আমার অভিজ্ঞতায় ফেইসবুক আশীর্বাদ নাকি অভিষাপ


কয়েক বছর আগের কথা যখন আমি ক্লাস নাইনে পড়ি। স্কুলে কড়া-কড়ি নিয়ম, ফোন নিয়ে স্কুলে প্রবেশ নিষেধ। আমরা বন্ধু-বান্ধবরা খেলার মাঠে, ক্লাসে কিংবা প্রাইভেটে আড্ডা করে বিনোদন নিতাম। কালের বিবর্তনে পেছনে পড়ে গেছে সময়গুলো। এস.এস.সি পরীক্ষার পর সবাই এলো-মেলো হয়ে গেলাম। শিক্ষার জন্য একেক জন বেছে নিয়েছে একেক প্রতিষ্ঠান। আর কারো সাথে তমেন কোনো যোগাযোগ হয় না। মাঝে কেটে গেছে আরো কয়েকটা বছর।

আগেও সেই স্কুল লাইফের মত বন্ধু আছে। বরং সে সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বন্ধু আছে। কিন্তু বন্ধুর আগে একটা নতুন শব্দ যুক্ত হয়েছে, সেটা হল ভার্চুয়াল । আগে স্কুলে কিংবা প্রাইভেটে না গেলে দেখা-সাক্ষাত হত না। কিন্তু এখন কে.বির বিনিময়ে ইন্টারনের বদৌলতে হাতেই মুঠোই সেই বন্ধুরা। 

আমার হাতের স্মার্ট ফোনটি যেখানে আমার বন্ধুও সেখানে। আজব ব্যাপার, মনে হয় আমার ফোনটিই আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু। রাতে বিছানায় শুয়ে চলে সেই গসিপিং যা করতাম স্কুলের সেই খেলার মাঠে।

সেই স্কুল লাইফে যখন কোনো পড়ার বিষয়ে প্রবলেম ফেস করতাম তখন ছুটে যেতাম বন্ধুর বাড়িতে। আর এখন যে যার বাড়িতে পড়ার টেবিলে বসে থেকেই চলে গ্রুপ স্টাডি। এই কিছুদিন আগেও কোনো নোটিসের জন্য ছুটে যেতে হত ক্যামপাসে। কিন্তু এখন ভার্চুয়াল ওয়াল্ডে সবই হাতের মুঠোই।


যার সাথে আগে পাশাপাশি বসে গল্প করতাম, সে এখন কয়েকশত মাইল দূরে থাকে। এখন দুজনের মাঝে দুরুত্ব বাড়লেও প্রভাব পড়ে নি সেই গল্পের ওপর। মনে হয় পাশাপাশিই আছি কিন্তু তার আগে অজান্তেই ভার্চুয়াল শব্দটি যুক্ত হয়ে গেছে।

(ফেসবুকের মাত্র কয়েকটা পজেটিভ দিক উল্লেখ করলাম এছাড়াও আরো অনেক আছে। তার মানে কেউ এই ভেবে বসবেন না যে এর কোনো খারাপ দিক নেই। হ্যাঁ আমার কাছে এর খারাপ দিকটার তেমন প্রভাব নেই, যদিও ফেসবুক আমার কাছে মাদকের মতই মনে হয়।


বিঃদ্রঃ একটি অস্ত্র দিয়ে যেমন সন্ত্রাস করা যায়, তেমনি একই অস্ত্র দিয়ে সন্ত্রাসীকেও দমন করা যায়।
কাজেই ফেসবুক কেমন সেটা নির্ভর করবে আপনের ব্যাবহারের উপর, আপনের রুচির উপর। আপনি ব্যাক্তি যেমন আপনের ফেসবুকে অ্যাক্টিভিটিও হবে তেমন।)



ফেইসবুক বয়ে নিয়ে এসেছে গতিময়তা দুরে ঠেলে দিয়ে আপনজনদের। তাই বলতেই হচ্ছে দুরুত্ব যতই হোক কাছে আছি। হ্যাপি ফেসবুকিং...