OrdinaryITPostAd

কিউবস্যাট গ্রাউন্ড স্টেশনে ওয়াইফাই অ্যান্টেনা ট্র্যাকিং পদ্ধতি

কিউবস্যাট গ্রাউন্ড স্টেশনে ওয়াইফাই অ্যান্টেনা ট্র্যাকিং পদ্ধতি কীভাবে কাজ করে, তা জানুন সহজ ভাবে। মহাকাশে থাকা ছোট স্যাটেলাইটের সংকেত ধরতে অ্যান্টেনা কীভাবে সঠিক দিকে ঘোরে, সেটাই এখানে মূল গল্প। শুরুতে কঠিন লাগলেও ধাপে ধাপে দেখলে ব্যাপারটা বেশ মজার।
কিউবস্যাট-গ্রাউন্ড-স্টেশনে-ওয়াইফাই-অ্যান্টেনা-ট্র্যাকিং-পদ্ধতি
ছোট একটি ভুলেও সিগন্যাল হারিয়ে যেতে পারে-তাই কোন পদ্ধতি কখন কাজে লাগে, সেটিও সহজ উদাহরণে তুলে ধরা হয়েছে। কিউবস্যাট যোগাযোগের এই দারুণ প্রযুক্তির পেছনের কৌশল জানতে আজই পুরো লেখাটি দেখে নিন।

পোস্ট সূচিপত্রঃ কিউবস্যাট গ্রাউন্ড স্টেশনে ওয়াইফাই অ্যান্টেনা ট্র্যাকিং পদ্ধতি

কিউবস্যাট গ্রাউন্ড স্টেশনে ওয়াইফাই অ্যান্টেনা ট্র্যাকিং পদ্ধতি

কিউবস্যাট গ্রাউন্ড স্টেশনে ওয়াইফাই অ্যান্টেনা ট্র্যাকিং পদ্ধতি নিয়ে আপনি যদি কখনো ভেবে থাকেন, তাহলে একটা জিনিস প্রথমেই বলে রাখি-এই কাজটা মোটেও যতটা সহজ মনে হয়, ততটা সহজ না। আকাশে একটা কিউবস্যাট প্রায় ৭.৫ কিলোমিটার প্রতি সেকেন্ড বেগে ছুটে চলে। আর আপনার গ্রাউন্ড স্টেশনের অ্যান্টেনাটা যদি এক সেকেন্ডও দেরি করে, সিগন্যাল হাতছাড়া হয়ে যায়। তাই এখানে "ঠিকঠাক ট্র্যাক করা" মানে শুধু দিক ঠিক রাখা না, বরং সময়ের সাথে দৌড়ানো। আমি নিজে যখন প্রথম একটা ছোট গ্রাউন্ড স্টেশন সেটআপ নিয়ে কাজ করি, তখন বুঝেছিলাম-অ্যান্টেনা কতটা শক্তিশালী সেটা বড় কথা না, সেটা কতটা নিখুঁতভাবে স্যাটেলাইটের পিছু নিতে পারে সেটাই আসল খেলা। চলুন, দেখে নেওয়া যাক কোন কোন পদ্ধতিতে এই ট্র্যাকিং করা হয়।

  • ম্যানুয়াল ট্র্যাকিং পদ্ধতিঃ এটা সবচেয়ে সাদামাটা আর পুরনো পদ্ধতি, যেখানে অপারেটর নিজের হাতে অ্যান্টেনার দিক ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে স্যাটেলাইট অনুসরণ করেন। ছোট শিক্ষামূলক প্রজেক্ট বা লো-বাজেট সেটআপের জন্য এটা এখনো বেশ জনপ্রিয়। তবে সমস্যা হলো, মানুষের প্রতিক্রিয়ার গতি স্যাটেলাইটের গতির সাথে তাল মেলাতে পারে না। ফলে প্রায়ই সিগন্যালের মাঝখানে ফাঁক তৈরি হয়ে যায়।
  • অটোমেটিক Az-El রোটর ট্র্যাকিংঃ এখানে একটা মোটরচালিত রোটর সিস্টেম অ্যান্টেনাকে আজিমুথ (Azimuth) আর এলিভেশন (Elevation)-এই দুই অক্ষে ঘুরিয়ে দেয়। কম্পিউটার থেকে আগে থেকে হিসাব করা স্যাটেলাইট পজিশন অনুযায়ী রোটর নিজে থেকেই দিক পরিবর্তন করে। এটা ম্যানুয়ালের চেয়ে অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য এবং কিউবস্যাট কমিউনিটিতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত পদ্ধতি বলা যায়।
কিউবস্যাট-গ্রাউন্ড-স্টেশনে-ওয়াইফাই-অ্যান্টেনা-ট্র্যাকিং-পদ্ধতি
  • সফটওয়্যার-নির্ভর ট্র্যাকিং (Gpredict, SatPC32)ঃ Gpredict বা SatPC32-এর মতো সফটওয়্যার TLE (Two-Line Element) ডেটা ব্যবহার করে স্যাটেলাইটের রিয়েল-টাইম অবস্থান হিসাব করে। এই সফটওয়্যার সরাসরি রোটর কন্ট্রোলারের সাথে যুক্ত থেকে অ্যান্টেনাকে কমান্ড পাঠায়। বলতে গেলে এটাই এখন বেশিরভাগ গ্রাউন্ড স্টেশনের মূল মস্তিষ্ক, কারণ এখানে ভবিষ্যদ্বাণী আর নিয়ন্ত্রণ-দুটোই একসাথে হয়ে যায়।
  • ফেজড অ্যারে বা ইলেকট্রনিক বিম-স্টিয়ারিংঃ এই পদ্ধতিতে অ্যান্টেনা শারীরিকভাবে নড়ে না, বরং একাধিক ছোট অ্যান্টেনা এলিমেন্টের ফেজ পরিবর্তন করে বিমের দিক পরিবর্তন করা হয়। যান্ত্রিক নড়াচড়া না থাকায় এটা অনেক দ্রুত এবং টেকসই। খরচ বেশি হলেও বড় পরিসরের বা পেশাদার গ্রাউন্ড স্টেশনে এই প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।
  • হাইব্রিড ট্র্যাকিং সিস্টেমঃ কিছু গ্রাউন্ড স্টেশনে যান্ত্রিক রোটর আর সফটওয়্যার প্রেডিকশনের সাথে GPS সিঙ্ক্রোনাইজেশন যোগ করা হয়, যাতে নিখুঁততা আরও বাড়ে। এই মিশ্র পদ্ধতিতে একদিকে যেমন নির্ভুলতা পাওয়া যায়, তেমনি সিস্টেমের ব্যর্থতার ঝুঁকিও কমে আসে। ছোট বাজেটেই বড় পারফরম্যান্স পেতে চাইলে এই হাইব্রিড অ্যাপ্রোচ বেশ কাজে দেয়।
আপনি যদি নিজের একটা কিউবস্যাট গ্রাউন্ড স্টেশন বানানোর কথা ভাবছেন, তাহলে শুরুতেই দামি ফেজড অ্যারের পেছনে না ছুটে বরং Gpredict আর একটা সাধারণ Az-El রোটর দিয়ে শুরু করুন। হাতেকলমে শেখার এই যাত্রাটাই আসলে সবচেয়ে বেশি শেখায়-কারণ স্যাটেলাইট ট্র্যাক করা মানে শুধু প্রযুক্তি নয়, এটা এক ধরনের ধৈর্যেরও পরীক্ষা।

কিউবস্যাটের সঙ্গে গ্রাউন্ড স্টেশনের যোগাযোগ কেন গুরুত্বপূর্ণ

কিউবস্যাটের সঙ্গে গ্রাউন্ড স্টেশনের যোগাযোগ কেন গুরুত্বপূর্ণ, এই প্রশ্নের উত্তর একটা কথায় দেওয়া যায়-কারণ যোগাযোগ ছাড়া একটা স্যাট আসলে আকাশে ভাসমান একটা নীরব বাক্সের মতো। ভাবুন তো, লাখ লাখ টাকা খরচ করে, মাসের পর মাস পরিশ্রম করে একটা স্যাটেলাইট বানানো হলো, কিন্তু সেটা থেকে যদি কোনো ডেটাই মাটিতে ফিরে না আসে, তাহলে পুরো প্রজেক্টটাই তো অর্থহীন হয়ে যায়। গ্রাউন্ড স্টেশন এখানে সেই সেতুর কাজ করে, যেটা মহাকাশ আর মাটির মাঝে একটা জীবন্ত সংযোগ তৈরি করে রাখে। এই যোগাযোগের সবচেয়ে বড় ভূমিকা হলো টেলিমেট্রি ডেটা পাঠানো-অর্থাৎ স্যাটেলাইটের ব্যাটারি কেমন আছে, তাপমাত্রা কত, সিস্টেম ঠিকঠাক চলছে কিনা, এসব তথ্য নিয়মিত মাটিতে পৌঁছানো।
এই তথ্য না পেলে অপারেটররা বুঝতেই পারবেন না যে স্যাটেলাইটটা আসলে বেঁচে আছে নাকি বিপদে পড়েছে। আবার উল্টো দিক থেকেও কথা আছে-মাঝে মাঝে কমান্ড পাঠিয়ে স্যাটেলাইটের কনফিগারেশন বদলাতে হয়, নতুন নির্দেশনা দিতে হয়, এমনকি জরুরি অবস্থায় সিস্টেম রিসেট পর্যন্ত করতে হতে পারে। এই দুই দিকের যোগাযোগটাই একসাথে মিলে পুরো মিশনের প্রাণভোমরা। আর একটা কথা না বললেই নয়-কিউব যে বৈজ্ঞানিক উপাত্ত বা ছবি সংগ্রহ করে, সেগুলো তো শেষমেশ পৃথিবীতেই ফিরে আসতে হবে, নাহলে সব পরিশ্রম বৃথা। 

গবেষকরা যে ফলাফলের অপেক্ষায় বসে থাকেন, সেটার একমাত্র রাস্তা এই গ্রাউন্ড স্টেশন যোগাযোগ। তাই বলা যায়, একটা কিউবস্যাট মিশনের সাফল্য নির্ভর করে স্যাটেলাইটের ডিজাইনের যতটা, ততটাই নির্ভর করে এই মাটি-আকাশের যোগাযোগ কতটা নিখুঁত আর নির্ভরযোগ্য, তার ওপর।

ওয়াইফাই অ্যান্টেনা দিয়ে কিউবস্যাট সিগন্যাল ধরার কৌশল

ওয়াইফাই অ্যান্টেনা দিয়ে  সিগন্যাল ধরার কৌশল নিয়ে কথা বলতে গেলে প্রথমেই একটা মজার ব্যাপার বলি। সাধারণ WiFi অ্যান্টেনা মূলত ২.৪ বা ৫ গিগাহার্জ ব্যান্ডে কাজ করার জন্য বানানো, অথচ চতুরতার সাথে একটু মডিফাই করলেই সেটা দিয়ে ভালোই কিউবস্যাট গ্রাউন্ড স্টেশনে ওয়াইফাই অ্যান্টেনা ট্র্যাকিং পদ্ধতি চালানো যায়। এখানে সবচেয়ে বড় ট্রিক হলো-বেশিরভাগ স্যাট UHF বা VHF ব্যান্ডে সিগন্যাল পাঠায়, তাই সরাসরি স্ট্যান্ডার্ড WiFi অ্যান্টেনা কাজে লাগে না, বরং এর ডিজাইন থেকে ধারণা নিয়ে ফ্রিকোয়েন্সি অনুযায়ী কাস্টমাইজ করতে হয়। এক্ষেত্রে সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি হলো WiFi গ্রিড অ্যান্টেনা বা প্যানেল অ্যান্টেনার গঠন ব্যবহার করে একটা Yagi বা হেলিক্যাল অ্যান্টেনা বানানো, যেটার গেইন অনেক বেশি হয় আর দূরের দুর্বল সিগন্যালও সহজে ধরতে পারে।

অনেক শখের রেডিও অপারেটর আবার পুরনো WiFi ডিশ অ্যান্টেনা রিসাইকেল করে সেটাকে কিউবস্যাটের ফ্রিকোয়েন্সিতে টিউন করে নেন-খরচ কমে যায়, আর কাজও চলে যায় দিব্যি। সিগন্যাল ধরার আসল কৌশলটা লুকিয়ে আছে দিক নির্ধারণে। অ্যান্টেনার বিমউইডথ যত সরু হবে, সিগন্যাল তত শক্তিশালী পাওয়া যাবে, কিন্তু তখন ট্র্যাকিং নির্ভুলতাও তত বেশি জরুরি হয়ে পড়ে-একটু এদিক-সেদিক হলেই সিগন্যাল হাতছাড়া। তাই এখানে সফটওয়্যার ডিফাইনড রেডিও (SDR) এর সাথে অ্যান্টেনা জুড়ে দিলে রিয়েল-টাইমে সিগন্যাল স্ট্রেংথ দেখে দিক ঠিক করা অনেক সহজ হয়ে যায়। শেষমেশ বলব, ধৈর্য ধরে কয়েকবার ক্যালিব্রেশন করলেই এই পুরো সেটআপ থেকে চমৎকার ফল পাওয়া যায়-খরচ কম, কিন্তু কাজ একদম প্রফেশনাল মানের।

অ্যান্টেনা ট্র্যাকিং সিস্টেমে আজিমুথ ও এলিভেশন কী

অ্যান্টেনা ট্র্যাকিং সিস্টেমে আজিমুথ ও এলিভেশন কী, এটা বোঝার জন্য প্রথমে একটা সহজ ছবি কল্পনা করুন। আপনি মাটিতে দাঁড়িয়ে আছেন, আর আকাশে একটা স্যাটেলাইট উড়ে যাচ্ছে-এখন সেই স্যাটেলাইটের দিকে অ্যান্টেনা তাক করতে হলে দুটো জিনিস জানা লাগবে। প্রথমত, কোন দিকে তাকাতে হবে-মানে উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম নাকি এর মাঝামাঝি কোনো দিক। আর দ্বিতীয়ত, কতটা উপরে তাকাতে হবে-মাটির সমান্তরাল নাকি সরাসরি মাথার উপর। এই দুইটা তথ্যই মূলত আজিমুথ আর এলিভেশন। আজিমুথ হলো অনুভূমিক অক্ষের কোণ, যেটা সাধারণত উত্তর দিক থেকে ঘড়ির কাঁটার দিকে ০ থেকে ৩৬০ ডিগ্রি পর্যন্ত মাপা হয়।
কিউবস্যাট-গ্রাউন্ড-স্টেশনে-ওয়াইফাই-অ্যান্টেনা-ট্র্যাকিং-পদ্ধতি
ধরুন স্যাটেলাইট যদি একদম পূর্ব দিকে থাকে, তাহলে আজিমুথ হবে ৯০ ডিগ্রি। অন্যদিকে এলিভেশন হলো উল্লম্ব কোণ-দিগন্ত রেখা থেকে শুরু করে সরাসরি মাথার উপর পর্যন্ত ০ থেকে ৯০ ডিগ্রি পর্যন্ত এর পরিসীমা। এলিভেশন যখন ০ ডিগ্রি, তখন স্যাটেলাইট থাকে ঠিক দিগন্তে, আর ৯০ ডিগ্রি মানে সেটা একদম মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। এই দুটো কোণ মিলিয়েই একটা Az-El রোটর সিস্টেম কাজ করে।

কম্পিউটার প্রতি সেকেন্ডে হিসাব করে বলে দেয় স্যাটেলাইট এখন কোন আজিমুথে আর কোন এলিভেশনে আছে, আর রোটর সেই অনুযায়ী অ্যান্টেনাকে ঘুরিয়ে নেয়। ব্যাপারটা অনেকটা মানুষের চোখের মতো-আপনি যেমন মাথা ঘুরিয়ে আর ঘাড় উঁচু-নিচু করে কোনো জিনিস দেখেন, ঠিক তেমনি আজিমুথ আর এলিভেশন মিলে অ্যান্টেনাকেও সেই একই কাজটা করায়।

কিউবস্যাটের অবস্থান নির্ণয় করে অ্যান্টেনা ঘোরানোর নিয়ম

কিউবস্যাটের অবস্থান নির্ণয় করে অ্যান্টেনা ঘোরানোর নিয়মটা আসলে একটা চেইন রিঅ্যাকশনের মতো-একটা ধাপ ঠিকঠাক না হলে পুরো সিস্টেমই ভেঙে পড়ে। শুরুটা হয় TLE ডেটা দিয়ে, যেটা মূলত NORAD থেকে পাওয়া দুই লাইনের একটা কোড, আর এতে লুকিয়ে থাকে স্যাটেলাইটের কক্ষপথের যাবতীয় তথ্য। এই ডেটা প্রতিদিন বা কয়েক দিন পরপর আপডেট করে নিতে হয়, কারণ স্যাটেলাইটের কক্ষপথ সময়ের সাথে সাথে সামান্য হলেও বদলে যায়। এই TLE ডেটাকে Gpredict বা এরকম কোনো ট্র্যাকিং সফটওয়্যারে ইনপুট দিলে, সফটওয়্যারটা একটা গাণিতিক মডেল (সাধারণত SGP4 নামে পরিচিত) ব্যবহার করে হিসাব করে ফেলে স্যাটেলাইট এই মুহূর্তে ঠিক কোথায় আছে, আর পরের কয়েক মিনিটে কোন পথে যাবে। 

এই হিসাবটা করার সময় আপনার গ্রাউন্ড স্টেশনের অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ আর উচ্চতাও দরকার হয়-কারণ পৃথিবীর একেক জায়গা থেকে একই স্যাটেলাইটকে একেক কোণে দেখা যায়। এই তিনটা তথ্য ছাড়া হিসাবটা কখনোই সঠিক হবে না। এরপর সফটওয়্যার সেই হিসাব করা আজিমুথ আর এলিভেশনের মান পাঠিয়ে দেয় রোটর কন্ট্রোলারের কাছে, সাধারণত সিরিয়াল পোর্ট বা নেটওয়ার্ক প্রোটোকলের মাধ্যমে।
রোটর তখন প্রতি কয়েক সেকেন্ড পরপর নতুন কোণ অনুযায়ী নিজেকে সামঞ্জস্য করে নেয়-অনেকটা রিয়েল-টাইম ফলো করার মতো। যত ঘন ঘন এই আপডেট হয়, ট্র্যাকিং তত মসৃণ হয়। আর মজার ব্যাপার হলো, স্যাটেলাইট যখন একদম মাথার উপর দিয়ে যায়, তখন এলিভেশন হঠাৎ ৯০ ডিগ্রির কাছাকাছি চলে যাওয়ায় রোটরকে খুব দ্রুত ঘুরতে হয়-এই মুহূর্তটাকেই বলা হয় "কি-হোল প্রবলেম", যেটা প্রায় সব গ্রাউন্ড স্টেশন অপারেটরকেই একদিন না একদিন ভোগায়।

গ্রাউন্ড স্টেশনে ট্র্যাকিং সফটওয়্যার কীভাবে কাজ করে

গ্রাউন্ড স্টেশনে ট্র্যাকিং সফটওয়্যার কীভাবে কাজ করে, এটা বুঝতে গেলে আসলে পুরো ব্যাপারটাকে একটা অর্কেস্ট্রার কন্ডাক্টরের সাথে তুলনা করা যায়। সফটওয়্যারটাই মূলত পুরো সিস্টেমের মস্তিষ্ক, যেটা সব যন্ত্রপাতিকে একসাথে সমন্বয় করে চালায়। প্রথমে এটা TLE ফাইল থেকে স্যাটেলাইটের কক্ষপথের তথ্য পড়ে নেয়। তারপর সেই তথ্য দিয়ে গাণিতিক হিসাব করে বের করে স্যাটেলাইট এখন কোথায় আছে, আর কয়েক মিনিট পর কোথায় যাবে। এই হিসাব শুধু একবারই হয় না, বরং প্রতি সেকেন্ডে বা তার চেয়েও কম সময়ে বারবার আপডেট হতে থাকে। 

সফটওয়্যারটা তখন সেই আজিমুথ-এলিভেশনের মান রোটর কন্ট্রোলারের কাছে পাঠিয়ে দেয়, আর একইসাথে রেডিও রিসিভারকে বলে দেয় কোন ফ্রিকোয়েন্সিতে টিউন করতে হবে-কারণ ডপলার ইফেক্টের কারণে স্যাটেলাইটের সিগন্যাল ফ্রিকোয়েন্সিও একটু একটু বদলাতে থাকে। এভাবেই পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে কিউবস্যাট গ্রাউন্ড স্টেশনে ওয়াইফাই অ্যান্টেনা ট্র্যাকিং পদ্ধতি, যেখানে অপারেটরকে হাত লাগাতে প্রায় হয়ই না।

সিগন্যাল দুর্বল হলে কিউবস্যাট ট্র্যাকিংয়ে কী সমস্যা হয়

সিগন্যাল দুর্বল হলে কিউবস্যাট ট্র্যাকিংয়ে কী সমস্যা হয়, এই প্রশ্নটা আসলে প্রায় প্রতিটা গ্রাউন্ড স্টেশন অপারেটরের দুঃস্বপ্নের মতো একটা বিষয়। কিউবস্যাট এমনিতেই ছোট আকারের হওয়ায় এর ট্রান্সমিটারের শক্তিও সীমিত, তার উপর যদি স্যাটেলাইটটা দিগন্তের কাছাকাছি থাকে বা দূরত্ব বেশি হয়ে যায়, তাহলে সিগন্যাল এমনিতেই দুর্বল হয়ে আসে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, দুর্বল সিগন্যালে অ্যান্টেনার সামান্য ভুল দিকেও পুরো যোগাযোগ হারিয়ে যেতে পারে। ভাবুন তো, একটা শক্তিশালী সিগন্যালে হয়তো ২-৩ ডিগ্রি এদিক-সেদিক হলেও কোনো সমস্যা হয় না, কিন্তু দুর্বল সিগন্যালে এক ডিগ্রি ভুল হলেই পুরো ডেটা প্যাকেট নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
কিউবস্যাট-গ্রাউন্ড-স্টেশনে-ওয়াইফাই-অ্যান্টেনা-ট্র্যাকিং-পদ্ধতি
এখানেই কিউবস্যাট গ্রাউন্ড স্টেশনে ওয়াইফাই অ্যান্টেনা ট্র্যাকিং পদ্ধতির নির্ভুলতা কতটা জরুরি, সেটা টের পাওয়া যায় হাড়ে হাড়ে। আরেকটা বিরক্তিকর ব্যাপার হলো, দুর্বল সিগন্যালের সাথে যোগ হয় শব্দ বা নয়েজ-আশেপাশের রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি হস্তক্ষেপ, আবহাওয়ার প্রভাব, এমনকি নিজের অ্যান্টেনা সিস্টেমের ইলেকট্রনিক নয়েজও এখানে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফলাফল হিসেবে ডেটা প্যাকেট মাঝপথে হারিয়ে যায়, বারবার রিট্রান্সমিশন দরকার হয়, আর অনেক সময় পুরো পাসটাই (satellite pass) বৃথা যায়। তাই দুর্বল সিগন্যাল মানেই শুধু কম শক্তির সমস্যা না, বরং এটা পুরো ট্র্যাকিং সিস্টেমের নির্ভুলতা আর ধৈর্যের একটা কঠিন পরীক্ষা।

কম খরচে কিউবস্যাট গ্রাউন্ড স্টেশন বানানোর প্রাথমিক ধারণা

কম খরচে কিউবস্যাট গ্রাউন্ড স্টেশন বানানোর প্রাথমিক ধারণা নিয়ে ভাবতে বসলে প্রথমেই একটা কথা মাথায় রাখা দরকার-দামি যন্ত্রপাতি মানেই ভালো ফলাফল, এই ধারণাটা এখানে পুরোপুরি খাটে না। হাজার হাজার ডলার খরচ না করেও একদম শখের বসে অনেকেই ঘরে বসে কার্যকর একটা সিস্টেম বানিয়ে ফেলছেন, শুধু একটু বুদ্ধি খাটিয়ে আর ধৈর্য ধরে কাজ করলেই হয়। কিউবস্যাট গ্রাউন্ড স্টেশনে ওয়াইফাই অ্যান্টেনা ট্র্যাকিং পদ্ধতি এক্ষেত্রে সবচেয়ে সাশ্রয়ী রাস্তাগুলোর একটা, কারণ এখানে ব্যয়বহুল প্রফেশনাল অ্যান্টেনার বদলে সহজলভ্য উপকরণ দিয়েই কাজ চালানো যায়। শুরুতে সবচেয়ে জরুরি জিনিস হলো একটা RTL-SDR ডঙ্গল, যেটা মাত্র কয়েক হাজার টাকায় পাওয়া যায় আর এটা দিয়েই রেডিও সিগন্যাল রিসিভ করার কাজ শুরু করা যায়।
এর সাথে একটা সাধারণ Yagi অ্যান্টেনা-এমনকি নিজে বাড়িতে তার আর PVC পাইপ দিয়ে বানিয়ে নিলেও চলে-যুক্ত করলেই প্রাথমিক রিসেপশনের কাজটা হয়ে যায়। খরচ বাঁচানোর এই পথটাই আসলে বেশিরভাগ শৌখিন রেডিও অপারেটরের প্রথম পছন্দ। এরপর আসে ট্র্যাকিংয়ের পালা, যেখানে ম্যানুয়ালি অ্যান্টেনা ঘুরিয়ে শুরু করলেও পরে একটা ছোট সার্ভো মোটর আর Arduino দিয়ে সহজেই একটা বেসিক অটোমেটিক রোটর বানানো সম্ভব। 

Gpredict-এর মতো ফ্রি সফটওয়্যার ব্যবহার করলে টাকা খরচ ছাড়াই ট্র্যাকিং ক্যালকুলেশনের কাজটা সহজ হয়ে যায়। মোট কথা, কম খরচে শুরু করার আসল রহস্য হলো-সবকিছু একসাথে নিখুঁত না বানিয়ে, ছোট ছোট ধাপে শিখতে শিখতে সিস্টেমটাকে ধীরে ধীরে উন্নত করা। এতে যেমন পকেটে চাপ পড়ে না, তেমনি হাতেকলমে শেখার আনন্দটাও পুরোপুরি থেকে যায়।

ওয়াইফাই অ্যান্টেনা ট্র্যাকিং আরও নির্ভুল করার সহজ উপায়

ওয়াইফাই অ্যান্টেনা ট্র্যাকিং আরও নির্ভুল করার সহজ উপায় খুঁজতে গেলে প্রথমেই যে কথাটা মনে রাখা দরকার, তা হলো-নির্ভুলতা কোনো একটা জিনিসের উপর নির্ভর করে না, বরং কয়েকটা ছোট ছোট জিনিস মিলিয়েই তৈরি হয়। অনেকেই ভাবেন শুধু ভালো অ্যান্টেনা কিনলেই কাজ শেষ, কিন্তু বাস্তবতা হলো একদম উল্টো। সবার আগে যেটা দরকার, সেটা হলো নিয়মিত TLE ডেটা আপডেট করা। পুরনো বা কয়েক সপ্তাহ আগের TLE ব্যবহার করলে হিসাবে কয়েক ডিগ্রি পর্যন্ত ভুল চলে আসতে পারে, আর এতে পুরো ট্র্যাকিংটাই ভেস্তে যায়। এরপর আসে সময়ের সিঙ্ক্রোনাইজেশন-আপনার কম্পিউটারের ঘড়ি যদি এক-দুই সেকেন্ডও এদিক-সেদিক হয়, তাহলে দ্রুতগতির স্যাটেলাইটের ক্ষেত্রে সেটাও বিরাট সমস্যা তৈরি করে। 

NTP সার্ভারের সাথে সিস্টেম টাইম মিলিয়ে রাখলে এই ঝামেলা অনেকটাই কমে যায়। গ্রাউন্ড স্টেশনের সঠিক অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ আর উচ্চতা GPS দিয়ে নিখুঁতভাবে বসিয়ে দেওয়াটাও একটা সহজ কিন্তু কার্যকর ধাপ-অনেকে এখানে আন্দাজে ভ্যালু বসিয়ে বড় ভুল করে ফেলেন। এছাড়া রোটরের ক্যালিব্রেশন সময়মতো করা জরুরি, কারণ যান্ত্রিক অংশে সময়ের সাথে সাথে সামান্য ঢিলেঢালা ভাব চলে আসতে পারে, যেটা দিক নির্ণয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করে। 

আরেকটা কাজের টিপস হলো-অ্যান্টেনার মাউন্টিং যতটা সম্ভব স্থির আর মজবুত রাখা। বাতাসে সামান্য কাঁপুনিও সরু বিমউইডথের অ্যান্টেনায় বড় প্রভাব ফেলে। শেষে বলব, এই ছোট ছোট যত্নগুলো একসাথে করলে বড় কোনো বিনিয়োগ ছাড়াই ট্র্যাকিংয়ের নির্ভুলতা চোখে পড়ার মতো বেড়ে যায় - অভিজ্ঞতা বলে, প্রযুক্তির চেয়ে যত্নটাই আসলে বেশি কাজ করে এখানে।

শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য

কিউবস্যাট গ্রাউন্ড স্টেশন বানানো বা ওয়াইফাই অ্যান্টেনা দিয়ে ট্র্যাকিং করা-এই পুরো ব্যাপারটা শুনতে যতটা প্রযুক্তিগত মনে হয়, বাস্তবে ততটাই একটা ধৈর্যের খেলা। আমি নিজে যখন এই জগতে প্রথম পা রাখি, তখন বুঝেছিলাম-এখানে সবচেয়ে বড় শিক্ষক হলো ভুল আর তার থেকে শেখা। একটা পাস মিস হয়ে গেলে মন খারাপ হয় ঠিকই, কিন্তু পরের পাসে আরেকটু ভালো করার চেষ্টাটাই আসল মজা।

আপনি যদি এখনো শুরু করার কথা ভাবছেন, তাহলে আর দেরি করবেন না। বড় বাজেট বা পারফেক্ট সেটআপের অপেক্ষায় না থেকে, হাতের কাছে যা আছে তা দিয়েই শুরু করে দিন। ছোট ছোট ভুল আর সাফল্য মিলিয়েই একদিন আপনার নিজের গ্রাউন্ড স্টেশনটা পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে যাবে-আর সেই দিনটার আনন্দ, বিশ্বাস করুন, অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে আলাদা। 260416

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url