অর্ডিনারি আইটি https://www.ordinaryit.com/2020/01/freelancer.html

গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে সফল ফ্রিল্যান্সার হওয়ার পূর্বশর্তসমূহ

অনেকেই মনে করে থাকেন, অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা কামানো খুবই সোজা। ধারণাটি সম্পূর্ন ভুল। কাজের প্রতি আপনার দক্ষতার উপরই আপনার উপার্জনের পরিমান নির্ভর করে।


আর কাজটি যদি হয় গ্রাফিক্স ডিজাইন তবে আপনাকে উক্ত কাজে দক্ষ হতেই হবে। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় ভালো কাজ পারা সত্ত্বেও ভালো টাকা কামানো যায় না। আপনাদের এই সমস্যার কথা মাথায় রেখেই আজকে কিছু ট্রিক্স শেয়ার করতে চলেছি যার মাধ্যমে আপনি ফ্রিল্যান্সিং এ আরো এক্সপার্ট হয়ে দক্ষতা অনুযায়ী ইনকাম করতে পারবেন!

১) নিজের দক্ষতার বিজ্ঞাপন করুন

ধরুন আপনি ভালো গ্রাফিক্স ডিজাইনিং পারেন, কিন্তু তা অন্য কেউ জানেন না!- তবে আপনি ভালো মানের কোম্পানির সাথে কিভাবে চুক্তিবদ্ধ হবেন? তাই অনলাইনে ইনকামের আগে নিজের দক্ষতার জায়গাটা পরিষ্কার করতে হবে। এর জন্যই নিজের দক্ষতা গোটা দুনিয়ার সামনে তুলে ধরতে হবে।

আপনার যদি একটি নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকে যেখানে আপনার করা বেশ কিছু ডিজাইন করা লোগোর স্যাম্পল থাকে, তবে বাইরের যে কেউ আপনার ওয়েবসাইট ভিজিট করে আপনার দক্ষতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিয়ে আপনাকে কাজ দিতে আগ্রহী হবেন। তাই আপনারা যারা নতুন, তাদের প্রতি পরামর্শ, গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখার শুরু থেকেই নিজের একটি ওয়েবসাইট বানিয়ে তাতে নিজের করা লোগো গুলোর জাদুঘর গড়ে তুলুন।

এখন, আপনি হয়ত ভাবতে পারেন, আপনি শিখছেন গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, HTML, CSS, JavaScript ইত্যাদি সম্পর্কে আপনার কোন ধারণাই নেই, তবে আপনি কেমনে নিজের ওয়েবসাইট খুলবেন? বিশ্বাস করুন, বর্তমানে ওয়েবসাইট খুলা খুবই সোজা এবং এর জন্য কোন পূর্ববর্তী জ্ঞানের আবশ্যকতাও নেই। ইউটিউবে কিভাবে ওয়েবসাইট বানাতে হয় এ নিয়ে হাজার হাজার ভিডিও আছে, এগুলো দেখে আপনি ৩০ মিনিটের মধ্যেই নিজের ওয়েবসাইট বানিয়ে নিতে পারেন।

তবে আমার উপদেশ থাকবে, Blogger, Wordpress বা Blogspot সাবডোমেইন যুক্ত থার্ড পার্টির মাধ্যমে ফ্রি সাইট না খুলে, ডোমেইন কিনে নিজেই একটা সাইট খুলুন, এতে আপনি ক্লায়েন্টকে সহজেই আকর্ষণ করতে পারবেন। বাংলাদেশে বর্তমানে খুব সহজেই কম দামে ডোমেইন কিনতে পাওয়া যায়। নিজের ওয়েবসাইট বানিয়ে নিজের করা লোগো ও সামান্য বিবরণ দিয়ে সাজিয়ে নিন আপনার নিজস্ব লোগো জাদুঘর। এটি পরে অনেক কাজ লাগবে

২) যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি করুন

ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে ভালো করতে হলে আপনাকে অবশ্যই ইংরেজী ভাষায় যোগাযোগের দক্ষতা অর্জন করতেই হবে; কারণ ফ্রিল্যান্সিং দুনিয়াতে আপনার buyer আপনার সাথে ইংরেজীতেই কথা বলবে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে কিছুদিন কাজ করে যারা ঝরে পড়েন তাদের মধ্যে ৬০%-ই ইংরেজীতে দুর্বলতার কারণে ভালোমতো যোগাযোগ রক্ষা করতে পারে না, ফলে তারা কাজের ক্ষেত্রে হিমশিম খায় এবং এক পর্যায়ে আশা ছেড়ে দেয়।

তাই ইংরেজীতে দক্ষ হওয়ার জন্য শুরু থেকেই চর্চা করতে হবে। ইংরেজীতে দক্ষ হতে হলে নিচের কাজগুলো করতে পারেন।
  • যা ভাবছেন, তা বাংলাতে না ভেবে ইংরেজিতেই ভাবুন। এরূপ চর্চা করার ফলে আপনি ইংরেজীর গভীর সাগরে সর্বক্ষণিক বিচরণ করতে থাকবেন। ফলে ইংরেজীতে যোগাযোগের যে দুর্বলতা পূর্বে ছিলো, তা অনেক দ্রুতই কমে যাবে।
  • বেশি বেশি করে ইংরেজি মুভি বা ওই জাতীয় জিনিস দেখুন, ইংরেজী গল্প পড়তে পারেন বা ইংরেজি গান কিংবা রেডিও শুনতে পারেন!
  • আর আপনি যদি মনে করেন আপনি ইংরেজিতে একদমই কঁাচা, তবে আপনি নিকটস্থ কোন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বেসিক কমিউনিকেশন এর জন্য ইংরেজির উপর শর্ট কোর্স করতে পারেন।

৩) নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানে কাজ শিখুন

গ্রাফিক ডিজাইনিং এ সফলতা যেহেতু আপনার দক্ষতার উপর নির্ভর করে, তাই অবশ্যই ভালো কোন প্রতিষ্ঠান থেকে আপনার কাজ শিখা উচিত। এখন আপনার যদি বড় এমাউন্ট ইনভেস্ট করার সামর্থ থাকে, তবে ১০-১২ হাজার বা এই জাতীয় এমাউন্ট পে করে আপনি কোন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সরাসরি গ্রাফিক্স ডিজাইনিং এর কাজ শিখতে পারেন।

তবে আপনার যদি সময়, অর্থ ও সুযোগ না হয় এতো বড় এমাউন্ট খরচ করে, যাওয়া আসা করে কাজ শিখার, তবে আপনি ঘরে বসেই নাম মাত্র টাকার বিনিময়ে অনেক ভালোভাবেই গ্রাফিক্স ডিজাইনিং শিখতে পারেন।

বাংলাদেশে বর্তমানে অনেক নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান নামমাত্র মূল্যে এই সার্ভিস দিয়ে থাকে, যার মাধ্যমে দিন রাত ২৪ ঘন্টা যে কোন সময়ে আপনি কাজ শিখতে পারবেন! আপনি চাইলে আমাদের Ordinary IT থেকেও গ্রাফিক্স ডিজাইনিং শিখতে পারেন।
অর্ডিনারি আইটির কোর্স সিলেবাস দেখতে ক্লিক করুন। কোর্সে রেজিস্ট্রেশন করুন এখান থেকে
আজ এ পর্যন্ত। এরকমই নিত্যনতুন আপডেট পেতে Ordinary IT এর সাথেই থাকুন। অসংখ্য ধন্যবাদ।

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

অর্ডিনারি আইটি কী?