অর্ডিনারি আইটি https://www.ordinaryit.com/2021/08/smartphone.html

নতুন স্মার্টফোন কেনার পর ৭ টি অবশ্যই করণীয় কাজ

নতুন স্মার্টফোন কিনেছেন? কিংবা কিছু দিনের মধ্যে কিনবেন এই প্রস্তুতি নিচ্ছেন? তাহলে দেরি না করে কিনেই ফেলুন আপনার শখের সেই স্মার্ট ফোন।

বাজারে নতুন স্মার্টফোন আসা মাত্রই আমাদের বিশেষ আকর্ষণ সৃষ্টি হয় এবং কেনার জন্য মরিয়া হয়ে উঠি। কিন্তু মোবাইল কেনার পরে আমরা যেমন অনেক এক্সাইটেড থাকি ঠিক তেমনি আবার সংশয় প্রকাশ করি কোনটা ভালো বা মন্দ বুঝে উঠতে পারি না।

আমরা অনেকেই জানি না আমাদের মোবাইল ফোন কেনার পরে কোন বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হয়? প্রথমে কিভাবে এর যত্ন নিতে হয়?

যেমন অতি সম্প্রতি আমাকে ব্যক্তিগত এবং অফিশিয়াল কাজের জন্য নতুন একটি স্মার্টফোন কিনতে হয়েছে। যেহেতু মোবাইল ব্র্যান্ড পরিবর্তন করেছি তাই প্রথম দিকে অনেক সমস্যা হয়েছিল। 

কিভাবে আমার নতুন স্মার্টফোনের যত্ন নিবো? কেনার পরে আমাকে কি কি কাজ করতে হয়েছে? জ্বী, তা শেয়ার করার জন্যই আমি আজ কি-বোর্ডে হাত দিয়েছি।

তাদের জন্যই আমার এই আর্টিকেল যেখানে আমরা নতুন স্মার্টফোন কেনার পর অবশ্যই করণীয় কাজ সম্পর্কে জানবো। তাহলে কথা না বাড়িয়ে চলুন, শুরু করি। 

আই এম ই আই নম্বর সংরক্ষণ

মোবাইলের আই এম ই আই নাম্বার সংরক্ষণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ, যা আমরা অনেক সময় আমাদের ভুলে বা অন্য কোন কারণে অবহেলা করে থাকি। মোবাইল কেনার  সময় মোবাইলের প্যাকেজ বা বক্সের সাথে  এই আই এম ই আই নাম্বার উল্লেখ করা থাকে।

মোবাইল এর এই আইএমইআই নাম্বার আপনাকে  আপনার প্রয়োজনে অবশ্যই  সংরক্ষণ করতে হবে। এই সংরক্ষন হতে পারে যেমন আপনার ই-মেইল একাউন্টে বা অন্য কোন ডিজিটাল ডকুমেন্ট । এমনকি প্রয়োজনে তা কোথাও লিখে রাখতে পারেন। যা পরবর্তীতে আপনার জরুরী প্রয়োজনে কাজে লাগছে পারে। 

যেমন ধরুন আপনার মোবাইল হারিয়ে গেলে বা চুরি,  ডাকাতি বা ছিনতাই হয়ে গেলে  আপনি এই আইএমইআই নাম্বার নিয়ে থানায় জিডি বা মামলা করতে পারেন।  আপনার যদি এই আই এম ই আই নাম্বার হারিয়ে যায় বা সংরক্ষণ করতে না পারেন তাহলে থানায় গিয়ে আপনি জিডি বা মামলা করতে পারবেন না।  আপনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা স্বার্থে এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ যা ভবিষ্যতে আপনাকে   যেকোনো  জটিল পরিস্থিতি বা সমস্যা সমাধানে সাহায্য করবে। 

তাই অনেক সময় দেখবেন বক্সের মধ্যে আই এম  ই আই  নম্বর নাও থাকতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আনঅফিসিয়াল এবং অবৈধ  মোবাইল ফোনে প্যাকেটে আপনি আই এম ই নাম্বার নাও পেতে পারেন। 

সবচেয়ে উত্তম হয়,  মোবাইল কেনার সময় যখন  এই আই এম আই নম্বরের মাধ্যমে আপনার  মোবাইল ফোনের বি টি আর সি বৈধতা যাচাই করবেন তখনই তা সংরক্ষন করুন। 

যদি আপনি মোবাইলের বক্সে বা  প্যাকেটে এই আইএমইআই নাম্বার খুঁজে না পান তাহলে আপনার মোবাইল  ডিভাইসের ডায়াল অপশনে গিয়ে *#06# নাম্বারে ডায়াল করলে আপনি আপনার  আইএমইআই নম্বরটি পেয়ে যাবেন।

একটা কথা  অবশ্যই মনে রাখবেন যেসব ফোনে দুইটা সিম ব্যবহার করা যায় সেসব  মোবাইলের ক্ষেত্রে  দুইটা আইএম ই  আই নম্বর  থাকে।  ডায়াল  অপশনের মাধ্যমে  আপনি যখন  আইএম ই আই নম্বর  পাবেন তা স্ক্রিনশট নিয়ে  ই-মেইল একাউন্ট, গুগল ড্রাইভ বা কোথাও লিখে সংরক্ষণ করতে পারে।  এই আইএমইআই সংরক্ষণ ভবিষ্যতে অনেক কাজে দিবে এবং আপনাকে নিরাপদ রাখবে।

গুগলের মাধ্যমে ডাটা ট্রান্সফার

আপনি যখন নতুন স্মার্টফোন কিনবেন তখন অবশ্যই আপনার ব্যবহৃত পুরাতন ফোনে ধাকা  সমস্ত ডাটা যেমন ছবি,  ভিডিও বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ফাইল  নতুন স্মার্টফোনে ট্রানস্ফার করবেন। 

এক্ষেত্রে আপনার কি করা উচিত?

সেক্ষেত্রে আপনি যদি আপনার ব্যক্তিগত জিমেইল একাউন্ট আছে তার সাথে নতুন মোবাইলে সিঙ্ক করে নিন। পুরাতন মোবাইলে আপনার ফোন নাম্বার  সংরক্ষণ রয়েছে বা যদি গুরুত্বপূর্ণ কোন মেসেজ  থাকে

এমনকি যদি গুগল ক্যালেন্ডারে আপনার কোন টু-ডু লিস্ট থাকে এই জিনিসগুলা যদি আপনি গুগলে সিঙ্ক  করে নিতে পারেন তাহলে আপনার জন্য সময় ডাটা ট্রান্সফার সবচেয়ে বেশি সুবিধার হবে।

পুরাতন  মোবাইল ফোনে  আপনি আপনার জিমেইল একাউন্টের সাথে সিঙ্ক করে নিন। তাহলে নতুন স্মার্ট ফোন অন করার পর আপনার  সেই জিমেইল একাউন্ট দেওয়ার সাথে সাথে আপনার পুরাতন মোবাইলে থাকা  সমস্ত ডাটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে আসবে। শুধু আপনাকে ইন্টারনেট এর মাধ্যমে এই সিঙ্ক করার অপশনটি চালু করে দিতে হবে।

সিকিউরিটি এক্সেস

নতুন মোবাইল চালু করার সাথে সাথে পিন, পাসওয়ার্ড বা প্যাটার্ন লক শুরুতেই  দিয়ে দিবেন। তার পাশাপাশি  যদি সম্ভব হয় তাহলে ফেইস আনলক সিস্টেমটি চালু করে দিতে পারেন।  যদিও কিছু কিছু মোবাইলের ক্ষেত্রে এই ফেইস  আনলক সিস্টেম  খুব একটা কার্যকারী না তাই আপনি ফেইস  আনলক থেকে বিরত থাকতে পারেন।  

তবে আপনি ফিঙ্গারপ্রিন্ট এর মাধ্যমে  ফোন  লক বা আনলক অপশন রাখতে পারেন।  সেক্ষেত্রে অবশ্যই চেষ্টা করবেন দুই  আংগুলের ফিঙ্গারপ্রিন্ট রাখার। কারণ আপনার কোন আংগুলে আঘাত বা ব্যথাজনিত কোন সমস্যা হলে অপর আংগুল দিয়ে কাজ চালিয়ে নিতে পারেন । 

ব্যাটারির চার্জ 

মোবাইল ফোন কেনার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে মোবাইল ফোনের  ব্যাটারি  চার্জ দেওয়া। তবে  সেক্ষেত্রে অবশ্যই দেখে নিতে হবে মোবাইল ফোনে কি পরিমাণ চার্জ অবশিষ্ট আছে। যদি ৭০--৮০%  চার্জ  থাকে সেক্ষেত্রে  মোবাইল ব্যাটারির  চার্জ  আপাতত না দিলেও চলবে।

যদি দেখেন মোবাইল ফোনের চার্জ ৪০-৫০% এর নিচে  সেক্ষেত্রে আপনি চার্জ দিতে পারে।

নতুন  স্মার্ট মোবাইলের ক্ষেত্রে  ব্যাটারি ব্যাকআপ জনিত অনেক  ইস্যু  থাকতে পারে। ব্যাটারির এক  বা দুই সাইকেল  সম্পন্ন করার পর অনেকেই মনে করতে পারেন আপনার মোবাইলের ব্যাটারি ঠিক সেভাবে ব্যাকআপ দিতে পারছে না বা চার্জ  দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে ।

কেন এমন হচ্ছে ?

আসলে এটা কোন সমস্যা না। একটা নতুন মোবাইল কেনার পর  ব্যবহার করে এর চার্জ  ক্ষয়  হতে দিন।  অর্থাৎ  ১০ থেকে ১২ সাইকেল ব্যাটারির চার্জ সম্পন্ন করুন। এভাবে আস্তে আস্তে  একটা নির্দিষ্ট সময় পর  ব্যাটারি তার অপটিমাম পারফরম্যান্স দেওয়া শুরু করবে। প্রথমদিকে ব্যাটারির সেট হতে কিছুটা সময়  লাগতে পারে।  তাই এ নিয়ে চিন্তিত হবার কোন কারণ নেই।


তবে সঠিক নিয়মে  বা পদ্ধতিতে মোবাইল  ব্যাটারি ভালোভাবে চার্জ দিন।  এতে আপনি দীর্ঘস্থায়ী এবং ভালো ব্যাটারির ব্যাকআপ পাবেন আশা করি। 

মোবাইল কেস কভার  এবং স্ক্রিন প্রটেক্টর ব্যবহার করুন

যারা প্রাত্যহিক জীবনে ব্যক্তিগত এবং পেশাগত কাজের জন্য  স্মার্ট ফোন  ব্যবহার করবেন, চেষ্টা করুন মোবাইলের সাথে একটি কেস কভার বা স্ক্রীন প্রটেক্টর  ব্যবহার করুতে।  কারণ প্রথমদিকে নতুন ফোন   খুব সেনসিটিভ থাকে । তাই যেকোনো স্ক্র্যাচ বা আঘাত থেকে ফোনকে রক্ষা  করতে কেইস কভার এবং স্ক্রীন প্রটেক্টর  খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

তবে এক্ষেত্রে চেষ্টা করবেন কমপোট এবং হালকা মোবাইল কভার ব্যবহার করতে।  ভারী কেস কভার  অনেক সময় মোবাইলকে  গরম করে দেয়  যা অবশ্যই আপনার স্মার্টফোনের জন্য অনেকটা ক্ষতিকর। 

অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ্লিকেশন  রিমুভ করুন

নতুন মোবাইলে  অনেক অ্যাপস আগে থেকে প্রি ইনস্টল  করা থাকে। অনেক সময় এই  অ্যাপসগুলোতে  ভাইরাস বা ম্যালওয়ার থাকতে পারে। 

প্রথমে মোবাইল ফোন অন করেই এই অপ্রয়োজনীয়' অ্যাপস গুলো ধরে ধরে রিমুভ বা ডিলিট করে দিন। অ্যাপস গুলো রাখা কোনভাবেই উচিত না।  আজ না হোক কাল আপনার মোবাইলে ক্ষতি করতে পারে 

গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপস এক্টিভেট করুন

 গুগল ফাইন্ড মাই  ডিভাইস সহ এমন কিছু এপ্স যা আপনার প্রাত্যহিক জীবনের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।  সেইসব অ্যাপস গুলো অবশ্যই ইনস্টল করুন তবে গুগল ফাইন্ড মাই  ডিভাইস অ্যাপস  ইনস্টল করতে ভুলবেন না। অনেক সময় আপনি আপনার  কাজের চাপে  স্মার্টফোন  খুঁজে পাচ্ছেন না বা কোন কারনে হারিয়ে গিয়েছে তখন এই অ্যাপস আপনাকে আপনার স্মার্টফোনের সঠিক সন্ধান দিতে সাহায্য করবে।

মোবাইলকে ভালোভাবে  জানুন

আপনি আগে কোন এক ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন কিন্তু হঠাৎ করে আপনি যদি অন্য ব্র্যান্ডের  নতুন মডেল ব্যবহার করা শুরু করেন প্রথমদিকে আপনার কিছু সমস্যা হতে পারে। তাই এর ফিচারস এবং অন্যান্য অ্যাপ্লিকেশনগুলো খুব ভালো করে বোঝার চেষ্টা করুন।

হতে পারে আপনি সেটিংস অপশনে যেয়ে এর ফাংশন গুলো কিভাবে কাজ করে, ক্যামেরা অপশন আছে  ক্যামেরা কিভাবে কাজ করে কত ভাল ছবি দিতে পারে তা এক্সপেরিয়েন্স করুন। 

যদি আপনি মোবাইলে গেম না খেলেও থাকেন তবে চেষ্টা করুন গেম খেলতে এবং এর পারফর্মেন্স খুব গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করুন। 

যদিও নতুন মোবাইলের ক্ষেত্রে সমস্যা  সাধারণত  লক্ষ্য করা যায় না। কিন্তু মোবাইলে কোন স্ক্র্যাচ বা ফাটল আছে কিনা তা প্রথম দুই দিনের মধ্যে  নিশ্চিত হোন।  অনেক মোবাইল কোম্পানি সাতদিনের রিপ্লেসমেন্ট সুযোগ  দিয়ে থাকে, তাই যদি কোন সমস্যা থেকে থাকে আগেভাগে নিশ্চিত হন। 

আশা করি নতুন মোবাইল কেনার পর  উপরে উল্লেখিত এই কাজগুলো করতে ভুলবেন না।  আপনি যথেষ্ট উপকার পাবেন।

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

অর্ডিনারি আইটি কী?