন
সবিনয়ে করি শির নত
তুলি লব আপনার ‘পরে
আপনার অপরাধ যত!

যদি ব্যর্থ হয় প্রাণ, যদি দুঃখ ঘটে–
ক’দিনের কথা!
একদা মুছিয়া যাবে সংসারের পটে
শূন্য নিষ্ফলতা।
জগতে কি তুমি একা? চতুর্দিকে যায় দেখা
সুদুর্ভর কত দুঃখব্যথা।
তুমি শুধু ক্ষুদ্র একজন,
এ সংসারে অনন্ত জনতা।

যতক্ষণ আছ হেথা স্থিরদীপ্তি থাকো,
তারার মতন।
সুখ যদি নাহি পাও, শান্তি মনে রাখো
করিয়া যতন।
যুদ্ধ করি নিরবধি বাঁচিতে না পার যদি,
পরাভব করে আক্রমণ,
কেমনে মরিতে হয় তবে
শেখো তাই করি প্রাণপণ।

জীবনের এই পথ, কে বলিতে পারে
বাকি আছে কত?
মাঝে কত বিঘ্নশোক, কত ক্ষুরধারে
হৃদয়ের ক্ষত?
পুনর্বার কালি হতে চলিব সে তপ্ত পথে,
ক্ষমা করো আজিকার মতো–
পুরাতন বরষের সাথে
পুরাতন অপরাধ যত।

ওই যায়, চলে যায় কালপরপারে
মোর পুরাতন।
এই বেলা, ওরে মন, বল্ অশ্রুধারে
কৃতজ্ঞ বচন।
বল্ তারে– দুঃখসুখ দিয়েছ ভরিয়া বুক,
চিরকাল রহিবে স্মরণ,
যাহা-কিছু লয়ে গেলে সাথে
তোমারে করিনু সমর্পণ।

ওই এল এ জীবনে নূতন প্রভাতে
নূতন বরষ–
মনে করি প্রীতিভরে বাঁধি হাতে হাতে,
না পাই সাহস।
নব অতিথিরে তবু ফিরাইতে নাই কভু–
এসো এসো নূতন দিবস!
ভরিলাম পুণ্য অশ্রুজলে
আজিকার মঙ্গলকলস।
                                                      - চিত্রা কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া
***
পুরাতন
_রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

হেথা হতে যাও, পুরাতন।
হেথায় নূতন খেলা আরম্ভ হয়েছে।
আবার বাজিছে বাঁশি, আবার উঠিছে হাসি,
বসন্তের বাতাস বয়েছে।
সুনীল আকাশ- ‘পরে শুভ্র মেঘ থরে থরে
শ্রান্ত যেন রবির আলোকে,
পাখিরা ঝাড়িছে পাখা, কাঁপিছে তরুর শাখা,
খেলাইছে বালিকা বালকে।
সমুখের সরোবরে আলো ঝিকিমিকি করে,
ছায়া কাঁপিতেছে থরথর,
জলের পানেতে চেয়ে ঘাটে বসে আছে মেয়ে,
শুনিছে পাতার মরমর।
কী জানি কত কী আশে চলিয়াছে চারি পাশে
কত লোক কত সুখে দুখে,
সবাই তো ভুলে আছে, কেহ হাসে কেহ নাচে,
তুমি কেন দাঁড়াও সমুখে।
বাতাস যেতেছে বহি, তুমি কেন রহি রহি
তারি মাঝে ফেল দীর্ঘশ্বাস।
সুদূরে বাজিছে বাঁশি, তুমি কেন ঢাল আসি
তারি মাঝে বিলাপ-উচ্ছ্বাস।
উঠেছে প্রভাত-রবি, আঁকিছে সোনার ছবি,
তুমি কেন ফেল তাহে ছায়া।
বারেক যে চলে যায় তারে তো কেহ না চায়,
তবু তার কেন এত মায়া।
তবু কেন সন্ধ্যাকালে জলদের অন্তরালে
লুকায়ে ধরার পানে চায়–
নিশীথের অন্ধকারে পুরানো ঘরের দ্বারে
কেন এসে পুন ফিরে যায়।
কী দেখিতে আসিয়াছ! যাহা কিছু ফেলে গেছ
কে তাদের করিবে যতন।
স্মরণের চিহ্ন যত ছিল পড়ে দিন-কত
ঝরে-পড়া পাতার মতন
আজি বসন্তের বায় একেকটি করে হায়
উড়ায়ে ফেলিছে প্রতিদিন
ধূলিতে মাটিতে রহি হাসির কিরণে দহি
ক্ষণে ক্ষণে হতেছে মলিন।
ঢাকো তবে ঢাকো মুখ, নিয়ে যাও দুঃখ সুখ,
চেয়ো না চেয়ো না ফিরে ফিরে।
হেথায় আলয় নাহি, অনন্তের পানে চাহি
আঁধারে মিলাও ধীরে ধীরে।
                                                           -কড়ি ও কোমল কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া
***
বৈশাখ
_রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

হে ভৈরব, হে রুদ্র বৈশাখ!
ধুলায় ধূসর রুক্ষ উড্ডীন পিঙ্গল জটাজাল,
তপঃক্লিষ্ট তপ্ত তনু, মুখে তুলি বিষাণ ভয়াল
কারে দাও ডাক
হে ভৈরব, হে রুদ্র বৈশাখ!

ছায়ামূর্তি যত অনুচর
দগ্ধতাম্র দিগন্তের কোন্ ছিদ্র হতে ছুটে আসে!
কী ভীষ্ম অদৃশ্য নৃত্যে মাতি উঠে মধ্যাহ্ন-আকাশে
নিঃশব্দ প্রখর
ছায়ামূর্তি তব অনুচর!

মত্তশ্রমে শ্বসিছে হুতাশ।
রহি রহি দহি দহি উগ্রবেগে উঠিছে ঘুরিয়া,
আবর্তিয়া তৃণপর্ণ, ঘূর্ণচ্ছন্দে শূন্যে আলোড়িয়া
চূর্ণরেণুরাশ
মত্তশ্রমে শ্বসিছে হুতাশ।

দীপ্তচক্ষু হে শীর্ণ সন্ন্যাসী,
পদ্মাসনে বস আসি রক্তনেত্র তুলিয়া ললাটে,
শুষ্কজল নদীতীরে শস্যশূন্য তৃষাদীর্ণ মাঠে
উদাসী প্রবাসী—
দীপ্তচক্ষু হে শীর্ণ সন্ন্যাসী!

জ্বলিতেছে সম্মুখে তোমার
লোলুপ চিতাগ্নিশিখা, লেহি লেহি বিরাট অম্বর,
নিখিলের পরিত্যক্ত মৃতস্তূপ বিগত বৎসর
করি ভস্মসার।
চিতা জ্বলে সম্মুখে তোমার।

হে বৈরাগী, করো শান্তিপাঠ।
উদার উদাস কণ্ঠ যাক ছুটে দক্ষিণে ও বামে,
যাক নদী পার হয়ে, যাক চলি গ্রাম হতে গ্রামে,
পূর্ণ করি মাঠ।
হে বৈরাগী, করো শান্তিপাঠ।

সকরুণ তব মন্ত্রসাথে
মর্মভেদী যত দুঃখ বিস্তারিয়া যাক বিশ্ব- ’পরে,
ক্লান্ত কপোতের কণ্ঠে, ক্ষীণ জাহ্নবীর শ্রান্তস্বরে,
অশ্বত্থছায়াতে—
সকরুণ তব মন্ত্রসাথে।

দুঃখ সুখ আশা ও নৈরাশ
তোমার ফুৎকারলুব্ধ ধুলা-সম উড়ুক গগনে,
ভ’রে দিক নিকুঞ্জের স্খলিত ফুলের গন্ধসনে
আকুল আকাশ—
দুঃখ সুখ আশা ও নৈরাশ।

তোমার গেরুয়া বস্ত্রাঞ্চল
দাও পাতি নভস্তলে, বিশাল বৈরাগ্যে আবরিয়া
জরা মৃত্যু ক্ষুধা তৃষ্ণা, লক্ষকোটি নরনারী-হিয়া
চিন্তায় বিকল।
দাও পাতি গেরুয়া অঞ্চল।

ছাড়ো ডাক, হে রুদ্র বৈশাখ!
ভাঙিয়া মধ্যাহ্নতন্দ্রা জাগি উঠি বাহিরিব দ্বারে,
চেয়ে রব প্রাণীশূন্য দগ্ধতৃণ দিগন্তের পারে
নিস্তব্ধ নির্বাক।
হে ভৈরব, হে রুদ্র বৈশাখ!
                                           - কল্পনা কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া
***

নজরুলের নববর্ষের কবিতা | রবীন্দ্রনাথের নতুন বছরের কবিতা

প্রলয়োল্লাস
কাজী নজরুল ইসলাম

তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!
      তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!!
ঐ নূতনের কেতন ওড়ে কাল্-বোশেখির ঝড়।
      তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!
      তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!!

আস্ছে এবার অনাগত প্রলয়-নেশার নৃত্য-পাগল,
সিন্ধু-পারের সিংহ-দ্বারে ধমক হেনে ভাঙ্ল আগল।
      মৃত্যু-গহন অন্ধ-কূপে
      মহাকালের চণ্ড-রূপে–
                ধূম্র-ধূপে
বজ্র-শিখার মশাল জ্বেলে আস্ছে ভয়ঙ্কর–
      ওরে ঐ হাস্ছে ভয়ঙ্কর!
      তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!
      তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!!

ঝামর তাহার কেশের দোলায় ঝাপ্টা মেরে গগন দুলায়,
সর্বনাশী জ্বালা-মুখী ধূমকেতু তার চামর ঢুলায়!
      বিশ্বপাতার বক্ষ-কোলে
      রক্ত তাহার কৃপাণ ঝোলে
                দোদুল্ দোলে!
অট্টরোলের হট্টগোলে স্তব্ধ চরাচর–
      ওরে ঐ স্তব্ধ চরাচর!
      তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!
      তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!!

দ্বাদশ রবির বহ্নি-জ্বালা ভয়াল তাহার নয়ন-কটায়,
দিগন্তরের কাঁদন লুটায় পিঙ্গল তার ত্রস্ত জটায়!
      বিন্দু তাহার নয়ন-জলে
      সপ্ত মহাসিন্ধু দোলে
                       কপোল-তলে!
বিশ্ব-মায়ের আসন তারি বিপুল বাহুর `পর–
      হাঁকে ঐ ’জয় প্রলয়ঙ্কর!
      তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!
      তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!!

মাভৈ মাভৈ! জগৎ জুড়ে প্রলয় এবার ঘনিয়ে আসে!
জরায়-মরা মুমূর্ষদের প্রাণ লুকানো ঐ বিনাশে!
      এবার মহা-নিশার শেষে
      আস্বে ঊষা অরুণ হেসে
                        করুণ বেশে!
দিগম্বরের জটায় লুটায় শিশু চাঁদের কর,
      আলো তার ভর্বে এবার ঘর।
      তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!
      তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!!

ঐ সে মহাকাল-সারথি রক্ত-তড়িত-চাবুক হানে,
রণিয়ে ওঠে হ্রেষার কাঁদন বজ্র-গানে ঝড়-তুফানে!
খুরের দাপট তারায় লেগে উল্কা ছুটায় নীল খিলানে!
                    গগন-তলের নীল খিলানে।
      অন্ধ করার বন্ধ কূপে
      দেবতা বাঁধা যজ্ঞ-যূপে
                          পাষাণ স্তূপে!
এই তো রে তার আসার সময় ঐ রথ-ঘর্ঘর–
      শোনা যায় ঐ রথ-ঘর্ঘর।
      তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!
      তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!!

ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর? –প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন!
আসছে নবীন– জীবন-হারা অ-সুন্দরে কর্তে ছেদন!
      তাই সে এমন কেশে বেশে
      প্রলয় বয়েও আস্ছে হেসে–
                           মধুর হেসে!
ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চির-সুন্দর!
      তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!
      তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!!

ঐ ভাঙা-গড়া খেলা যে তার কিসের তবে ডর?
      তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!–
      বধূরা প্রদীপ তুলে ধর্!
কাল ভয়ঙ্করের বেশে এবার ঐ আসে সুন্দর!–
      তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!
      তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!!
***
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!!
ঐ নূতনের কেতন ওড়ে কাল্-বোশেখির ঝড়।
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!!
***

শুভ নববর্ষ কবিতা | রবীন্দ্রনাথের নতুন বছরের কবিতা

শুভ নববর্ষ
         - মোঃ মাসুদ হাছান

নতুন বছর নতুন সন ,
ভাবনা মনে প্রতিক্ষণ।
নতুন শাড়ি বছর ফারি,
বৈশাখ তুমি আসলে ফিরি।

নতুন ধান মুগ্ধ প্রাণ ,
ফুলের বুকে মিষ্টি ঘ্রাণ।
নতুন কুঁড়ি দেখতে ভারি ,
আসতে কেন করলে দেরি।

বৃষ্টি কণা তুলছে পনা ,
নতুনত্বের আনাগোনা।
মেঘলাকাশে মেঘের ভেসে ,
নতুন বছর আসলো হেসে।

ঢাকের তানে বাউল গানে ,
ভ্রমর উড়ে ফুলের বনে।
কোকিল ডাকে কুড়ির ফাকে,
চাষির চোখে স্বপ্ন দেখে।

কাস্তে হাতে মাথায় ছাতে,
পান্তা ইলিশ সবার পাতে।
বটের মূলে সরষে ফুলে,
কৃষ্ণ চূড়া লম্বা চুলে।

বসছে মেলা কত খেলা ,
সারা গায়ে পথের ধুলা।
পান্তা তালে লংকা জলে,
মন ছুটে যায় খেলার চলে।

ভ্রমর ফুলে মধু তুলে,
দখিনা বাতাসে হেলে দোলে।
করতে বরণ সব আয়োজন,
একতারাতে গানের ভুবন।

মেলা বসে বেলা শেষে,
গয়না চুরি কিনতে এসে।
ছোট-বড় সবাই জড়ো,
গরীব ধনী হিংসা ছাড়ো।

গায়ের বধু হাসে মৃদু ,
হলদে শাড়ি করলো জাদু।
মেঘের গর্জন বৃষ্টি বর্ষণ,
আম কুড়াতে ছুটে এই মন ।

নতুন পানি কলকলানি,
খালে বিলে থৈথৈ ধ্বনি।
ধানের আর্ষে প্রাণের স্পর্শ,
সবাইকে জানাই শুভ নববর্ষ।
***
শুভ নববর্ষ
  - মোহাম্মদ সফিউল হক

পহেলা বৈশাখ, অসাধারণ একটি দিন
নতুনের আহ্বানে চির তরুণ,চির নবীন।
বৈশাখ মানে নববর্ষের উদ্ভোধন,
নাচে গানে কবিতায় ভরা বর্ষবরণ।
বৈশাখ মানে মুছে ফেলা পুরনো সকল ভুল,
বৈশাখে হোক সত্যের জয় অন্যায় হোক নির্মূল।

বৈশাখ আমার পরিচয়, পুলকিত হর্ষ।
পহেলা বৈশাখে জানাই ‘শুভ নববর্ষ’।
***
শুভ নববর্ষ 
    - সংঘমিত্রা পাল

জীর্ণ  পুরাতন যা কিছু  ছেড়ে এস পিছে
শেষ হয়ে গেছে যা আঁকড়ে থেকোনা মিছে।

অভিমান যদি কিছু থাকে মনের কোণে 
মুছে ফেলো দুঃখ বেদনা চৈত্রের বিদায়লগ্নে। 

জরাজীর্ণ পাতা ঝরে যায় যাক
ম্লান পলাশ পরের বসন্তের আশাটুকু নিয়ে থাক । 

স্বজন হারানোর ব্যথা বিচ্ছেদের যন্ত্রণা ভয়াবহ 
জীবন থেমে থাকে না,আসবে নতুনের প্রবাহ। 

চৈত্রের অবসানে করুণ বিদায়ী সুর বাজে,
কচি কিশলয়র আগমনে পর্ণমোচী নতুন করে সাজে।

বৈশাখী প্রভাতে নতুন সুরে বাঁধ গান
নতুন করে স্বপ্ন এঁকে জীবন ক্যানভাসে জাগাও প্রাণ ।
***
শুভ নববর্ষের কবিতা 
            - লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী

শুভ নববর্ষ আজি, পয়লা বৈশাখ,
পুরাতন গ্লানি যত সব মুছে যাক।
আজি শুভ নববর্ষে পাখি গীত গায়,
অজয়ের জলে রবি কিরণ ছড়ায়।

পুস্পিত কাননে হেরি সব কলি ফুটে,
বর্ষ বরণেতে গৃহে শঙ্খ বেজে উঠে।
আসিল নুতন বর্ষ, নুতন পোশাক,
শুভ নববর্ষ আজি, পয়লা বৈশাখ।

বন্দীদশা সকলের শুন সর্বজন,
শুভ নববর্ষে তবু প্রফুল্লিত মন।
কবিতার আসরের যত কবিগণ,
নববর্ষের শুভেচ্ছা করিও গ্রহণ।
গৃহে বন্দী থাকি করো বর্ষরে বরণ,
কবিতায় লিখে কবি শ্রীমান লক্ষ্মণ।
***

জীবনানন্দ দাশের নববর্ষের কবিতা | রবীন্দ্রনাথের নতুন বছরের কবিতা

ঘুমিয়ে পড়ব আমি একদিন
তোমাদের নক্ষত্রের রাতে
শিয়রে বৈশাখ মেঘ সাদা
যেন কড়ি শঙ্খের পাহাড়
***
‘বৈশাখের মাঠের ফাটলে 
এখানে পৃথিবী অসমান।  
আর কোনো প্রতিশ্রুতি নেই।  
কেবল খড়ের স্তূপ পড়ে আছে দুই-তিন মাইল
তবু তা সোনার মতো নয়;
কেবল কাস্তের শব্দ পৃথিবীর কামানকে ভুলে 
করুণ, নিরীহ, নিরাশ্রয়। ’
***
‘এসো এসো ওগো নবীন, 
চলে গেছে জীর্ণ মলিন-
আজকে তুমি মৃত্যুবিহীন 
মুক্ত সীমারেখা। ’
***

সুকুমার রায়ের নববর্ষের কবিতা | রবীন্দ্রনাথের নতুন বছরের কবিতা

গ্রীষ্ম (ঐ এল বৈশাখ))
- সুকুমার রায়

ঐ এল বৈশাখ, ঐ নামে গ্রীষ্ম,
খাইখাই রবে যেন ভয়ে কাঁপে বিশ্ব !
চোখে যেন দেখি তার ধুলিময় অঙ্গ,
বিকট কুটিলজটে ভ্রুকুটির ভঙ্গ,
রোদে রাঙা দুই আঁখি শুকায়েছে কোটরে,
ক্ষুধার আগুন যেন জ্বলে তার জঠরে !
মনে হয় বুঝি তার নিঃশ্বাস মাত্রে
তেড়ে আসে পালাজ্বর পৃথিবীর গাত্রে !
ভয় লাগে হয় বুঝি ত্রিভুবন ভস্ম-
ওরে ভাই ভয় নাই পাকে ফল শস্য !
তপ্ত ভীষণ চুলা জ্বালি নিজ বক্ষে
পৃথিবী বসেছে পাকে, চেয়ে দেখ চক্ষে,-
আম পাকে, জাম পাকে, ফল পাকে কত যে,
বুদ্ধি যে পাকে কত ছেলেদের মগজে !
***

শেষ কথাঃ রবীন্দ্রনাথের নতুন বছরের কবিতা - নজরুলের নববর্ষের কবিতা

বন্ধুরা, আজ আমরা রবীন্দ্রনাথের নতুন বছরের কবিতা - নজরুলের নববর্ষের কবিতা নিয়ে আলোচনা করেছি। আমাদের এই পোস্টে রবীন্দ্রনাথের নতুন বছরের কবিতা, নজরুলের নববর্ষের কবিতা, শুভ নববর্ষ কবিতা, জীবনানন্দ দাশের নববর্ষের কবিতা ও সুকুমার রায়ের নববর্ষের কবিতা দেওয়া হয়েছে।
আশা করি, আমাদের আজকের এই রবীন্দ্রনাথের নতুন বছরের কবিতা - নজরুলের নববর্ষের কবিতা পোস্টটি আপনাদের ভালো লাগবে। এবং এই পোস্টের মাধ্যমে একেক সময় একেক কবির নববর্ষ নিয়ে লিখা কবিতা গুলো পড়তে পারবেন। ধন্যবাদ।

পরিচিতদেরকে জানাতে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

অর্ডিনারি আইটি কী?