অর্ডিনারি আইটি https://www.ordinaryit.com/2020/03/power-bank.html

পাওয়ার ব্যাংক কেনার আগে যা জানতে হবে

পাওয়ার ব্যাংক হলো এক ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস যা ফোন কে চার্জ দিতে সক্ষম হয়।এটি সাধারনত যে কোন স্থানে সাথে করে নিয়ে গেলে ফোনকে অতি সহজেই চার্জ দেওয়া যায়।তো কথা না বাড়িয়ে চলুন জেনে নেওয়া যাক যে কি কি জিনিস ভাবতে হবে পাওয়ার ব্যাংক কেনার পূর্বে।

পাওয়ার ব্যাংকের ব্র্যান্ড

পাওয়ার ব্যাংক কেনার আগে আমরা বাজারে গিয়ে প্রথমে যে ভুল টি করি তা হলো দোকানদার আমাদের যেই পাওয়ার ব্যাংকটি দেখায় আমরা তাই কিনে ফেলি ।বাজারে অনেক ব্র্যান্ডের পাওয়ার ব্যাংক রয়েছে । এগুলোর কোনোটাতে বলা থাকে ৫০০০০ এমএইচ আবার কোনোটাতে ২০০০০ এমএইচ ইত্যাদি।যখন আমরা এগুলো কিনে বাসায় নিয়ে আসি তখন দেখা যায় যে পাওয়ার ব্যাংকে যে পরিমান চার্জ থাকার কথা তা তো থাকেইনা বরংচ কিছুদিন পর তা ফুলে যায় এমনকি নষ্ট হয়েও যায়।সুতরাং পাওয়ার ব্যাংক কেনার ক্ষেত্রে একটু সুপরিচিত কিংবা নামকরা ব্র্যান্ডের পাওয়ার ব্যাংক কেনাই উত্তম যে ব্র্যান্ডে আপনি কিনা আস্থা রাখতে পারেন।

পাওয়ার ব্যাংকের ধারনক্ষমতা

সাধারণত আমরা চিন্তা করি যে যে আমাদের মোবাইলের ব্যাটারি যত এমএইচের আমাদের পাওয়ার ব্যাংক ঠিক তত এমএইচের চার্জ নেওয়া যাবে।উদাহরন দিলে বুঝতে পারবেন,ধরুন আপনার ফোনের ব্যাটারি ৫০০০ এমএইচের আর আপনার কাছে আছে ১০০০০ এমএইচের একটা পাওয়ার ব্যাংক।আপনি স্বাভাবিক ভাবেই এটা চিন্তা করবেন যে আপনার পাওয়ার ব্যাংক দিয়ে আপনি দুইবার মোবাইল চার্জ দিতে পারবেন।কিন্তু আসলে তা না।হ্যা আপনি হয়তো পারবেন কিন্তু সম্পূর্ন ফোন চার্জ দিতে পারবেন না।সাধারনত আমাদের ফোনে চার্জ দিতে গেলে ৫.০ ভোল্ট লাগে কিন্তু একটা পাওয়ার ব্যাংকে থাকে ৩.৭ ভোল্টের মতো।এই ক্ষেত্রে ৩.৭ ভোল্ট দিয়ে যেহেতু ফোন চার্জ দেওয়া যায়না তাই পাওয়ার ব্যাংকে একটা চিপ লাগানো থাকে যা পাওয়ার ব্যাংককে ৩.৭ ভোল্ট থেকে ৫.০ ভোল্টে নিয়ে যায় ফোনকে চার্জ দেওয়ার জন্য।৩.৭ ভোল্টেজ থেকে ৫.০ ভোল্টেজে নেওয়ার পথে কিছু পাওয়ার হারিয়ে যায়।যা গড়ে ১০০ ভাগে প্রায় ২০ ভাগের মতো হারিয়ে যায়।সুতরাং আপনি পাওয়ার ব্যাংকে ঠিক কত পরিমান এমএইচ পাওয়ার আছে আর তা আপনার ফোনের ব্যাটারির কি পরিমান এমএইচ থাকে তার সাথে হিসাব করে কিনতে পারেন।

পোর্টস

অনেক পাওয়ার ব্যাংকে একটি পোর্ট থাকে আবার অনেক পাওয়ার ব্যাংকে দুইটি কিংবা তারও অধিক পোর্ট থাকে।আপনি যদি একটি পাওয়ার ব্যাংক দিয়ে অনেক গুলো ফোন চার্জ দিতে চান তবে আপনার ক্ষেত্রে অনেক গুলো পোর্ট বিশিষ্ট পাওয়ার ব্যাংক কেনাই ভালো।সাধারনত ইনপুট আর আউটপুট নামে দুইটি পোর্ট থাকে পাওয়ার ব্যাংকে।পাওয়ার ব্যাংকে দুইটি আউটপুট পোর্ট যদি থাকে সেক্ষেত্রে দুইটি পোর্টে ঠিক কি পরিমান আউটপুট বা চার্জ যাবে তা সেখানে কিংবা পাওয়ার ব্যাংকের প্যাকেটের গায়ে লেখা থাকে।ইনপু‌টের জন্য যদি পোর্ট থাকে এবং সেটি যদি মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট হয় তাহলে মাইক্রো ইউএসবি ক্যাবল ব্যবহার করতে হবে।পাওয়ার ব্যাংকটি চার্জ করার জন্য যদি পাওয়ার টাইপ সি হয় তবে ইউএসবি টাইপ সি ক্যাবল ব্যবহার করতে হবে।এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে মোবাইলের উপরে।ফোন যদি মাইক্রো ইউএসবি হয় তবে ওই ফোনের ক্ষেত্রে মাইক্রো ইউএসবি পাওয়ার ব্যাংক কেনাই সবচেয়ে ভালো হবে কারন তাহলে একটা ক্যাবল দিয়েই দুইটাকে একসাথে চার্জ দেওয়া যাবে।আর ফোন যদি ইউএসবি টাইপ সি হয় তবে ইউএসবি টাইপ সি পাওয়ার ব্যাংক কেনা উচিত এক্ষেত্রে একটি ক্যাবল ব্যবহার করা যাবে।

আকার

অনেকেই চিন্তা করে বড় আকারের পাওয়ার ব্যাংক মানেই অনেক চার্জ থাকে এবং ব্যাটারি লাইফ ভালো থাকে।আসলে এগুলো চিন্তা করে পাওয়ার ব্যাংক কিনলে মাঝে মাঝেই ধরা খেতে হয় কেননা বড় আকারের পাওয়ার ব্যাংক কেনার পর দেখা যায় যে যতটুকু চার্জ দেওয়ার কথা তা ঠিক মতো দিচ্ছেনা কিংবা ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।আবার বড় সাইজের পাওয়ার ব্যাংক কেনার পর বিড়ম্বনায় পরতে হয় কারন এগুলো ঠিক মতো পকেটেও নেওয়া যায়না কিংবা হাতে করে নেওয়াও যায়না।সেক্ষেত্রে মোটামুটি আকারের পাওয়ার ব্যাংক কেনাই উত্তম।যেমন ১০০০০ এমএইচের পাওয়ার ব্যাংক।

অন্যান্য সুবিধা

পাওয়ার ব্যাংকে নানা ধরনের সুবিধা দিয়ে থাকে।একেকটি প্রতিষ্ঠান একেক ধরনের সুবিধা প্রদান করে থাকে।কোনো পাওয়ার ব্যাংকে হয়তো অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে এলইডি লাইট থাকে কোনোটায় আবার ব্যাটারির চার্জ কতটা আছে তা দেখার জন্য বিভিন্ন বাতি আছে।কোনো টিতে আবার দেখা যায় অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে ঘড়ি থাকে যাতে কতটা সময় হয়েছে এবং কি পরিমান চার্জ হয় তা প্রকাশ করে।সুবিধা যাই দেয়না কেনো তা অবশ্যই বিবেচনা করে তবে পাওয়ার ব্যাংকটি কেনা উচিত।

মূল্য

একেকটা পাওয়ার ব্যাংক ব্র্যান্ডের একেকটা মূল্য থাকে।কিন্তু সবগুলার মূল্যই গড়ে প্রায় কাছাকাছি থাকে।কিন্তু পাওয়ার ব্যাংক কিনতে গিয়ে যদি দেখা যায় ১০০০০ এমএএইচ এর পাওয়ার ব্যাংক মাত্র ৩০০-৪০০ টাকা তবে নিশ্চিত ধরে নিন যে এই পাওয়ার ব্যাংকে কিছু সমস্যা আছে।অনেক সময় অসাধু ব্যবসায়ীরা ভুল পাওয়ার ব্যাংক ক্রেতাদের নিকট বিক্রি করে দেন কিছু অল্প টাকার জন্য।যেই পাওয়ার ব্যাংকের যেই দাম তার চেয়ে ৪০০-৫০০ টাকা কম দামে বাজারে বিক্রি তাহলে বুঝে নিবেন হয়তো পাওয়ার ব্যাংকে ত্রুটি আছে কিংবা পাওয়ার ব্যাংক ডুপ্লিকেট কোনো ব্র্যান্ডের যা যেকোনো মূহূর্তে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।এক্ষেত্রে করনীয় হলো চেনা পরিচিত কিংবা সুপরিচিত কোনো ব্র্যান্ডের দোকান থেকেই পাওয়ার ব্যাংকটি কেনা উচিত।এতে অন্তত ধোকাবাজি করার প্রবনতা কম থাকে।কারন ব্র্যান্ডের কোম্পানি গুলো সাধারনত অধিক সুবিধা প্রদানের জন্য ভালো পন্যটিই বাজারে বিক্রি করে থাকে।

সুতরাং পাওয়ার ব্যাংক কেনার আগে যাচাই বাছাই করে তবেই কিনুন।আর সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন কোনো সুপরিচিত দোকান থেকে জিনিসটি কিনতে।

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

অর্ডিনারি আইটি কী?