গ্রাফিক্স ডিজাইনে ভুল বানান সংশোধন করার নিয়ম
গ্রাফিক্স ডিজাইনে ভুল বানান সংশোধন করার নিয়ম জানলে ছোট্ট একটি ভুলেও পুরো
ডিজাইন নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। ভাবুন, অনেক যত্ন করে বানানো পোস্টার শেষ
মুহূর্তে দেখলেন একটি শব্দে ভুল! তখন আফসোসের শেষ থাকে না। বানান চেক ও জমার আগে
শেষ যাচাই।
নতুন থেকে অভিজ্ঞ-সবাই এখানে নিজের কাজ আরও ঝরঝরে করার কিছু কাজে লাগার টিপস
পাবেন। সময় বাঁচিয়ে ভুল কমাতে চাইলে এই সহজ নিয়মগুলো একবার দেখে নিন। একটি ছোট
বানান ভুল যেন আপনার সুন্দর ডিজাইনের বারোটা না বাজায়!
পোস্ট সূচিপত্রঃ গ্রাফিক্স ডিজাইনে ভুল বানান সংশোধন করার নিয়ম
- গ্রাফিক্স ডিজাইনে ভুল বানান সংশোধন করার নিয়ম
- ডিজাইনে বানান ভুল কেন এত সহজে চোখ এড়িয়ে যায়
- কাজ শুরু করার আগে লেখার বানান কীভাবে যাচাই করবেন
- ফটোশপে ভুল বানান দ্রুত খুঁজে বের করার সহজ উপায়
- ইলাস্ট্রেটরে বাংলা লেখা ঠিক করার সময় যা খেয়াল রাখবেন
- বাংলা ফন্টে যুক্তাক্ষর ও কারের ভুল কীভাবে ধরবেন
- ডিজাইন ক্লায়েন্টকে পাঠানোর আগে বানান চেক করার কৌশল
- অনলাইন বাংলা বানান চেকার দিয়ে ভুল ধরার সহজ পদ্ধতি
- শেষ মুহূর্তে ডিজাইনের লেখা যাচাই করার ছোট্ট চেকলিস্ট
- শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
গ্রাফিক্স ডিজাইনে ভুল বানান সংশোধন করার নিয়ম
গ্রাফিক্স ডিজাইনে ভুল বানান সংশোধন করার নিয়ম নিয়ে আজকে একটু খোলামেলা কথা বলা
যাক। ধরুন আপনি সারারাত জেগে একটা দারুণ পোস্টার বানালেন। কালার কম্বিনেশন
পারফেক্ট, লেআউট চমৎকার, আর ক্লায়েন্টও দেখে খুশি হয়ে অ্যাপ্রুভ করে দিলেন।
তারপর প্রিন্ট হয়ে বের হলো, আর তখনই কারো চোখে পড়ল-বানানে একটা মস্ত বড় ভুল!
এই মুহূর্তটা যেকোনো ডিজাইনারের জন্য একদম দুঃস্বপ্নের মতো। আসলে বানান ভুল কোনো
ছোট বিষয় না। একটা ভুল বানান পুরো ডিজাইনের প্রফেশনালিজম নষ্ট করে দিতে পারে
নিমিষেই। আপনি যত সুন্দর ভিজ্যুয়াল বানান না কেন, একটা টাইপে ভূল থাকলে দর্শকের
চোখ সেখানেই আটকে যাবে। তাই এই ভুলগুলো কীভাবে ধরবেন আর সংশোধন করবেন, সেই
নিয়মগুলো একটু গুছিয়ে জেনে নেওয়া যাক।
নিচের ইমেজে Canva তে একটা ভুল বানান সংশোধন দেখানো হলো। "2030 Annual Sales
Report" লেখাই ডকুমেন্টের ডান দিকের উপরের অংশে থাকা ফ্লোটিং টুলবার থেকে
নীল/বেগুনি পেন্সিল আইকনসহ Magic Write বাটনে ক্লিক করুন। ক্লিক করার পর Continue
writing, Shorten, Rewrite, Sprinkle fairy dust, Change voice, Fix spelling।
এখান থেকে Fix spelling এ ক্লিক করলেই ভূল বানানটি সংশোধন হয়ে যাবে।
নিচে "Adobe Express" দিয়ে আরও একটি ইমেজ দেখানো হলো। যে টেক্সটের বানান সংশোধন
করতে চান, সেই টেক্সট বক্সে ক্লিক করুন। এরপর ভুল বানানযুক্ত শব্দে Right-click
করুন। ভুল বানানযুক্ত শব্দটি খুঁজে বের করুন এখানে "withot" ভুল বানান। শব্দটির
ওপর Right-click করুন। এরপর ছবির মাঝখানে একটি সাদা spelling suggestion menu
খুলবে। সঠিক বানান যদি “without” হয় তাহলে ওটার উপর ক্লিক করুন তাহলেই ভুল
বানানটি সংশোধন হয়ে যাবে।
প্রিন্টের আগে হার্ড কপি বের করে চেক করুন। স্ক্রিনে দেখা আর প্রিন্ট কপিতে দেখার
মধ্যে বিস্তর ফারাক আছে। কাগজে প্রিন্ট করে হাতে নিয়ে পড়লে অনেক ভুল নতুন করে
চোখে পড়ে। বিশেষ করে বড় প্রজেক্টে এই স্টেপটা কখনোই স্কিপ করবেন না। বানান ভুল
সংশোধন করাটা কোনো বাড়তি ঝামেলা না, বরং এটা আপনার কাজের মানের একটা অংশ। একটা
ভালো ডিজাইন তখনই সম্পূর্ণ হয়, যখন তার প্রতিটা অক্ষর নিখুঁত থাকে। তাই পরের বার
ডিজাইন সাবমিট করার আগে একটু সময় নিয়ে এই নিয়মগুলো ফলো করুন-দেখবেন, ছোট এই
অভ্যাসটাই আপনাকে বড় বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে বাঁচিয়ে দেবে।
ডিজাইনে বানান ভুল কেন এত সহজে চোখ এড়িয়ে যায়
আমরা যখন কোনো লেখা পড়ি, তখন প্রতিটা অক্ষর আলাদা করে পড়ি না। বরং পুরো শব্দের
একটা চেহারা বা প্যাটার্ন দেখে সেটা চিনে ফেলি। এই কারণেই "বাাংলা" লেখা থাকলেও
আপনার মস্তিষ্ক সেটাকে "বাংলা" হিসেবে ধরে নেয়, কারণ শব্দের সামগ্রিক গঠন প্রায়
মিলে যায়। এখানেই ডিজাইনারদের জন্য আসল সমস্যাটা শুরু হয়। আপনি যখন নিজের
ডিজাইন করা টেক্সট বারবার দেখেন, তখন আপনার মস্তিষ্ক আগে থেকেই জানে ওখানে কী
লেখা থাকার কথা। ফলে চোখ সেই প্রত্যাশিত শব্দটাই দেখে, আসল বানানে যাই থাকুক না
কেন। এটাকে বলে "ফ্যামিলিয়ারিটি বায়াস"। আপনি যত বেশিবার একই টেক্সট দেখবেন,
ভুল ধরার সম্ভাবনা তত কমতে থাকবে।
তার উপর ডিজাইনের কাজে চোখ থাকে মূলত ভিজ্যুয়াল এলিমেন্টের দিকে। কালার, ফন্ট,
স্পেসিং, লেআউট-এসব ঠিক আছে কিনা সেটা দেখতে দেখতে টেক্সটের কনটেন্ট অনেকটা
ব্যাকগ্রাউন্ডে চলে যায়। মস্তিষ্ক একসাথে অনেক কিছু প্রসেস করতে পারে না
পুরোপুরি মনোযোগ দিয়ে। তাই ডিজাইনের সৌন্দর্য দেখার সময় বানানের সূক্ষ্ম ভুলটা
অগোচরেই থেকে যায়। সময়ের চাপও এখানে বড় একটা ভূমিকা রাখে। ডেডলাইনের মধ্যে কাজ
শেষ করতে গিয়ে অনেক সময় শেষবারের প্রুফরিডিংটাই বাদ পড়ে যায়। তাড়াহুড়োয়
চোখ দ্রুত স্ক্যান করে যায়, গভীরভাবে পড়ে না। আর এই দ্রুততাই সবচেয়ে বেশি
সুযোগ করে দেয় বানান ভুলকে লুকিয়ে থাকার জন্য।
কাজ শুরু করার আগে লেখার বানান কীভাবে যাচাই করবেন
কাজ শুরু করার আগে লেখার বানান কীভাবে যাচাই করবেন, এইটা অনেক ডিজাইনারই এড়িয়ে
যান তাড়াহুড়ায়। অথচ ডিজাইন সফটওয়্যারে হাত দেওয়ার আগেই যদি টেক্সট কনটেন্টটা
আলাদাভাবে চেক করে নেন, তাহলে পরে অনেক ঝামেলা বেঁচে যায়। গ্রাফিক্স ডিজাইনে ভুল
বানান সংশোধন করার নিয়ম মেনে চলতে চাইলে প্রথম ধাপটাই হলো, ক্লায়েন্ট বা
কপিরাইটার থেকে পাওয়া টেক্সট একটা প্লেইন ডকুমেন্টে কপি করে নেওয়া। ওয়ার্ড বা
গুগল ডকসের মতো জায়গায় টেক্সটটা পেস্ট করলে বিল্ট-ইন স্পেল চেকার নিজে থেকেই
বড় বড় ভুলগুলো ধরিয়ে দেয়। এরপর টেক্সটটা একবার শব্দ করে পড়ে ফেলুন, ডিজাইনে
বসানোর আগেই।
এই ছোট্ট কাজটা করলে বাক্যের গঠনগত সমস্যা বা বানানের অসঙ্গতি সহজেই চোখে পড়ে
যায়। বিশেষ করে সংখ্যা, নাম, বা টেকনিক্যাল টার্মগুলো আলাদা করে খেয়াল করুন।
কারণ এই ধরনের শব্দগুলোতেই সবচেয়ে বেশি ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, আর এগুলো
স্পেল চেকারও অনেক সময় ধরতে পারে না। টেক্সটটা যদি সম্ভব হয় ক্লায়েন্টের কাছ
থেকে লিখিতভাবে কনফার্ম করিয়ে নিন। মৌখিকভাবে বলা আর লিখিত টেক্সটের মধ্যে অনেক
সময় ফারাক থেকে যায়। এই একটা কাজ প্রথমেই সেরে ফেললে ডিজাইনের পুরো প্রসেসটাই
অনেক নির্ভার হয়ে যায়, আর শেষ মুহূর্তে গিয়ে বানান ভুল খুঁজে বের করার
তাড়াহুড়োও করতে হয় না।
ফটোশপে ভুল বানান দ্রুত খুঁজে বের করার সহজ উপায়
ফটোশপে ভুল বানান দ্রুত খুঁজে বের করার সহজ উপায় নিয়ে কথা বলতে গেলে প্রথমেই
যেটা বলতে হয়, তা হলো ফটোশপের নিজস্ব স্পেল চেক ফিচারটা অনেকেই ব্যবহার করেন না।
Edit মেনুতে গিয়ে Check Spelling অপশনে ক্লিক করলেই টুলটা পুরো ডকুমেন্টের
টেক্সট লেয়ারগুলো স্ক্যান করে সন্দেহজনক বানান খুঁজে বের করে। এটা কোনো জাদু না,
তবে বেসিক ভুলগুলো ধরার জন্য বেশ কাজের। তবে আসল ট্রিক হলো লেয়ার প্যানেলে গিয়ে
প্রতিটা টেক্সট লেয়ার আলাদা আলাদা করে খুলে দেখা। অনেক সময় একটা কমপ্লেক্স
ডিজাইনে অনেকগুলো টেক্সট লেয়ার থাকে, আর সবগুলো একসাথে দেখতে গেলে চোখ কিছু
লেয়ার মিস করে যায়। তাই লেয়ার বাই লেয়ার চেক করলে কোনো টেক্সট বাদ পড়ার
সুযোগ থাকে না।
জুম টুল দিয়ে ২০০ শতাংশ বা তার বেশি জুম করে দেখাটাও দারুণ কাজ করে। ছোট ফন্ট
সাইজে বসানো টেক্সট বা ফাইন প্রিন্ট সাধারণ ভিউতে পরিষ্কার বোঝা যায় না। জুম
করলে প্রতিটা অক্ষর আলাদাভাবে চোখে পড়ে, ফলে সূক্ষ্ম ভুলও ধরা পড়ে যায় সহজে।
আরেকটা কাজের উপায় হলো টেক্সট লেয়ারের কনটেন্ট কপি করে বাইরে কোনো টেক্সট
এডিটরে পেস্ট করা। ফটোশপের ভেতরে থাকলে চোখ ডিজাইনের অন্য এলিমেন্টে সহজেই সরে
যায়। কিন্তু আলাদা জায়গায় শুধু টেক্সটটা দেখলে মনোযোগ পুরোপুরি বানানের দিকেই
থাকে, আর তখন ভুলগুলো ধরা পড়ে অনেক দ্রুত।
ইলাস্ট্রেটরে বাংলা লেখা ঠিক করার সময় যা খেয়াল রাখবেন
ইলাস্ট্রেটরে বাংলা লেখা ঠিক করার সময় যা খেয়াল রাখবেন, সেটা একটু আলাদাভাবে
বুঝতে হয়। কারণ বাংলা ফন্টের সাথে কাজ করার সময় ইংরেজির মতো সহজ স্পেল চেকার
এখানে কাজ করে না। তাই চোখের উপরেই ভরসা রাখতে হয় বেশিরভাগ সময়। প্রথমেই খেয়াল
রাখুন কনজাংশন বা যুক্তাক্ষরগুলো ঠিকভাবে বসেছে কিনা, কারণ বাংলা লেখায় এই
জায়গাতেই সবচেয়ে বেশি ভুল হয়। গ্রাফিক্স ডিজাইনে ভুল বানান সংশোধন করার নিয়ম
মেনে চলতে গেলে ফন্ট ফাইলটাও যাচাই করে নেওয়া জরুরি, কারণ কিছু বাংলা ফন্টে
নির্দিষ্ট অক্ষর বা মাত্রা ঠিকভাবে রেন্ডার হয় না।
টাইপ টুল দিয়ে টেক্সট এডিট করার সময় Character প্যানেল খুলে ফন্ট সাইজ বাড়িয়ে
কাজ করুন, ছোট সাইজে বাংলা অক্ষরের সূক্ষ্ম পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে যায়। বিশেষ
করে "র" আর "ব", কিংবা "ড়" আর "র়"-এর মতো কাছাকাছি দেখতে অক্ষরগুলো আলাদা করে
খেয়াল করুন। মাত্রা বা রেফের অবস্থানও ভালোভাবে দেখে নিন, কারণ ছোট একটা ভুল
বসানো মাত্রা পুরো শব্দের অর্থই বদলে দিতে পারে।
সবশেষে, ইলাস্ট্রেটরে টেক্সট আউটলাইন করার আগেই বানান একদম নিশ্চিত করে নিন।
একবার টেক্সটকে আউটলাইনে কনভার্ট করে ফেললে সেটা আর এডিটেবল টেক্সট থাকে না, তখন
ভুল সংশোধন করতে হলে পুরো অক্ষরটাই নতুন করে আঁকতে হয়। তাই এই স্টেপে যাওয়ার
আগে একজন সহকর্মীকে দিয়ে একবার ক্রস-চেক করিয়ে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
বাংলা ফন্টে যুক্তাক্ষর ও কারের ভুল কীভাবে ধরবেন
বাংলা ফন্টে যুক্তাক্ষর ও কারের ভুল কীভাবে ধরবেন, এটা অনেক ডিজাইনারের কাছেই
একটা চ্যালেঞ্জিং বিষয় মনে হয়। কারণ বাংলা লিপিতে যুক্তাক্ষরগুলো এমনভাবে জোড়া
লাগে যে সামান্য একটা ভুল সহজে চোখে পড়ে না। প্রথমে যেটা করতে পারেন, সেটা হলো
টেক্সটটাকে অংশ অংশ করে ভেঙে পড়া। পুরো শব্দ একসাথে না দেখে প্রতিটা অক্ষর আলাদা
করে যাচাই করলে যুক্তাক্ষরের গঠন ঠিক আছে কিনা সহজেই বোঝা যায়। গ্রাফিক্স
ডিজাইনে ভুল বানান সংশোধন করার নিয়ম অনুযায়ী কার চিহ্নের অবস্থানের দিকেও কড়া
নজর রাখা দরকার, বিশেষ করে ই-কার আর ঈ-কারের মধ্যে গুলিয়ে ফেলার প্রবণতা প্রায়ই
দেখা যায়।
আরেকটা কাজের পদ্ধতি হলো, ফন্ট সাইজ অনেক বড় করে জুম করে দেখা। বড় স্ক্রিনে
যুক্তাক্ষরের প্রতিটা অংশ আলাদাভাবে চোখে পড়ে, তখন কোনো অংশ বাদ পড়ে গেলে বা
উল্টো বসে গেলে সেটা স্পষ্ট হয়ে যায়। রেফ, য-ফলা, ব-ফলার মতো যুক্তবর্ণগুলো
আলাদা করে খেয়াল করা উচিত, কারণ এগুলোতেই সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
অনেক সময় ফন্ট নিজেই ঠিকভাবে যুক্তাক্ষর রেন্ডার করতে পারে না, তাই ফন্টের মান
যাচাই করাটাও এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
সবচেয়ে ভরসাযোগ্য উপায় হলো, বাংলায় স্বচ্ছন্দ এমন কাউকে দিয়ে একবার পড়িয়ে
নেওয়া। নিজে যতই সতর্ক থাকুন না কেন, মাতৃভাষার সূক্ষ্ম ভুলগুলো অন্যের চোখে
অনেক দ্রুত ধরা পড়ে। ডিজাইন ফাইনাল করার আগে এই ছোট্ট যাচাইটা বাদ দেবেন না,
কারণ প্রকাশিত হওয়ার পর একটা ভুল কার বা যুক্তাক্ষর পুরো কাজের মানকেই
প্রশ্নবিদ্ধ করে দিতে পারে।
ডিজাইন ক্লায়েন্টকে পাঠানোর আগে বানান চেক করার কৌশল
ডিজাইন ক্লায়েন্টকে পাঠানোর আগে বানান চেক করার কৌশল হিসেবে সবচেয়ে জরুরি
জিনিসটা হলো, একটা নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করে ফেলা। মন চাইলে চেক করব, মন না চাইলে
বাদ-এই মানসিকতা নিয়ে চললে ভুল থেকেই যাবে। তাই ফাইনাল ফাইল সেভ করার আগে একটা
চেকলিস্ট বানিয়ে নিন, আর প্রতিবার সেটা ফলো করুন। এতে করে তাড়াহুড়োর মধ্যেও
কোনো ধাপ বাদ পড়ে না। কাজ শেষ করার পর সাথে সাথে পাঠিয়ে না দিয়ে অন্তত পনেরো
থেকে বিশ মিনিট বিরতি নিন। এই ছোট্ট বিরতিটা আসলে অনেক কাজের, কারণ মস্তিষ্ক তখন
ক্লান্তি বা পরিচিতির প্রভাব থেকে কিছুটা মুক্ত হয়। বিরতির পর আবার যখন ডিজাইনের
দিকে তাকাবেন, তখন নতুন চোখে ভুলগুলো ধরা পড়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। শুধু
কফি খেয়ে একটু হাঁটাহাঁটি করে আসলেও এই কাজটা হয়ে যায়।
তারপর পুরো ডিজাইনটা একটা পিডিএফ বা ইমেজ ফাইলে এক্সপোর্ট করে আলাদা ডিভাইসে
দেখুন, যেমন ফোন বা ট্যাবলেটে। স্ক্রিন বদলালে দেখার অভিজ্ঞতাও বদলে যায়, আর
অনেক সময় ছোট স্ক্রিনে ভুলগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়ে। কালার আর লেআউট ঠিকঠাক
দেখানোর পাশাপাশি এভাবে টেক্সটটাও একবার নতুন প্রেক্ষাপটে যাচাই করা হয়ে যায়।
ক্লায়েন্টকে পাঠানোর ঠিক আগে একবার শেষ স্ক্যান করুন, এবার শুধু টেক্সটের উপর
ফোকাস রেখে। ডিজাইনের সৌন্দর্য বা লেআউট নিয়ে এই সময় না ভেবে শুধু বানানের দিকে
মনোযোগ দিন। এই শেষ ধাপটা অনেকেই এড়িয়ে যান সময়ের অভাবে, কিন্তু ঠিক এই
জায়গাতেই সবচেয়ে বেশি বিব্রতকর ভুলগুলো ধরা পড়ে যায় শেষ মুহূর্তে।
অনলাইন বাংলা বানান চেকার দিয়ে ভুল ধরার সহজ পদ্ধতি
অনলাইন বাংলা বানান চেকার দিয়ে ভুল ধরার সহজ পদ্ধতি নিয়ে কথা বলতে গেলে প্রথমেই
বলতে হয়, এখন হাতের কাছেই বেশ কিছু ভালো টুল পাওয়া যায়। অভ্র স্পেল চেকার বা
গুগল ডকসের বাংলা স্পেল চেক ফিচার ব্যবহার করলে বড় বড় ভুলগুলো সহজে ধরা পড়ে
যায়। ডিজাইনে টেক্সট বসানোর আগে এই টুলগুলোতে একবার কনটেন্ট পেস্ট করে দেখে
নেওয়াটা একটা ভালো অভ্যাস। তবে অনলাইন টুলের একটা সীমাবদ্ধতা আছে, এগুলো প্রায়ই
আঞ্চলিক শব্দ বা কথ্য ভাষার প্রয়োগ বুঝতে পারে না। তাই টুল যা বলছে তাই একদম চোখ
বন্ধ করে মেনে নেবেন না। বরং টুলের সাজেশন দেখার পর নিজের বিচারবুদ্ধি দিয়ে
যাচাই করে নিন, কারণ কিছু শব্দ ভুল দেখালেও আসলে সঠিক হতে পারে।
গুগল ইনপুট টুলসেও একটা অটো-সাজেশন ফিচার আছে, যেটা টাইপ করার সময় সঠিক বানান
দেখিয়ে দেয়। এই ফিচারটা ব্যবহার করলে টাইপো হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়
শুরু থেকেই। আর যদি লম্বা কোনো কনটেন্ট নিয়ে কাজ করেন, তাহলে পুরো টেক্সট আলাদা
করে একটা ডকুমেন্টে চেক করে তারপর ডিজাইনে বসানোই ভালো। গ্রাফিক্স ডিজাইনে ভুল
বানান সংশোধন করার নিয়ম মেনে চলতে গেলে মনে রাখবেন, অনলাইন টুল শুধু একটা সহায়ক
মাধ্যম, চূড়ান্ত ভরসা না। শেষমেশ নিজের চোখ আর অভিজ্ঞতাই সবচেয়ে বেশি কাজে দেয়
ডিজাইনের মান বজায় রাখতে।
শেষ মুহূর্তে ডিজাইনের লেখা যাচাই করার ছোট্ট চেকলিস্ট
শেষ মুহূর্তে ডিজাইনের লেখা যাচাই করার ছোট্ট চেকলিস্ট হাতের কাছে থাকলে কাজটা
অনেক সহজ হয়ে যায়। ফাইনাল ফাইল পাঠানোর ঠিক আগে এই কয়েকটা জিনিস দ্রুত চোখ
বুলিয়ে নিন। প্রথমে দেখুন হেডলাইন বা টাইটেলের বানান ঠিক আছে কিনা, কারণ এই
অংশটাই সবার আগে চোখে পড়ে আর সবচেয়ে বড় ভুল থাকলে সবচেয়ে বেশি বিব্রতকর হয়।
এরপর নাম, ব্র্যান্ড নেম, আর ফোন নম্বরের মতো তথ্যগুলো আলাদা করে যাচাই করুন। এই
জায়গাগুলোতে স্পেল চেকার তেমন কাজ করে না, কারণ এগুলো সাধারণ শব্দ না। একটা ভুল
ফোন নম্বর বা ভুল বানানে লেখা কোম্পানির নাম পুরো ডিজাইনের বিশ্বাসযোগ্যতাই নষ্ট
করে দিতে পারে।
তারিখ আর সংখ্যার দিকেও কড়া নজর দিন। অনেক সময় দিন-মাস উল্টে যায়, বা একটা
শূন্য বেশি-কম বসে যায় দামের অংকে। এই ধরনের ভুল চোখে না পড়লেও পরে বড় সমস্যা
তৈরি করে, তাই আলাদাভাবে একবার চেক করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। সবশেষে পুরো
ডিজাইনটা একবার ছোট থাম্বনেইল আকারে দেখুন, তারপর আবার বড় করে জুম করুন। দুই রকম
ভিউতে দেখলে ভিন্ন ভিন্ন ভুল ধরা পড়ে। এই ছোট্ট অভ্যাসটা মাত্র দুই-তিন মিনিট
সময় নেয়, কিন্তু বাঁচিয়ে দেয় অনেক বড় বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে।
শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
শেষ কথা বলতে গেলে, বানান ভুল আসলে ছোট একটা বিষয় মনে হলেও এর প্রভাব একদম ছোট
না। একটা নিখুঁত ডিজাইনও যদি একটা ভুল বানানের কারণে হাসির খোরাক হয়ে যায়,
তাহলে সব পরিশ্রমই মাটি হয়ে যায়। তাই ডিজাইনের প্রতিটা ধাপে একটু সময় নিয়ে
টেক্সট চেক করার অভ্যাসটা গড়ে তুলুন। মনে রাখবেন, তাড়াহুড়ো কখনোই ভালো কাজের
বন্ধু না। একটু ধৈর্য ধরে, একটু সময় নিয়ে কাজ করলে সেই ছোট্ট অভ্যাসটাই একদিন
আপনাকে অনেক বড় বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে বাঁচিয়ে দেবে। 260416






অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url