অর্ডিনারি আইটি https://www.ordinaryit.com/2022/07/poshu.html

কোন কোন পশু কোরবানি দেওয়া যায় সে সম্পর্কে বিস্তারিত

কোরবানির এই মাসে যারা কুরবানী করার নিয়ত করেছেন তাদের অবশ্যই জানা উচিত, কোন কোন পশু কোরবানি দেওয়া যায় সে সম্পর্কে। কেননা সব ধরনের পশু দিয়ে কোরবানি বৈধ নয়। যেসকল পশু দিয়ে কোরবানি করা যায় তাদের নির্দিষ্ট কিছু গুণাবলী থাকা প্রয়োজন।

পেজ সূচিপত্রঃ কোন কোন পশু কোরবানি দেওয়া যায় সে সম্পর্কে বিস্তারিত

কোন কোন পশু কোরবানি দেওয়া যায়ঃ ভূমিকা

পবিত্র জিলহজ মাস আমাদের সামনে উপস্থিত হয়েছে। এই মাস পশু কোরবানির মাস। এই মাস হজ্জের মাস। এবং এই মাস হচ্ছে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করার অন্যতম একটি মাধ্যম। এই মাসে বিভিন্ন ধরনের আমল রয়েছে। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল হলো পশু কোরবানি করা। কোন কোন পশু কোরবানি দেওয়া যায় সে সম্পর্কে আপনার জানা থাকা উচিত। কেননা, যাদের সামর্থ রয়েছে তাদের উপরে পশু কুরবানী করা ওয়াজিব।

আবার যাদের সামর্থ্য নেই কিন্তু যদি কোরবানি দেন, তারা কুরবানী করার মাধ্যমে অশেষ সাওয়াবের অধিকারী হতে পারেন।মোদ্দা কথা হলোঃ কোরবানি করা। আর কোরবানি করতে হলে অবশ্যই আপনাকে সঠিক নিয়মে এবং সঠিক পদ্ধতিতে কোরবানি করতে হবে। কোন কোন পশু কোরবানি দেওয়া যায় সে সম্পর্কে জেনে রাখা জরুরি।

অন্যথায় আপনার কোরবানি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ আপনি যদি কুরবানী দিতে গিয়ে এমন কোনো ভুল করে ফেলেন, যে ভুলের কারণে কোরবানি শুদ্ধ হয় না তাহলে আপনার কোরবানির নষ্ট হয়ে গেল। এবং আপনার কোরবানির উদ্দেশ্য সাধিত হবে না। কুরবানি দেয়ার পূর্বে অবশ্যই কোরবানির নিয়মাবলী এবং কোন কোন পশু কোরবানি দেওয়া যায় সে সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে।

কোরবানির নিয়ম কানুন এবং কোন কোন পশু কোরবানি দেওয়া যায় সে সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। চলুন দেখে নেই কোন কোন পশু কোরবানি দেওয়া যায়।

কোন কোন পশু কোরবানি দেওয়া যায়

সব ধরনের পশু দিয়ে কোরবানি করা যায়না। কোরবানি করার জনজদি। পশুর নির্ধারিত কিছু গুণাগুণ থাকতে হয়। নির্ধারিত এসকল গুণগুলো যে সকল পশুর মধ্যে পাওয়া যাবে কেবলমাত্র সেসকল পশু দিয়ে কোরবানি করা বৈধ। নিচে কোন কোন পশু কোরবানি দেওয়া যায় তা উল্লেখ করা হলো।
আমরা যে সকল পশুর মাংস খেয়ে থাকি। অর্থাৎ যে সকল পশু আমাদের জন্য হালাল। এইসকল হালাল পশুর সবগুলো দিয়ে কোরবানি করা বৈধ নয়। আমাদের জন্য যেসকল পশু হালাল এসকল পশুর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। যেমন কোন ব্যক্তি যদি হরিণ দিয়ে কোরবানি করে তাহলে কিন্তু তার কুরবানী আদায় হবে না। যদিও হরিণ খাওয়া আমাদের জন্য বৈধ কিন্তু হরিণ দিয়ে কোরবানি বৈধ নয়।

কেননা, হরিণ হলো বন্যপ্রাণী। আর বন্যপ্রাণী দিয়ে কোরবানি বৈধ নয়। যদিও হরিণ গৃহপালিত ভাবে পালন করা যায় এর পরেও সেটি যেহেতু স্বভাবগতভাবেই বন্য তাই সেই পশুদের কোরবানি করা যাবে না। অর্থাৎ এখানে আমাদের জন্য উপলব্ধি যোগ্য বিষয় হলো কোরবানির পশু অবশ্যই গৃহপালিত পশু হতে হবে। বন্য পশু দিয়ে কোরবানি করা বৈধ নয়। হতে পারে সেই পশুটি হরিণ, গরু বা অন্য কিছু।

আলেমগণ কুরআন হাদীসের ভিত্তিতে নির্ধারণ করেছেন যে, মোট ছয় প্রকার পশু দিয়ে কোরবানি জায়েজ। এর বাইরে অন্য কোন পশু দিয়ে কোরবানি করা বৈধ নয়। এই সাত প্রকারের পশু হলোঃ উট, গরু, মহিষ, দুম্বা, ভেড়া ও ছাগল।

কোন কোন পশু কোরবানি দেওয়া যায়ঃ কোরবানির পশুর বয়স

উপরে যে সকল কোরবানির পশুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেই সকল পশু দিয়ে কোরবানি করতে গেলেও আপনাকে মনে রাখতে হবে যে, উল্লেখিত বছরগুলোর বয়স যেন কোরবানির বয়স হয়। কোরবানির বয়সে না পৌঁছলে, উপরোল্লেখিত পশুর দ্বারাও কোরবানি করা যাবে না। তাই পশুর বয়স সম্পর্কে জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আপনি যদি উট কোরবানি করতে চান তাহলে কোরবানির উট এর বয়স অবশ্যই পাঁচ বছরের উপরে হতে হবে। ৫ বছরের নিচের উট দিয়ে কোরবানি করা বৈধ নয়। আর গরু কিনব মহিষ দিয়ে যদি আপনি কোরবানি করতে চান তাহলে অবশ্যই গরু কিনব মহিষের বয়স দুই বছরের উপরে হতে হবে। দুই বছর বয়সের নিচের গরু বা মহিষ দিয়ে কোরবানি করা বৈধ নয়।

এবং আপনি যদি ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা দিয়ে কোরবানি করতে চান, তাহলে  ছাগল, ভেড়া বা দুম্বার বায়োস অবশ্যই এক বছরের উপরে হতে হবে। এক বছর বয়সের নিচের ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা দিয়ে কোরবানি করা বৈধ নয়।

তবে বয়সের ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরী, আর তা হলোঃ উপরে কোরবানির পশুর বয়স উল্লেখ করা হলো এই বয়সের চেয়ে কম বয়সি কোন পশু যদি উল্লেখিত বয়সের পশুর মত হৃষ্টপুষ্ট ও সবল হয় সেক্ষেত্রে উল্লেখিত বয়সের চেয়ে কম বয়সি পশু দিয়ে কোরবানি করা বৈধ। 

কোন কোন পশু কোরবানি দেওয়া যায়ঃ যেসব ত্রুটি থাকলে কোরবানি হবে না

কোরবানির পশু অবশ্যই হতে হবে ত্রুটিমুক্ত। ত্রুটিযুক্ত পশু দিয়ে কোরবানি করা বৈধ নয়। নিচে কোরবানির পশুর যে সকল ত্রুটি থাকলে কোরবানি বৈধ নয় সে সকল দোষ ত্রুটি গুলো উল্লেখ করা হলো।
  • দৃষ্টিশক্তি না থাকা।  যদি কোন পশু অন্ধ হয় তাহলে সেই পশু দিয়ে কোরবানি করা বৈধ নয়।
  • শ্রবণ শক্তি না থাকা। যদি কোন পশু বধির হয় তাহলে সেই বসে দিয়ে কোরবানি করা যাবে না।
  • নিস্তেজ অত্যন্ত দুর্বল হওয়া। পশু যদি একেবারেই নিস্তেজ হয় এবং দুর্বল হয় তাহলে সেই বসে দিয়ে কোরবানি করা বৈধ নয়।
  • খোঁড়া হওয়া। পশু যদি এ পরিমাণ খোঁড়া হয়, সেটি কোরবানির স্থান পর্যন্ত হেটে যেতে পারবেনা তাহলে এই ধরনের পশু দিয়ে কোরবানি বৈধ নয়।
  • লেজের বেশিরভাগ অংশ কাটা থাকা। পশুর লেজের অধিকাংশই যদি কাটা থাকে তাহলে সেই পশু দিয়ে কোরবানি হবে না।
  • শিং ভেঙ্গে যাওয়া। কোরবানির পশুর শিং যদি গোঁড়া সমেত উপরে যায়। তাহলে সেই পশু দিয়ে কোরবানি হবে না।
  • পাগল হওয়া। পাগলাটে কোন পশু দিয়ে কোরবানি বৈধ নয়।
  • অধিকাংশ দাঁত ভেঙ্গে যাওয়া। কোন পশুর যদি অধিকাংশ দাঁত ভেঙ্গে যায়, তাহলে সেই পশুদিয়ে কোরবানি সমীচীন নয়।
  • রোগাক্রান্ত হওয়া। রোগের কারণে যদি কোন পশুর স্তনের দুধ শুকিয়ে যায় তাহলে সেই পশু কোরবানির যোগ্য নয়।
  • স্তনে ত্রুটি থাকা। ছাগলের দুইটি স্তনের কোন একটি বা উভয়টি কাটা থাকলে এবং গরু-মহিষের চারটে স্তনের যেকোনো দুইটি বাসা গুলোই কাটা থাকলে সে পশু দিয়ে কোরবানি বৈধ হবে না।

কোন কোন পশু কোরবানি দেওয়া যায়ঃ উপসংহার

উপরে কোন কোন পশু কোরবানি দেওয়া যায় সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।উপরে কোরবানির পশুর সংক্রান্ত যে সকল তথ্য প্রদান করা হয়েছে এই তথ্যগুলো অবশ্যই আপনার উপকারে আসবে। আপনি যদি কোরবানি করতে চান তাহলে উপরে উল্লেখিত নিয়মকানুনগুলো অবশ্যই আপনাকে অনুসরণ করতে হবে। অন্যথায় আপনার কোরবানি বৈধ হবে না।

কেননা শুধু হালাল পশু হলেই কোরবানির যোগ্য হয়ে যায় না। কেননা পশু কোরবানি করার জন্য অনেকগুলো ক্রাইটেরিয়া মেইনন্টেইন করতে হয়। যেসকল নিয়ম-নীতি ব্যতীত কুরবানী বৈধ হয় না সে সকল নিয়ম-নীতিগুলো উপরে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
যে সকল দোষ ত্রুটি থাকলে পশু কোরবানি দেওয়া বৈধ নয়, সেসকল দোষ ত্রুটি গুলো ব্যতীত অন্য কোনো দোষ ত্রুটি যদি পশুর ভিতরে বিদ্যমান থাকে, তাহলে সেই পশু কোরবানি করা বৈধ হবে। এবং এ কথাও বলা হয়েছে যে কুরবানী করার ক্ষেত্রে কুরবানীর পশুর বয়স খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা কমবয়সী কোরবানি দ্বারা বৈধ হবেনা।

পরিচিতদেরকে জানাতে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

অর্ডিনারি আইটি কী?