Ordinary IT https://www.ordinaryit.com/2019/11/seo-search-engin-optimisation.html

SEO কি? সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন (এস.ই.ও) সম্পর্কে বিস্তারিত

SEO বা সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন সম্পর্কে আপনারা যারা অনলাইন বিজনেস করেন তারা কমবেশি সকলেই পরিচিত। অথবা হয়ত অনেকেই এস.ই.ও সুবিধা গ্রহণ করেন কিন্তু SEO কি অথবা কিভাবে এর সাহায্যে আপনার বিজনেস কে আরো প্রমোট করা যায় সেটা জানেন না। চলুন জেনে নিই SEO সম্পর্কে বিস্তারিত।

এস.ই.ও ( SEO)

SEO এর পূর্ণ নাম হচ্ছে Search Engine Optimization।  সার্চ ইন্জিন হলো গুগল (Google), ইয়াহু (Yahoo), বিং (Bing) এগুলো। ১৯৯৫ সালে SEO সর্বপ্রথম যাত্রা শুরু করে ইয়াহু সার্চ ইন্জিনের মাধ্যমে।

সার্চ ইন্জিনগুলোকে অপটিমাইজ করে কোন ওয়েবসাইট কে সার্চইন্জিনের শুরুর দিকে নিয়ে আসার পদ্ধতিকেই SEO বলে। অর্থাৎ  একটি ওয়েবসাইট বা ওয়েবপেজ বা ব্লগ অথবা  প্রোডাক্ট  কে সার্চ ইন্জিনের সার্চ বা অনুসন্ধানের প্রথম দিকে নিয়ে আসার সমন্বিত পদ্ধতিকেই এস.ই.ও (SEO) বলা হয়।  ধরুন আপনি একজন অনলাইন বিজনেস ম্যান অথবা একজন ব্লগার ( Blogger)। আপনি চান সার্চ ইন্জিন বা গুগলে যে কেউ সার্চ দিলেই যেন প্রথমেই আপনার পেজ বা ব্লগের নাম আসে। তাহলে এটা কিভাবে করবেন? এটায় এস ই ও। আপনার ওয়েবসাইট কে সার্চ ইন্জিনের শুরুতেই নিয়ে আসতে আপনাকে সাহায্য করবে SEO। সাধারনত সার্চ ইন্জিন সবচেয়ে বেশি সার্চকৃত ওয়েবসাইট গুলোকে ১০ থেকে ০ এই ক্রম অনুসারে সাজাই।  অর্থাৎ আপনার ওয়েবপেজ কে সার্চ ইন্জিনের প্রথম ১০ এ নিয়ে আসার পদ্ধতি টায় হলো SEO

SEO কিভাবে করা যায়? 

এখন প্রশ্ন হলো, সারা বিশ্বে এত এত ওয়েবসাইট এর মধ্যে সার্চ ইন্জিন কিভাবে আপনার ওয়েবসাইটকে শুরুর দিকে বা সার্চ এর প্রথম দিকে দেখাবে? গুগল বা সার্চ ইন্জিন গুলোতে এই কাজটা করার জন্য রয়েছে ওয়েব ক্রলার বা সার্চ রোবট বা সার্চ স্পাইডার। এরা এক ওয়েবপেজ থেকে অন্য ওয়েবপেজ এ ঘুরে বেড়ায় এবং তথ্য সংগ্রহ করে এবং নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করে ওয়েবপেজ গুলোকে ক্রমান্বয়ে সাজাই।  সার্চ ইন্জিনে কোন শব্দ বা শব্দ গুচ্ছ অনুসন্ধান করলে তখন এরা ওই শব্দ টার সবচেয়ে বেশি অনুসন্ধানকৃত ক্রম অনুসারে সার্চ ইন্জিনে ব্যবহারকারীর সার্চের ফলাফল প্রদান করে।  SEO এই কাজটা করার সময় যে বিষয়গুলোর উপর গুরুত্ব দেয় সেগুলো হচ্ছে-
  • অনপেজ অপ্টিমাইজেশন
  • অফপেজ অপ্টিমাইজেশন

অনপেজ অপ্টিমাইজেশন 

এটা হলো ওয়েবসাইট এর ভিতরের বিষয়সমূহ। যেমন আপনি আপনার ওয়েবসাইট কে কিভাবে বিন্যাস করবেন, কেমন নাম দিবেন,কি কি ছবি ব্যবহার করবেন, ছবির ক্যাপশন কেমন হবে এসব বিষয়গুলো নিয়েই অনপেজ অপ্টিমাইজেশন। এক্ষেত্রে গুগলের শর্ত মেনে আপনাকে আপনার ওয়েবপেজ বিন্যাস করতে হবে।

অফপেজ অপ্টিমাইজেশন

এটা হলো আপনার সোশ্যাল মিডিয়ার এক্টিভিটি,ওয়েবসাইট এর বাইরের কার্যক্রম । কতজন দর্শক এর কাছে আপনার ওয়েবপেজ  পৌছালো, কতটা শেয়ার হলো, অন্য ওয়েবসাইট এর সাথে আপনার ওয়েবপেজ এর সংযোগ, লিংক শেয়ার ইত্যাদি এই কাজগুলোর মাধ্যমেও একটি ক্রম তৈরী হয়, যেটা সার্চ ইন্জিনে আপনার ওয়েবপেজ কে সার্চের শুরুর দিকে নিয়ে যেতে পারে।
অনপেজ অফপেজ ছাড়াও টেকনিকাল অপ্টিমাইজেশন নামে আরো একটি শর্ত পূরণ করতে হয় SEO এর জন্য। এই অপ্টিমাইজেশনে আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে ওয়েবসাইট এর স্পিড, ইনডেক্সিং, ক্রাউলএবিলিটি, সিকিউরিটি ইত্যাদি। 

SEO কেন করবেন?

আপনার জদি কোন ওয়েবপেজ বা ব্লগ থাকে তাহলে অবশ্যই আপনার SEO করা উচিৎ।  কারণ SEO করার মাধ্যমে আপনি আপনার ওয়েবসাইট এর সবচেয়ে বেশি দর্শক পাবেন আর এর ফলে আপনার পরিচিতি, বিশ্বস্ততা এবং প্রোডাক্ট সেল বেশি হবে। আপনার প্রোডাক্ট এর ব্রান্ডিং হবে। এছাড়া বর্তমানে আউটসোর্সিং (Outsourcing)  এর কাজ যেমন, কীওয়ার্ড সার্চ, ব্যাক লিংক এড,  কনটেন্ট লেখা,ফ্রিল্যান্সিং  ইত্যাদি  বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এস ই ও এর মাধ্যমে। জদি আপনার ওয়েবসাইট এর সাথে  গুগল এডসেন্স ( Google adsense) সংযুক্ত করা থাকে তাহলে এ থেকে আপনার দর্শকের সার্চ অনুযায়ী আপনি আয় ও করতে পারবেন। 

এস.ই.ও এর প্রকারভেদ

এস.ই.ও দুই ভাবে করা যায়। যেমন,

হোয়াইট হ্যাট এস.ই.ও (White Hat SEO)

সার্চ ইন্জিনের সবগুলো শর্ত মেনে একটি ওয়েবপেজ কে সার্চইন্জিনের প্রথমদিকে নিয়ে আসার পদ্ধতিই হচ্ছে হোয়াইট হ্যাট এস.ই.ও। এটা সময়সাপেক্ষ এবং কষ্টকর কিন্তু নিরাপদ। এস ই ও অপ্টিমাইজেশন মূলত হোয়াইট হ্যাট এস ই ও।

ব্ল্যাক হ্যাট এস.ই.ও (Black Hat SEO)

ব্ল্যাক হ্যাট এস.ই.ও হলো চোরাই পদ্ধতিতে সার্চ ইন্জিন ব্যবহার করে এস ই ও করা। এটা অন্যের কপি পেস্ট বা স্প্যামিং করে একটি সাইটকে সার্চ ইন্জিনের শুরুতে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া। এটা দ্রুততম পদ্ধতি কিন্তু অনিরাপদ। কারণ গুগল জদি একবার বুঝতে পারে যে আপনি স্পামিং বা মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন তাহলে আপনার সাইট ধ্বংস হয়ে যেতে পারে! সাইটের কোন ক্রমতো পাবেন না এমনকি শেষের দিকেও আপনার পেজ খুৃঁজে পাবেন না। তবে কোন সাইট জদি ব্ল্যাক হ্যাট পদ্ধতি ব্যবহার করে একবার উপরের দিকে চলে যায় তবে সেক্ষেত্রে গুগল আর কিছুই করতে পারেনা।
এছাড়াও এস.ই.ও-কে পেমেন্ট এর উপর ভিত্তি করে আরো দুই শ্রেণীতে ভাগ করা যায়। যেমন-
১) ন্যাচারাল বা অর্গানিক এস.ই.ও  
বেশিরভাগ ওয়েবপেজ এই পদ্ধতি অনুসরণ করে তাদের ওয়েবপেজ কে এস.ই.ও এর অন্তর্ভুক্ত করে। এটা কঠিন এবং সময়সাপেক্ষ পদ্ধতি ।
২) পেইড SEO
কিছু ওয়েবপেজ সার্চ ইন্জিন গুলোকে পেমেন্ট দিয়ে তাদের ওয়েবসাইট কে এস.ই.ও এর অন্তর্ভুক্ত করে। তবে এটা অত্যন্ত ব্যয়বহুল  প্রতিটা ক্লিক এর জন্য তাদের পে করতে হয় সার্চ ইন্জিনগুলোকে। এজন্য সব ওয়েবপেইজ পেইড এস.ই.ও ব্যবহার করতে পারে না। কারণ বেশিরভাগ ওয়েবসাইট এর এত ব্যয় বহন করার সাধ্য নেই। তবে এটা দ্রুততম পদ্ধতি।  

কোথায় শিখবেন SEO?

SEO বর্তমানে জনপ্রিয় একটি পদ্ধতি। আপনি এস ই ও শিখতে পারবেন যেকোনো আইটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। অথবা  ফ্রিল্যান্সিং মার্কেট গুলোতে SEO কাজের কিছু কিছু শেখানো হয়, আপনি আপনার পছন্দমত যেকোনো জায়গা থেকে শিখে নিতে পারেন। তবে অবশ্যই শেখার আগে প্রতিষ্ঠান বা প্রশিক্ষক সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নিয়ে কাজ শিখতে যাবেন।

SEO একটি সমষ্টিগত পদ্ধতি। এক কথায় বা অল্প কথায় এর বিস্তর বর্ণনা আসলে সম্ভব নয়। তবে আশা করি এই আর্টিকেল টা আপনাদের কিছুটা হলেও এস ই ও সম্পর্কে ধারনা ক্লিয়ার করবে।

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

সর্বশেষ আপডেটেড অফার পেতে চান?

অর্ডিনারি আইটি কী?