-->
অর্ডিনারি আইটি https://www.ordinaryit.com/2019/11/vector-vs-raster-graphics.html

রাস্টার এবং ভেক্টর গ্রাফিক্সের পার্থক্য কি? কখন কোনটি প্রয়োজন?

কম্পিউটারে ছবি আঁকা বা ছবি তৈরীর জন্য ব্যবহৃত হয় কম্পিউটার গ্রাফিক্স। আর এ কম্পিউটার গ্রাফিক্স হতে পারে রাস্টার অথবা ভেক্টর। ছবির গুণগত মান, কাজের ধরন এবং কম্পিউটার মেমোরি এসব ফ্যাক্টর বিবেচনায় গ্রাফিক্স এর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আজকে আমরা রাস্টার এবং ভেক্টর গ্রাফিক্সের পার্থক্যকারী বিষয়গুলো আলোচনা করবো এবং সেই সাথে জানাব রাস্টার এবং ভেক্টর গ্রাফিক্সের কোন গ্রাফিক্স আপনি কখন ব্যবহার করবেন।

রাস্টার গ্রাফিক্স

রাস্টার গ্রাফিক্স এর ছবিগুলো পিক্সেল বেজড প্রোগ্রাম দিয়ে নির্মিত। আমরা ক্যামেরা বা স্ক্যানার থেকে যে ছবিগুলো পাই সেগুলো রাস্টার গ্রাফিক্স। যখন আপনি একটি রাস্টার প্রোগ্রাম ব্যবহার করবেন তখন আপনি ঠিক কাগজে পেইন্ট করার কাজটাই করে থাকেন যেমন, কাগজে ছবি আঁকার সময় একটি পেইন্টিং ব্রাশ কে রঙের মধ্যে ডোবানো হয়।

রাস্টার ইমেজে এক রঙ থেকে আরেক রঙে রূপান্তরের জন্য রঙের সংমিশ্রণ খুব সহজেই করা যায়।  কম্পিউটার গ্রাফিক্স এর প্রথমদিকে ব্যবহৃত গ্রাফিক্স হচ্ছে রাস্টার গ্রাফিক্স। অসংখ্য পিক্সেল বা বিটম্যাপ নিয়ে রাস্টার ইমেজ তৈরী হয় ফলে ফাইল সাইজ বড় হয়। এতে ছবির রঙের ভিন্নতা থাকলেও জুম করে বা কাছে থেকে দেখলে ছবির কোয়ালিটি নষ্ট হয়ে যায় বা ছবি অস্পষ্ট দেখায়। কমন কিছু রাস্টার গ্রাফিক্স পিকচার বা ইমেজ ফরম্যাট হচ্ছে, Jpg, gif, png

ভেক্টর গ্রাফিক্স

আপনি যখন ভেক্টর প্রোগ্রাম ব্যবহার করবেন তখন আপনাকে আকৃতি নির্দেশক রেখা আঁকতে হবে। কারণ ভেক্টর গ্রাফিক্স তৈরী হয় গাণিতিক ফর্মুলায় রেখা এবং আকৃতির সমন্বয়ে। অর্থাৎ টাইলস ব্যবহার করে একটি ছবির বিভিন্ন আকার এবং আকৃতি তৈরী করার মতই ভেক্টর গ্রাফিক্সও তৈরী করা হয়। ভেক্টর গ্রাফিক্সে যেকোনো একটি  ছবির ডিসপ্লে করার জন্য একটিমাত্র কালার ব্যবহার হয়। ভেক্টর গ্রাফিক্স সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এই পোস্টটি দেখুন।

কম্পিউটারে অনেক ছবি তৈরী হয় রাস্টার অথবা ভেক্টর গ্রাফিক্স এ এবং দুটো ছবিই প্রায় একই দেখায় শুধুমাত্র কালার ব্লেন্ডস ছাড়া। অর্থাৎ রাস্টার ইমেজ এ বিভিন্ন রঙের সমন্বয়ে একটি রঙের সাথে আরেকটি রঙের অস্পষ্ট সংমিশ্রণ হয়। অপরদিকে ভেক্টর ইমেজের প্রতিটা কালারের জন্য আলাদা যে আকৃতি তৈরী হয় তা রাস্টার গ্রাফিক্স এর ইমেজ থেকে ভিন্ন। কিছু ভেক্টর প্রোগ্রাম আবার একটি আকারের মধ্যে কালার গ্র্যাডিয়েন্ট তৈরী করে তবে সেটা আসলে রাস্টার গ্রাফিক্স এর ইফেক্ট থেকেই নেওয়া হয়। সুতরাং বলা যায় রাস্টার এবং ভেক্টর গ্রাফিক্স এর ইমেজের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে।
নিচে পয়েন্ট আকারে আমরা রাস্টার এবং ভেক্টর গ্রাফিক্সের পার্থক্য গুলো দেখতে পারি -

রাস্টার গ্রাফিক্স

  • রাস্টার গ্রাফিক্স তৈরী হয় পিক্সেল এর উপর নির্ভর করে।
  • রাস্টার গ্রাফিক্স ব্যবহৃত হয় ফটো এডিটিং, অবিরাম অবিচ্ছিন্ন ছবির সাথে রঙের মিশ্রণ নির্ভর ছবি তৈরীতে।
  • রাস্টার গ্রাফিক্স এর কোয়ালিটি মেইনটেইন হয় রেজুলেশন এবং ডাইমেনশন দ্বারা।
  • রাস্টার গ্রাফিক্স যেকোনো কালার মিশ্রণ ঘটিয়ে ইমেজ তৈরী করতে সক্ষম।
  • রাস্টার গ্রাফিক্স এর অসংখ্য বিটম্যাপের জন্য এর ফাইল সাইজ বড় হয় এবং কম্পিউটার মেমোরিতে বেশি জায়গা দখল করে।
  • রাস্টার গ্রাফিক্স পেইন্টিং এর জন্য উপযোগী।
  • রাস্টার গ্রাফিক্স এ খরচ তুলনামূলকভাবে কম।
  • রাস্টার ইমেজ কে ভেক্টর ইমেজ এ রূপান্তর করা একটি জটিল ও কঠিন প্রক্রিয়া।
  • রাস্টার গ্রাফিক্স এর ফাইল টাইপ হচ্ছে- Jpg, gif, png, bmp ইত্যাদি।
রাস্টার সফটওয়্যার হলো- ফটোশপ (Photoshop), GIMP ইত্যাদি।

ভেক্টর গ্রাফিক্স

  • নির্দিষ্ট লাইন বা রেখার উপর ভিত্তি করে তৈরী হয়।              
  • বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক লোগো, ড্রয়িং, বিলবোর্ড, ব্যানার, ইলাস্ট্রেশন তৈরীতে ভেক্টর গ্রাফিক্স ব্যবহৃত হয়।
  • ভেক্টর গ্রাফিক্স এর ব্যাপকতা হলো অসীম আকার পরিবর্তনযোগ্যতা (Scalable)।
  • ভেক্টর গ্রাফিক্স এ রাস্টার গ্রাফিক্স এর সাহায্য ছাড়া কালার ব্লেন্ডস বা মিশ্রণ ইমেজ তৈরী সম্ভব নয়।
  • ভেক্টর গ্রাফিক্স এর ফাইল সাইজ ছোট, কারণ এটা লাইন বা রেখার সাহায্যে গাণিতিক ফর্মুলা ব্যবহার করে কাজ করে।
  • ভেক্টর গ্রাফিক্স এর ব্যবহার হচ্ছে এটা ড্রয়িং এর জন্য উপযোগী।
  • ভেক্টর গ্রাফিক্স এ রাস্টার গ্রাফিক্স এর তুলনায় খরচ বেশি হয়।
  • ভেক্টর গ্রাফিক্স কে সহজেই রাস্টার গ্রাফিক্স এ রূপান্তর করা যায়।
  • ভেক্টর গ্রাফিক্স ফাইল টাইপগুলো হলো- SVG, CDR, Al, pdf ইত্যাদি।
ভেক্টর গ্রাফিক্স সফটওয়্যার হলো- অ্যাডোবি ইলাস্ট্রেটর (Adobe Illustrators),  Corel draw, Inkscape ইত্যাদি।

সহজ কথায় আপনি যদি এমন কোন ডিজাইন তৈরি করতে চান যা অনেক জুম করে দেখার/প্রিন্ট করার প্রয়োজন আছে যেমন লোগো, বিলবোর্ড, ব্যানার ইত্যাদির ক্ষেত্রে ভেক্টর গ্রাফিক্স ব্যবহার করবেন। আর আপনি যদি এমন কোন ডিজাইন তৈরি করতে চান যা জুম করে দেখার/প্রিন্ট করার প্রয়োজন নেই যেমন বিজনেস কার্ড, ফেসবুকের প্রোফাইল পিকচার বা কাভার ফটো ইত্যাদির ক্ষেত্রে রাস্টার গ্রাফিক্স ব্যবহার করবেন।

আজকের লেখাটা থেকে আপনি জানতে পারলেন ভেক্টর গ্রাফিক্স এবং রাস্টার গ্রাফিক্স সম্পর্কে। আসলে দুইটা গ্রাফিক্সই সমান গুরুত্ববহন করে না। তাই প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী যেকোনো গ্রাফিক্সই আপনি ব্যবহার করতে পারেন। 

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

সর্বশেষ আপডেটেড অফার পেতে চান?

অর্ডিনারি আইটি কী?