৩২ বিট ৬৪ বিট কি? কত বিটের উইন্ডোজ ব্যবহার করব?


তথ্য প্রযুক্তির ছোঁয়া সে এক জাদুর কাঠির ছোঁয়া। এত দ্রুত একটা  ব্যক্তি,সমাজ, দেশ, বিশ্বকে পালটে দিতে পারে এই প্রযুক্তির ছোঁয়া যে আপনি আমি এটা ভাবতে ভাবতেই বিশ্ব আরো কয়েক ধাপ এগিয়ে গিয়েছে। আর এই তথ্য প্রযুক্তির সব চেয়ে বড় আশ্চর্যের জিনিস হলো একটা জাদুর বাক্স। কি? অবাক হচ্ছেন? জি সত্যি বলছি একটা জাদুর বাক্সই আজ আমাদের এত কিছুর পরিবর্তন আর উন্নয়নে ভূমিকা পালন করছে। আচ্ছা আর রহস্য করব না। জাদুর বাক্স বলে কিছু নেই আসলে কম্পিউটারকেই জাদুর বাক্স বলছি। কম্পিউটারের ছোঁয়াতে আজ গ্রামেও লেগেছে ডিজিটাল উন্নয়নের জোয়ার। এখন গ্রামের মোড়েতে হাটেতে সব খানে কম্পিউটার চোখে পরে। শহরের কথা তো আরো অবাক করার মত।

যাইহোক, আজকে এই লিখার পিছনে একটা কারণ আছে। আজ আমার এক বন্ধু নতুন কম্পিউটার কিনেছে। এখন নতুন কম্পিউটার কিনে সে অপারেটিং সিস্টেম দিতে [উইন্ডোজ সেটআপ] গিয়ে আমার সাহায্য চায়। তার প্রথম প্রশ্নই ছিল উইন্ডোজের ৩২বিট আর ৬৪বিট কি? আর এগুলোর পার্থক্য কি? আমি তো তাকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছি  তো এখন আপনাদের জানাব এই বিটের প্যাঁচ। আজকে আমার লিখার বিষয়টা নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন। চলুন তাহলে আর কথা না বাড়িয়ে জেনে নিই ৩২বিট আর ৬৪বিট এর পার্থক্য।

৩২বিট ও ৬৪বিট এর সাথে আমরা প্রায়ই দেখবো x86 বিট লিখা। এখানে আপনাদের জানিয়ে রাখি ৮৬ বিট আর ৩২ বিটের কার্নেল সেইম। সুতরাং আমি ৮৬ বিট নিয়ে কোন কথাই বলার প্রয়োজন মনে করি না। আমাদের কম্পিউটারের মাঝে Kernel Patch Protection থাকে যা উইন্ডোজের নিরাপত্তার সাথে সম্পর্কিত।

কম্পিউটারের প্রসেসর, হার্ডওয়্যার, ডিভাইস ড্রাইভার এর সাথে অন্যান্য সফটওয়্যারের সমন্বয় রক্ষা করে চলার একটি পদ্ধতি হচ্ছে kernel এবং এই kernel – এর উপর ভিত্তি করেই কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম তৈরী করা হয়ে থাকে। ৩২ বিটের চাইতে ৬৪ বিটে উইন্ডোজের এই kernel patch protection অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে থাকে।
৩২বিট অপারেটিং সিস্টেমের মেমোরি এড্রেসিং পাওয়ার ৬৪বিট অপারেটিং সিস্টেমের মেমোরি এড্রেসিং পাওয়ারের চেয়ে অনেক কম। মূলত এই কারণটাই মূল কারণ এই পার্থক্যের। এখন আপনারা হয়ত বলবেন এই মেমোরি এড্রেসিং কি? মেমোরি এড্রেসিং হলো যখন আমাদের প্রসেসর গুলো কোন ডাটা নিয়ে কাজ করে তখন এর প্রাথমিক কাজের জন্য ডাটা গুলোকে টেম্পোরারি ভাবে একটা কোথাও রাখতে হয় আর সেটা স্টোর করার জন্য আমরা ব্যবহার করি RAM । এখন এই মেমোরি এড্রেসিং করার হিসেবটা হয়তো আপনার জানতে ইচ্ছে করছে। তাহলে চলুন জেনে নিই ৩২বিট আর ৬৪বিট কিভাবে মেমোরি এড্রেসিং হিসেব করে।

ধরুন আপনার প্রসেসরটি এখন ১বিট নিয়ে কাজ করবে এই ক্ষেত্রে প্রসেসর ১বিটের জন্য ২টি মেমোরি লোকেশন ব্যবহার করবে (বাইনারি ০ এবং ১)। ২ বিট নিয়ে কাজ করলে তা বেড়ে হয়ে যাবে দ্বিগুণ অর্থাৎ ৪টি মেমোরি লোকেশন ব্যবহার করবে। এই ভাবে ৩ বিটের জন্য ২*২*২=৮ টি মেমোরি লোকেশন। ৪ বিটের কাজের জন্য ২*২*২*২=১৬ , ৫ বিটের কাজের জন্য ২*২*২*২*২= ৩২টি মেমোরি লোকেশন। এভাবে হিসেব করে ৩২বিট পর্যন্ত কাজের জন্য যদি হিসেব করি তাহলে দাঁড়ায় 232  = ৪২৯৪৯৬৭২৯৬। যা আমরা যদি গিগা বাইটে রুপান্তর করি তাহলে হবে ৪ গিগাবাইট।

সুতরাং বুঝতেই পারছেন যে ৩২বিট প্রসেসরে ৪জিবি পর্যন্ত মেমোরি (RAM) সাপোর্ট করে। অর্থাৎ যদি আমরা কোন ৩২বিট প্রসেসরে ৩২বিট অপারেটিং সিস্টেমের বেশি মেমোরির কাজ করতে চাই তাহলে সেই ৪জিবি মেমোরির বেশি কাজ হবে না। মানে ৮ জিবি র‍্যাম ওয়ালা পিসিতে যদি ৩২ বিটের উইন্ডোজ ইনস্টল করেন তাহলে মাত্র ৪ জিবি র‍্যাম সিস্টেম ইউজ করবে আর বাকি ৪ জিবি র‍্যাম অযথায় অলস পড়ে থাকবে। সহজ ভাষায় বলতে যে ৩২বিট প্রসেসরে ৪ জিবির বেশি কোন মেমোরি (RAM) নিয়ে কাজ হবে না। আর ৬৪বিট নিয়ে যদি প্রসেসর কাজ করতে চায়, তাহলে 264 যার ফল দাঁড়ায় ১৮.৪ এক্সাবাইট যা গিগাবাইট, টেরাবাইটের চেয়েও বেশি। তো ৬৪বিট প্রসেসর একই সময়ে ১৮.৪ এক্সাবাইট RAM নিয়ে কাজ করতে পারবে। আর ৬৪বিট এত বিশাল পরিমাণ মেমোরি (RAM) নিয়ে কাজ করতে পারবে যে বর্তমানে বাজারেও এতো বড় র‍্যাম আসে নি। ১৮.৪ এক্সাবাইটকে গিগাবাইটে রুপান্তর করলে দাঁড়ায় ১৯৭৫ কোটি গিগাবাইট।

৩২বিট প্রসেসর ৪জিবির বেশি মেমোরি নিয়ে কাজ করতে পারবেনা কিন্তু ৬৪বিট প্রসেসর ৪জিবি থেকে বাজারের যত আপডেট বিশাল মেমোরির RAM আছে তা নিয়ে কাজ করতে পারবে। বর্তমানের সকল সফটওয়্যার,গেম, ভিডিও গ্রাফিক্স, এডোবির সকল গ্রাফিক্স প্রোডাক্ট বা অন্যান্য মেমোরি ডিভাইস গুলো ৬৪বিট নিয়ে কাজ করে। তারা আসলে বলেই দেয় যে ৬৪বিট অপারেটিং সিস্টেমে কাজ ভালো করবে কারণ ৬৪বিট অপারেটিং সিস্টেম মানে প্রচুর মেমোরি RAM নিয়ে কাজ করা। আসলে ৩২বিটের প্রসেসর আর অপারেটিং সিস্টেম গুলো আগের মডেলের পুরাতন ডিভাইসের জন্য। আপনার পিসির RAM যদি ৪জিবির কম হয় তাহলে আমি বলব আপনি ৩২ বিট ব্যবহার করেন। এখন আপনি বলবেন কেন ৬৪বিট ব্যবহার করতে বলছি না? আসলে আপনি ৪জিবিতেও ৬৪বিট ব্যাবহার করতে পারবেন কিন্তু এটা কোন কাজেই আসবেনা। আপনি আপনার পিসিতে ৪জিবির জন্য ৬৪বিট ব্যবহার করে সকল সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারবেন এমনকি রান করবে। কিন্তু সেগুলো খুব স্লোও হয়ে কাজ করবে। কিন্তু আপনি যদি ৬৪বিটের জন্য বানানো আসল সফটওয়্যার গুলো ব্যবহার করতে যান তাহলে তা ঠিক মত কাজ করবে না।

আবার ধরুন আপনার পিসির RAM ৪জিবির বেশি কিন্তু আপনি অপারেটিং সিস্টেম দিয়েছেন ৩২বিটের তাহলেও আপনি মন মত কাজ করতে পারবেন না। কারণ আপনার অপারেটিং পাওয়ার ৪জিবির বেশি না সে ক্ষেত্রে আপনার বাকি মেমোরি টুকু অলস হয়ে পড়ে থাকবে।

কিভাবে বুঝব আমার কম্পিউটার কত বিটের?

আপনি উইন্ডোজ কম্পিউটার ব্যহার করে থাকলে, পিসির স্ক্রিনের ডানপাশের This PC বা My computer এ রাইট বাটনে ক্লিক করে Properties এ ক্লিক করলেই উপরের চিত্রের মত দেখতে পাবেন। খেয়াল করুন এখানে 64 bit operating system মানে হল বর্তমানে আপনার উইন্ডোজ কম্পিউটারটিতে ৬৪ বিটের উইন্ডোজ ইন্সটল করা আছে। তারপরে লিখা আছে x64 based processor মানে হল আপনার কম্পিউটারের প্রসেসর ৬৪ বিট পর্যন্ত অ্যাড্রেসিং সাপোর্ট করে।

তো এই ছিলো ৩২বিট আর ৬৪বিট এর প্যাঁচ। আশাকরি আপনারা বুঝতে পেরেছেন। আর তারপরেও যদি কোন জানার থাকে বা কোন মতামত থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।