মেঘ থেকে কীভাবে বজ্রপাত এবং শিলা বৃষ্টি হয়?

বজ্রপাত
 আমরা সবাই একটি কথার সাথে পরিচিত যে, বজ্রপাত বা বিদ্যুৎ চমকালে খোলা মাঠ বা কোনো গাছের নিচে অবস্থান করা একদম উচিত না। কারণ আমরা জানি বজ্রপাত পড়ার সবচেয়ে বেশী সম্ভাবনা গাছের নিচে বা খোলা স্থানেই বেশী থাকে, তাইতো আমরা ছোট বেলা থেকে এই উপদেশ টি সবাই শুনেছি। কিন্তু এমন টা কেনো হয়? আজকে আমরা সর্বপ্রথম এই বিষয় টি নিয়ে জানবো যে, বজ্রপাত আসলে কেনো হয় ও কোথা থেকে এটার উৎপত্তি। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক-

বজ্রপাত জিনিষটি আমরা সবাই দেখেছি কিন্তু আমরা কি জানি যে এটা আসলে কেনো হয়, এটা বুঝার জন্য আমদের আগে জানতে হবে স্ট্যাটিক ইলেকট্রিসিটি এর বেপারে। সহজ করে বলতে গেলে ষ্ট্যটিক ইলেক্ট্রিসিটি হলো দুটি বস্তুর মধ্যে ফিকশন অর্থাৎ দুটি বস্তু কে একে অপরের সাথে ঘর্ষনের ফলে যে আবেশ তৈরি হয় তাই হলো ষ্ট্যটিক ইলেক্ট্রিসিটি।

অবশ্য এটির পরীক্ষা আপনি চাইলে ঘরে বসেই করতে পারবেন, তার জন্য দরকার হবে একটি বেলুন , এক টুকরো কাপড় আর কয়েকটি ছোট ছোট কাগজের টুকরো। মনে করুন একটি বেলুন এর উপর কাপড়ের টুকরো টি রেখে যদি ঘর্ষনের পরে কাগজের উপরে ধরা হয় তাহলে দেখতে পাবেন কাগজ গুলো আকর্ষিত হয়ে বেলুনের গায়ে লেগে গেছে কিছু সময়ের জন্য আর এটা হয় ষ্ট্যটিক ইলেক্ট্রিসিটির ধর্মের কারণে।

এরকম টা হওয়ার মূল কারণ, যখন বেলুনকে কোনো কিছু দ্বারা ঘর্ষন করা হয়েছিলো তখন বেলুনের মধ্যে নেগেটিভ বা ঋণাত্মক চার্জ বা আধান তৈরি হয়ে গিয়েছিলো, আর কাগজ গুলো আধানহীন অবস্থায় ছিলো। যখনি ঋণাত্মক আধান কে কাগজের সামনে আনা হলো ঠিক তখনি ঋণাত্মক আধান দ্বারা আকর্ষিত হয়ে কাগজ গুলো বেলুনের গায়ে ম্যাগনেটের মতো আটকে গিয়েছিলো।এখন আমরা আমাদের প্রশ্নে ফিরে আসি যে বজ্রপাত কেনো হয় -

আমরা জানি যে সাগরের পানি বা ভূপৃষ্ঠের পানি তাপে শুকিয়ে জলীয় বাষ্প আকারে উপরে চলে যায় এবং মেঘের সৃষ্টি করে। জলীয় বাষ্প গুলো এতটাই ঠান্ডা হয় যে এগুলো উপরে গিয়ে বরফে পরিণত হয় এবং সংঘর্ষের সৃষ্টি করে। যার ফলে ২টি আধান (১. ধনাত্মক ২. ঋণাত্মক ) এর তৈরি করে। ধনাত্মক  আধান হাল্কা হওয়াতে এটি মেঘের উপরের দিকে উঠে যায় এবং ঋণাত্মক আধান গুলো নিচের দিকে নেমে আসে, তখন মেঘের মধ্যে এই চার্জ আলাদা হয়ে যায় আর যেমনটা বললাম ষ্ট্যটিক ইলেক্ট্রিসিটিতে কোনো এক বস্তুতে ষ্ট্যটিক নেগেটিভ চার্জ তৈরি হয়ে যায়। এটা ঠিক যে মেঘের মধ্যে চার্জের আলাদা হয়ে যাওয়া নিয়ে এখনো রিসার্চ চলছে কারণ এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া বজ্রপাতের জন্য।

বজ্রপাত ৩ প্রকারের হয়ে থাকেঃ

এজন্যই বৃষ্টির সময় খোলা মাঠ বা গাছের নিচে কখনোই থাকবেন না। ভূমিতে পড়া এই বজ্রপাতের তাপমাত্রা ২৭০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়ে থাকে যা খুব সহজেই কোনো মানুষ বা কোনো বস্তুকে নিমিষেই নিঃশেষ করে দিতে পারে। বজ্রপাত যেখানে পড়ে সেই জায়গা টার আবাহাওয়া গরম হয়ে যায় এবং খুব জোড়ে শব্দ শক্তির তৈরি হয়।

শিলা বৃষ্টি
চলুন এবার আলোচনা করা যাক শিলা বৃষ্টি নিয়ে, আকশে যখন মেঘের পরিমাণ অনেক বেশি বা ভারি হয় তখন ই আকাশ থেকে বরফের টুকরো বা মেঘের কণা পড়ে যাকে আমরা শিলা বৃষ্টি বলে থাকি। আমরা ইতিমধ্যে জেনেছি যে আকাশে মেঘের কণা গুলো ঠান্ডায় বরফ আকারে জমা থাকে আর যখনি তা অধিক ভারী আকার ধারণ করে তখনি তা আকাশ থেকে নিচের দিকে পরতে থাকে এবং একে অপরের সাথে ঘর্ষনের ফলে ক্ষয় হতে হতে ছোট আকারে মাটিতে পড়ে, যাকে আমরা শিলা বৃষ্টি বলে থাকি।