অর্ডিনারি আইটি https://www.ordinaryit.com/2021/11/game.html

গেম খেলে টাকা আয় বিকাশে 2021 - গেম খেলে টাকা ইনকাম

গেম খেলে টাকা আয় করে বিকাশে 2021 পেমেন্ট বুঝে নিন। গেম খেলে টাকা ইনকামে নিয়ম জানুন। বাংলাদেশে কোন গেম খেলে টাকা আয় করা যায় দেখুন। গেম খেলে টাকা আয় app সম্পর্কে জানুন।


বর্তমান পুঁজিবাদী বিশ্বে একটি কথা স্পষ্ট ভাবে আমরা সকলেই জানি তা হলো- অর্থ উপার্জনের সহজ কোন পন্থা নেই। কাজের বিনিময়ে অর্থ আসে। তথ্য ও প্রযুক্তির ক্রমবিকাশের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের বিভিন্ন রকম রাস্তা আমাদের সামনে প্রতিনিয়ত তৈরী হচ্ছে। গতানুগতিক কাজের বাইরে গিয়েও এখন অর্থ উপার্জন সম্ভব।

এমনকি ঘরে বসেই পর্যাপ্ত পরিমান অর্থ আয়ের উৎস তৈরী হয়েছে এবং ক্রমাগত এর পরিমাণ বেড়েই চলেছে। ঘরে বসে মোবাইলে অথবা কম্পিউটারে গেম খেলেও টাকা আয় করা সম্ভব যা হয়তো কিছু বছর আগে পর্যন্ত কেউ ভাবতেই পারতো না।

ছাত্র/ছাত্রীদের জন্য পার্ট টাইম জব বলতে আমাদের দেশে টিউশন, কমিউটিনি ওয়ার্ক, সেলস ম্যান হিসেবে কাজ করা ইত্যাদি প্রচলিত রয়েছে। ভিডিও গেমস খেলাকে এখনও সময় নষ্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং খুব জোড়ালোভাবে নিষেধ করা হয়।

যুগ পরিবর্তন হয়েছে তার সাথে প্রযুক্তির অভাবনীয় ক্রমবিকাশের জন্য অনলাইনে ভিডিও গেম খেলেও খুব ভালো পরিমাণ অর্থ উপার্জন করা যায় এবং চাইলে প্রোফেশনাল গেমিং পেশা হিসেবেও নেওয়া যায়। এই আর্টিকেলটিতে সঠিক উপায়ে  অনলাইনে গেম খেলে কিভাবে টাকা আয় করা যায় তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

গেম খেলে টাকা আয় করার যোগ্যতা - গেম খেলে টাকা আয় বিকাশে 2021

বাস্তব জীবনে হোক বা অলনাইন দুনিয়া টাকা আয় করার জন্য প্রয়োজন কর্মদক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা। গেম খেলে টাকা আয় করতে চাইলেও সেই গেম সম্পর্কে আপনার পর্যাপ্ত পরিমাণ দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজন। 

অনেকেই হয়তো আপনাকে সহজ উপায়ে অনলাইনে গেম খেলে টাকা আয় করার প্ররোচণা দেখাবে সেক্ষেত্রে আপনি সেই প্রস্তাবকে সম্পূর্ণ জালিয়াতি হিসেবে গণ্য করবেন। একটি কথা মনে রাখবেন কোন প্রতিষ্ঠান আপনাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ কাজ ব্যতীত টাকা দিবে না। 

আপনি গেম খেলেই হোক না কেন, যে টাকা আয় করছেন তা আসছে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে সুতরাং, আপনি যে পরিমাণ কাজ তাদের জন্য করবেন সেই পরিমাণ টাকা তারা আপনাকে পরিশোধ করবে।

I. গেম খেলে টাকা আয় চাইলে আপনাকে গেম সম্পর্কে পর্যাপ্ত পরিমাণ দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
II. আপনি যেই ধরনের গেম খেলে টাকা আয় করতে ইচ্ছুক সেই ধরনের গেম সম্পর্কিত সকল তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলো খুব ভালো ভাবে অধ্যায়ন করতে হবে। 
III. গেম খেলে টাকা আয় করছে এমন মানুষদের সঙ্গে আলোচনা করে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। 
IV. অধিক অনুশীলনের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন আপনার আয়ের পথ সুগম করবে। 
V. যেকোন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি চাইলেই এই পেশায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনার কাজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা ব্যতীত অন্য কোন বাধ্যবাধকতা অথবা প্রতিবন্ধতার সম্মুখীন হতে হবে না। 

গেম খেলে টাকা আয় করার জন্য কি কি প্রয়োজন - গেম খেলে টাকা ইনকাম

বর্তমানে সারা বিশ্বে প্রায় ২.৮১ বিলিয়ন গেমার্স রয়েছে। এই সংখ্যাটি থেকে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন যে গেমিং ইন্ডাস্ট্রি কত বিশাল আকারে পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে রয়েছে। 

তাই এখান থেকে টাকা ইনকাম করার করা জন্য আপনাকে কিছুটা প্রতিযোগীতার সম্মুখীন হতে হবে। তবে ভয় নেই দক্ষতা থাকলে আপনি অনায়াসে প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবেন।

প্রযুক্তির সহজলভ্যতার জন্য প্রচুর অনলাইন ফ্রি গেমিং এপ্লিকেশন পাওয়া যায় যেখান থেকে আপনি টাকা ইনকাম করতে পারবেন বলে ভুয়া প্রচারণা চালানো হয়। 

এছাড়াও ইউটিউবে এমন অনেক সস্তা টিপস এবং ট্রিক্স পাবেন যেখানে দেখানো হবে প্লে স্টোর থেকে ফ্রি গেম ডাউনলোড করে আপনি মাসে ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবেন। এগুলো সবই নিছক ধোঁকাবাজি ব্যতীত আর কিছুই নয়। 

কিছু অনলাইন গেমিং এপ্লিকেশন রয়েছে যেগুলো মোবাইল অথবা কম্পিউটারে ইনষ্টল করে রেফার করলে কিছু পয়েন্টস পাওয়া যায়। সেই পয়েন্টস গুলো অন্যান্য গেমারদের কাছে বিক্রি করে কিছু টাকা আয় করা যায়। তবে সেক্ষেত্রে আপনি মাসে ১০০ টাকার বেশি আয় করতে পারবেন না। 

তাহলে এখন প্রশ্ন হচ্ছে কিভাবে আপনি প্রোফেশনার গেমার হিসেবে আপনার যাত্রা শুরু করবেন এবং কি কি প্রয়োজন? এক্ষেত্রে আসলে প্রয়োজনের কোন শেষ নেই তবে নতুন অবস্থায় কি কি প্রয়োজন তার একটি তালিকা তৈরী করা যায়।
  1. অনলাইনে গেম খেলে টাকা আয় করতে সর্বপ্রথম এবং সর্বপ্রধান যে জিনিস দুটি প্রয়োজন তা হলো আপনার ইচ্ছাশক্তি এবং ধৈর্য। গেম খেলার বিষয়ে আপনার শতভাগ ইচ্ছাশক্তির প্রয়োজন। ক্যারিয়ারের শুরুরদিকে আপনাকে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে অনুশীলন করতে হবে ইচ্ছাশক্তি ব্যতীত আপনি এগিয়ে যেতে পারবেন না। আরও প্রয়োজন ধৈর্য ধারন করার ক্ষমতা। একটি লম্বা সময় পর্যন্ত আপনি সফলতার মুখ দেখবেন না। সেই অবস্থায় আপনাকে ধৈর্য ধরে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। তাহলেই অবশ্যই সফল গেমার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবেন।
  2. শুরুতে আপনাকে একটি ভালো মানের কম্পিউটার অথবা মোবাইল কিনতে হবে। নিরাশ হবেন না। এই মোবাইল বা কম্পিউটারকে আপনি আপনার কাজের বিনিয়োগ হিসেবে ধরে নিন। বর্তমানে বাজারে মাঝামাঝি বাজেটের মধ্যেই খুব ভালো মানের মোবাইল এবং কম্পিউটার কিনতে পাওয়া যায়। খেয়াল রাখতে হবে, আপনি প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে টাকা আয় করতে চাচ্ছেন সুতরাং প্রযুক্তিগত পণ্যের জন্য খরচ করতেই হবে।

    → মাত্র ৪০ হাজার টাকার মধ্যে গেমিং কম্পিউটার কিভাবে বানাবেন তা জানতে এই লেখাটি পড়ুন
    → অবিশ্বাস্য কম বাজেটেই তৈরী করা যায় গেমিং পিসি, Click Here

  3. ভালো মানের ইন্টারনেট সংযোগ থাকা অত্যাবশ্যক। একটু বাড়তি স্পিডের ইন্টারনেট আপনাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। এক্ষেত্রে আপনি একটি ভালো মানের রাউটার কিনে নিতে পারেন এবং ভালো ব্রডব্যান্ড প্রোভাইডার সার্ভিস গ্রহন করুন। এতে করে আপনাকে অযথা ঝামেলা পোহাতে হবে না। 
  4. অবশ্যই ভালো গেমিং কনসোল প্রয়োজন। কনসোলগুলো যেহেতু শুধুমাত্র গেমিং-এর জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করে বানানো হয় তাই মসৃণভাবে গেম খেলা যায়। 
  5. এবার আপনার প্রয়োজন একটি ভালো মানের স্ক্রিন রেকর্ডিং এপ্লিকেশন। ব্যবহারের পূর্বে চাইলে আপনি অভিজ্ঞ গেমারদের মতামত নিয়ে নিতে পারেন। কোন এপ্লিকেশনটি একাধারে ভালো রেজ্যুলেশন, সঠিক কালার, পরিপূর্ণ সাউন্ড প্রদান করে তা প্রফেশনাল গেমারদের কাছ থেকে জেনে নাওয়া ভালো। 
  6. ভিডিও এডিটিং সম্পর্কে বেসিক নলেজ থাকলে খুব ভালো হয় এবং না থাকলেও খুব একটা সমস্যা নেই। অনেক প্রফেশনাল গেমার তাদের গেমিং এর ভিডিং এডিট না করেই প্রকাশ করে থাকে। 
প্রফেশনাল গেমার হওয়ার শুরুতে এর চেয়ে বেশি কিছুর প্রয়োজন নেই। তবে যদি আপনার বাজেট বেশি থাকে তাহলে নান্দনিকতা বাড়ানোর জন্য আপনি আকর্ষনীয় একটি কম্পিউটার টেবিল এবং আর জি বি লাইট ইনষ্টল করে নিতে পারেন। 

যেকোন কাজ করার জন্য কাজের পরিবেশ অনেক গুরুত্বপূর্ন। তবে যাই হোক, আপনার বেসিক প্রয়োজনীয় সবকিছু একত্রে হয়ে গিয়েছে এবার আপনি শুরু অনুশীলন করে দক্ষতা অর্জন করবেন। কারন, পরের অংশগুলোকে গেম খেলে কিভাবে টাকা আয় করা যায় তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা থাকবে। 

গেম খেলে টাকা আয় করার উপায়সমূহ - গেম খেলে টাকা কামানোর উপায়

একজন গেমার হিসেবে আত্মপ্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় অনুশীলন শেষ করার পর এবার আপনাকে অর্থ উপার্জনের জন্য গেম খেলতে হবে। 

আপনার সমস্ত অর্থ এবং সময় যা আপনি বিনিয়োগ করেছেন সেসব উশুল করতে হবে। যেহেতু এই আর্টিকেলটিতে সম্পূর্ণ সঠিক উপায়ে অনলাইনে গেম খেলে টাকা ইনকাম করার উপায় সমূহ আলোচনা করা হবে, সেহেতু উল্লেখিত প্রতিটি উপায়ই আপনাকে ভালো পরিমান টাকা আয় করতে সাহায্য করবে। 

১/ ইউটিউব গেমার হয়ে আয়ঃ গেম খেলে টাকা আয় বিকাশে 2021

বর্তমানে একজন গেমারের জন্য অনলাইন থেকে টাকা আয় করার সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে ইউটিউব (YouTube)। ইউটিউবে এখন প্রায় ৪০ মিলিয়নের মতো এক্টিভ গেমিং চ্যানেল রয়েছে। 

ইউটিউব গেমারদের জন্য অনেক সুবিধাও প্রদান করছে কেননা বিশ্বজুড়ে ইউটিউব গেমারদের চাহিদা দিন দিন বেড়ে চলেছে। একটি প্রারম্ভিক পর্যায়ের গেমিং চ্যানেলের ভিডিও গুলোতেও প্রায় মিলিয়নের কাছাকাছি ভিউ পাওয়া যায়। আমরা সকলেই জানি যে ইউটিউব ভিউ, সাবস্ক্রাইব, এড, ইত্যাদির উপড় ভিত্তি করে টাকা দিয়ে থাকে। 

একজন ইউটিউব গেমারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে অন্যান্য ইউটিউবারের মতো তাকে প্রতি ভিডিওর জন্য মানসিক সময় খরচ করতে হয় না। কিভাবে আপনি ইউটিউব গেমার হয়ে টাকা আয় করবেন? চলুন দেখে নেওয়া যাক। 
  • আপনার গেম খেলার ভিডিও রেকর্ড করে ইউটিউবে আপলোড করতে পারেন। একজন প্রফেশনাল গেমার হিসেবে আপনি কিভাবে গেম খেলছেন সেটি অনেকের জন্যেই দেখা প্রয়োজনীয় হতে পারে। বিশেষ করে নতুনদের জন্য আপনি পথ প্রদর্শক হিসেবে কাজ করতে পারেন। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সুবিধাটি হচ্ছে আপনাকে প্রতিটি ভিডিওর জন্য আলাদা আলাদা স্ক্রিপ্ট তৈরী করতে হবে না এবং আলাদা ষ্টুডিও, লাইটিং ইত্যাদির প্রয়োজন হবে না। আপনি একাধারে আপনার সখ এবং কাজ দুটোই করতে পারবেন। 
  • যে গেম গুলোতে আপনি অধিক দক্ষতা অর্জন করেছেন সেই গেম গুলোর কঠিন লেভেল গুলো কিভাবে শেষ করা যায় তা ভিডিও করে আপনার চ্যানেলে আপলোড করবেন। প্রতিটি গেমের কিছু ধাপ অনেক বেশি কঠিন হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে সকলে ইউটিউব দেখে সেই লেভেলগুলো শেষ করে। আপনি আপনার দক্ষতা দিয়ে সেই লেভেল গুলো শেষ করার টিউটোরিয়াল ভিডিও রেকর্ড করে চ্যানেলে আপলোড করলে খুব সহজেই আপনার চ্যানেল দর্শকদের আকর্ষন করবে। তবে একটি বিশেষ টিপস হচ্ছে, আপনি যদি টুকটাক ভিডিও এডিটিং জানেন তাহলে সম্পূর্ণ ভিডিওরে সাব-টাইটেল এবং প্রতিটি ধাপের সঠিক ইনষ্ট্রাকশন ভিডিওতে উল্লেখ করলে অনেক বেশি পরিমাণ ভিউ পাওয়া যাবে সাথে সাথে চ্যানেলের প্রতি দর্শকদের ভরসাও বাড়বে।
  • গেম রিভিউ করে চ্যানেলে খুব ভালো পরিমাণ ভিউ আনা যায়। একজন প্রফেশনাল ভিডিও গেমার প্রতিনিয়ত নতুন নতুন গেমের দক্ষতা অর্জন করে। আপনাকেও এই কাজটি করে যেতে হবে। গেম সম্পর্কিত সকল খবরা খবর রাখতে হবে। আপনার চ্যানেলের দর্শকদের জন্য সেই তথ্য ভিডিও আকারে প্রকাশ করতে হবে। এতে করে আপনার চ্যানেলটি চলমান থাকবে এবং অধিক পরিমাণ ভিউয়ার্স ও সাবস্কাইবার আসবে।
  • গেম খেলার সাথে সাথে কমেন্ট্রি করা। একজন দক্ষ গেমার হিসেবে আপনাকে জানতে হবে গেমের খুঁটিনাটি কোথায় কি রয়েছে এবং গেম খেলার সময়ই কমেন্ট্রি করে সেসব বলতে হবে আপনার ভিউয়ার্সদের জন্য। গেম খেলার সময় সেই গেমের কোথায় কোন টুইষ্ট রয়েছে, কোথায় কিভাবে আরও ভালো করে খেলা যায়, কোন বাটনের মাধ্যমে কি হয় ইত্যাদি সমস্ত কিছু আপনার ভিউয়ার্সদের জন্য গেম খেলার সাথে সাথে কমেন্ট্রি করুন তাহলে ভিউয়ার্সরা উৎসাহের সাথে ভিডিওটি দেখবে এবং আপনার চ্যানেলের লাইক ও সাবস্ক্রাইবার বাড়তে থাকবে। 
  • স্পনসরশিপ নিয়ে টাকা আয় করা। ভিডিও গেম সম্পৃক্ত টুলস এবং গ্যাজেটস কোম্পানীগুলো আপনাকে তাদের পণ্য ব্যবহার করার জন্য এবং ভিডিওতে রিভিউ দেওয়ার জন্য অনেক মোটা অঙ্কের টাকা প্রদান করবে। আপনার কাজ হবে তাদের পণ্যটি আপনার ভিউয়ার্সদের কাছে খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরা। 
ইউটিউব গেমার হিসেবে ইনকাম করতে হলে আপনাকে অবশ্যই উপড়ে উল্লেখিত সবগুলো কাজ নিয়মিত করতে হবে। তাহলেই আপনি খুব ভালো পরিমান টাকা আয় করতে পারবেন। 

ইউটিউব গেমার হিসেবে আয় করা টাকা কিভাবে - বাংলাদেশে কোন গেম খেলে টাকা আয় করা যায়

আপনার ইউটিউব গেমিং চ্যানেলে যখন নূন্যতম ১০০০ সাবস্ক্রাইবার পেয়ে যাবেন তখন আপনি ইউটিউব মোবিলাইজেশনের জন্য আবেদন করবেন। এখানে বলে রাখা ভালো, অভিজ্ঞ গেমার হিসেবে আপনার ইউটিউব চ্যানেলে ১০০০ সাবস্ক্রাইবার পেতে খুব বেশিদিন সময় প্রয়োজন হবে না। 

ইউটিউব মোবিলাইজেশন চালু করার সময়ই আপনাকে গুগল এডসেন্স একাউন্ট করতে হবে। তারপর আপনি যত টাকা আয় করবেন সমস্ত টাকা গুগল এডসেন্স একাউন্টে জমা হবে। 

যখন আপনার একাউন্টে ১০০ ডলার জমা হবে তখন গুগল এডসেন্স সয়ংক্রিয় ভাবে আপনার ব্যাংক একাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করে দিবে। গুগল এডসেন্স একাউন্ট খোলার সময় অবশ্যই আপনার ব্যাংক সংক্রান্ত তথ্য খেয়াল করে পূরন করবেন। ব্যাংকে টাকা আসার পর আপনি চাইলেই খুব সহজে সেই টাকা বিকাশে ট্রান্সফার করে আপনার সুবিধামত তুলে নিতে পারবেন। 

এফ্লিয়েট মার্কেটিং মানে স্পন্সরশিপ নিয়ে যেই টাকা আয় করবেন সেই টাকাও আপনার ক্লায়েন্ট আপনাকে ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করবে। এভাবেই আপনি ঝামেলা মুক্তভাবে অনলাইনে গেম খেলে টাকা আয় করতে পারবেন এবং সেই টাকা সুবিধামতো তুলতেও পারবেন। 

২/ গেমিং ব্লগ বা গেমিং ওয়েবসাইট তৈরী করে টাকা আয় - মোবাইলে গেম খেলে টাকা আয়

অনলাইনে গেম খেলার পাশাপাশি আপনি চাইলে নিজের নামে একটি গেমিং ওয়েবসাইট বা ব্লগ তৈরী করতে পারেন। সেখানে আপনি গেমিং নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কন্টেন্ট লিখে খুব ভালো পরিমাণ টাকা আয় করতে পারবেন। একটি ব্লগিং সাইট বা ওয়েবসাইট তৈরী করতে বর্তমানে খুব বেশি দক্ষতার প্রয়োজন হয় না। 

তবে আপনি চাইলে অর্ডিনারী আইটি থেকে নিজের পছন্দ মতো একটি ওয়েবসাইট তৈরী করে নিতে পারেন। অর্ডিনারী আইটি আপনাকে একটি সুন্দর অর্গানাইজড ওয়েবসাইট, সেই ওয়েবসাইটে প্রাসঙ্গিক কিছু আর্টিকেল এবং একটি নির্দিষ্ট পরিমান ট্রাফিক (ওয়েব সাইটে যারা ভিজিট করে) প্রদান করবে তাও খুবই অল্প বাজেটের মধ্যে। 
অর্ডিনারী আইটির সার্ভিস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

আপনি আপনার গেমিং ওয়েবসাইটে বা ব্লগে কি ধরনের আর্টিকেল লিখবেন। 
  1. গেম রিভিউঃ এজকন দক্ষ গেমার হিসেবে আপনি আপনার ওয়েবসাইটে বা ব্লগে আপনার দক্ষতা অনুযায়ী গেম সম্পর্কিত রিভিউ লিখতে পারেন। একজন প্রোফেশনাল ইউটিউব গেমার হিসেবে আপনার অনেক ফলোয়ার থাকবে। তারা আপনার মতামতকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মনে করবে। তাই আপনাকে ইউটিউবের পাশাপাশি ব্লগ বা ওয়েবসাইটে গেম নিয়ে বিভিন্ন রিভিও লিখতে হবে। 
  2. নিজের কথাঃ একজন প্রোফেশনাল গেমার হওয়ার জন্য আপনাকে কি কি অভিজ্ঞতার অর্জন করতে হয়েছে। কি ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। কিভাবে শুরু করলেন। এখন কিভাবে কাজ করছেন ইত্যাদি আত্মজীবন বিষয়ক লেখা ধারাবাহিকভাবে লিখতে পারেন। এতে করে নতুনরা অনেক উৎসাহিত হবে পাশাপাশি আপনার ফ্যান/ফলোয়ারের পরিমাণ বাড়বে। 
  3.  টিউটোরিয়ালঃ প্রোফেশনালভাবে গেম খেলা শেখানোর ফ্রি/পেইড কোর্স শুরু করতে পারেন। আপনার প্রাপ্ত শিক্ষা অন্য সবার কাছে ছড়িয়ে দিন তাহলে আপনার খ্যাতী বাড়বে। বাংলাদেশে এখন অনেক অনলাইন গেমার রয়েছে। কিন্তু গেমিং প্রশিক্ষকের সংখ্যা খুবই কম আদৌ আছে কিনা আমার জানা নেই। দর্শনের একটি প্রসিদ্ধ কথা আছে "Crisis is the mother of opportunity" এই সংকটকে কাজে লাগিয়ে চাইলে আপনিও রেভুল্যুশনারী কোন কাজ করে ফেলতে পারেন। 
  4.  সাম্প্রতিক তথ্যঃ আমরা সকলেই নিজের পছন্দের বিষয়ে নতুন বা পুরানো সমস্ত তথ্য জানতে পছন করি। আপনি আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গেমিং দুনিয়ার সমস্ত নতুন নতুন তথ্য আপনার পাঠক/পাঠিকাদের নিকট তুলে ধরতে পারেন। নতুন গেম, নতুন গেজেটস, নতুন কোন গেমের ট্রেইলার, গেমিং বাজারের খবর, গেমিং পণ্য কোথায় ভালো পাওয়া যায় ইত্যাদি সমস্ত খবরের আপডেট আপনি আপনার ফলোয়ারদের নিকট পৌঁছে দিতে পারেন। এতে করে আপনার ইউটিউব চ্যানেল এবং গেমিং ব্লগ বা ওয়েবসাইটের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে। 
  5. সাক্ষাতকারঃ বিশ্বের সনামধন্য সব গেমারদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের সাক্ষাৎকার। বড় বড় গেমিং প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাৎকার নিয়মিত আপনি আপনার ব্লগ বা ওয়বসাইটে প্রকাশ করতে পারেন। কেননা- অনেক সময় তারা ইউটিউবে তাদের সাক্ষাৎকার প্রচারে নিষেধ করে থাকে। আপনার প্রকাশিত সাক্ষাৎকার দেশের অন্য সব গেমারদের জন্য সুফল বয়ে আনবে।
কিভাবে একটি মান সম্মত আর্টিকেল লিখবেন তা জানতে এই টিউটোরিয়ালটি দেখুন

উপড়ে বর্নিত কাজ গুলোর মাধ্যমে আপনি অতি অল্প সময়ে একটি সুপরিচিত ব্লগ বা ওয়েবসাইট তৈরী করতে পারবেন। একটি ভালো ব্লগ বা ওয়েবসাইট তৈরী করে মাসে প্রায় লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা যায়। যখনই আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইট অনেক বেশি ট্রাফিক পেতে শুরু করবে তখন আপনি গুগল এডসেন্সে যুক্ত হয়ে ইনকাম করা শুরু করতে পারবেন। 

৩/ ই-স্পোর্টস হতে পারে আপনার আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস - অনলাইনে গেম খেলে টাকা আয়

গত এক দশকে বিশ্বে যে কয়টি শিল্প খুব দ্রুত এগিয়েছে তার মধ্যে ই-স্পোর্টস অন্যতম। বিশ্বের প্রায় লাখো মানুষ পেশা হিসেবে ই-স্পোর্টস বেছে নিয়েছেন কেননা আয়ের দিক থেকে অনেক উচ্চ পদস্থ চাকরীর থেকেও ই-স্পোর্টসের আয় বেশি। 

অনলাইনভিত্তিক কম্পিউটার কিংবা মোবাইল গেমিং টুর্নামেন্টগুলোকে বলা হয় ইলেকট্রনিক স্পোর্টস বা ই-স্পোর্টস। পশ্চিমা দেশগুলোতে বড় বড় মিলনায়তন ও স্টেডিয়ামে জাকজমকভাবে এসব টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া গেমারদের বলা হয় পেশাদার ই-স্পোর্টস খেলোয়াড়। 

তারা দলগত কিংবা এককভাবে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারেন। অনেকক্ষেত্রে এই টুর্নামেন্টগুলোর প্রাইজ মানি অনেক বড় বড় স্পোর্টস টুর্নামেন্টের প্রাইজ মানির পরিমাণ থেকেও বেশি। ই-স্পোর্টসম্যানরা খ্যাতনামা ফুটবল, ক্রিকেট, বাস্কেটবল খেলোয়ারদের মতোই জনপ্রিয়তা পায়।আমাদের পার্শ্ববর্তী অনেক দেশ ই-স্পোর্টসকে স্বীকৃতি দিলেও বাংলাদেশ এখনও পুরোপুরি এই নতুন শিল্পের সাথে অভ্যস্থ হতে পারেনি। 

তবে বাংলাদেশেও কিছু জাগ্রত তরুনের হাত ধরে দেশে ই-স্পোর্টস শিল্প পরিচিতি পাচ্ছে। পাবজি এবং ফ্রি ফায়ার বিশ্বের অতি পরিচিত দুটি অনলাইন গেমের মাধ্যমে বাংলাদেশ ই-স্পোর্টস শিল্প নিয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে। কয়েকবছরের মধ্যেই দুটো গেমের বিশ্বকাপ বলে খ্যাতি অর্জন করা প্রতিযোগিতার ফাইনালে পৌঁছেছে বাংলাদেশি তরুণরা। পাবজি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশি দল 'এ-ওয়ান' ই-স্পোর্টস দুবাই গিয়েছিলো। 

অন্যদিকে ফ্রি-ফায়ারের বিশ্বকাপে টিম 'রায়োট' করোনা ভাইরাসের কারণে সিঙ্গাপুর যেতে পারেনি। উভয় টুর্নামেন্টের প্রাইজমানি ছিল ১৬ থেকে ১৭ কোটি টাকা। বাংলাদেশেও এমন ই-স্পোর্টস প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, পাবজি মোবাইল ক্যাম্পাস চ্যাম্পিয়নশিপ-পিএমসিসি নামে দুইটি টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে। প্রতিযোগীতাটির প্রাইজমানি ছিলো ২৫ লাখ টাকা। 

উপড়ে লিখিত সমস্ত তথ্য থেকে এ কথা স্পষ্ট, প্রোফেশনাল হিসেবে অনেক বেশি পরিমাণ আয়ের পথ রয়েছে। আপনাকে শুধু অনুশীলন করে অধিক থেকে অধিকতর দক্ষতা অর্জন করতে হবে। আবারও বলছি, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা ছাড়া আপনি অনলাইনে গেম খেলে কোন টাকা আয় করতে পারবেন না। 

৪/ কাজ করতে পারেন গেমিং কোম্পানীর হয়ে - গেম খেলে টাকা আয় বিকাশে 2021

বিশ্বের বড় বড় গেমিং কোম্পানী কোন নতুন গেম বাজার আনার পূর্বে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের গেমারদের দিয়ে সেই গেম টেষ্ট রান করিয়ে নেয় এই কাজ যারা করে তাদেরকে বলা হয় 'গেম টেষ্টার'। 

আপনিও গেম টেষ্টার হয়ে নতুন গেম খেলে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি অভিজাত অঙ্কের টাকা আয় করতে পারবেন। মূলত, নতুন কোন গেম বাজারজাতকরনের পূর্বে গেমের সব ধরনের প্রোগ্রাম ঠিকভাবে কাজ করছে কিনা, গেমের কোন ধরনের ক্রুটি রয়েছে কিনা তা জানার জন্যেই প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অভিজ্ঞ গেমারদের নিযুক্ত করে। 

অন্যান্য দেশের তুলনায় প্রযুক্তিগত অগ্রগতি কম থাকায় আমাদের মাথায় একটি প্রশ্ন এসেই যায়।
বাংলাদেশের গেমারদেরও কি গেম টেষ্টা হিসেবে নেওয়া হয়? 

প্রথমত গেম টেষ্টার হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত টেকনিক্যাল জ্ঞানের প্রয়োজন হয়। যেহেতু বাংলাদেশে গেমারদের কোন প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি নেই সেহেতু আপনাকে নিজের আগ্রহে গেম সম্পর্কিত সেসব টেকনিক্যাল পড়াশুনা করতে হবে। 

যদি আপনি যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন তাহলে অবশ্যই আপনি গেম টেষ্টার হিসেবে কাজ করতে পারবেন। কেননা, গেম টেষ্টার বিষয়ক কাজ গুলো ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট গুলোতে পাওয়া যায়। 

সুতরাং, আপনার প্রোফাইল যত ভারী হবে, গেম টেষ্টার হিসেবে কাজের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি হবে। 

৫/ টুইচ গেমার হিসেবে টাকা আয় করা - গেম খেলে টাকা ইনকাম করার অ্যাপস

টুইচ (Twitch)  হলো একটি মার্কিন ভিডিও গেম লাইভ ষ্ট্রিম চ্যানেল যা মূলত ই-স্পোর্টস সম্প্রচারের কাজে ব্যবহৃত হয়। ইউটিউবের মতো এখানেও আপনি ভিডিও গেমের ভিডিও আপলোড করতে পারবেন। 

তবে ইউটিউবের চেয়েও টুইচের নিয়ম নীতি অনেক শিথিল। কিছু প্রয়োজনীয় শর্ত পূরন করে সহজেই ইনকাম শুরু করা যায়। 
  • এক মাসে অন্তত ৫০০ মিনিট আপনার ভিডিও ওয়াচ টাইমে থাকলেই আপনার ভিডিও মনিটাইজেশনে যাবে। 
  • এক মাসে নূন্যতম ৭টি ভিডিও আপলোড করতে হবে। 
  • শুধুমাত্র ৫০ জন ফলোয়ার থাকলেই আপনার ভিডিও মনিটাজেশন হবে। 
অনলাইনে ভিডিও গেম খেলে লাইভ ষ্ট্রিম করার মাধ্যমে আপনি ফলোয়ার বাড়াতে পারবেন। গেমিং দুনিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় এই চ্যানেলে আপনি বিশ্বের নামকরা সব গেমার সাথে কমিউনিটি তৈরী করতে পারবেন এতে করে আপনার অভিজ্ঞতাও বাড়বে। এই চ্যানেলে ভিডিও গেম লাইভ ষ্ট্রিম করে গেম উপভোগ করার পাশাপাশি টাকা আয় করতে পারবেন। 

আশাকরি আর্টেলটি থেকে আপনারা কিভাবে অনলাইনে গেম খেলে টাকা আয় করা যায় সে সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ধারনা পেয়েছেন। বাংলাদেশে বেকারত্বের হার দিন দিন বাড়ছে কারন শিক্ষিত জনসংখ্যা পরিমাণও উর্ধ্বমূখী। 

এই অবস্থায় গতানুগতিক চাকরীর বাজারের প্রতিযোগীতায় সময় নষ্ট না করে প্রযুক্তিগত কাজ প্রাধান্য দিন। কেনন আগামী বিশ্ব হতে চলেছে আপাদমস্তক প্রযুক্তি নির্ভর। 

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

অর্ডিনারি আইটি কী?